Logo
Logo
×

রাজনীতি

ভাতিজিকে নিয়ে মাঠে আনোয়ার লাপাত্তা আবদুল হাই

Icon

শুভ্র কুমুদ

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৪২ পিএম

ভাতিজিকে নিয়ে মাঠে আনোয়ার লাপাত্তা আবদুল হাই
Swapno


# আনোয়ার হোসেনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সবাই
# জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাননি হাই
# জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা ঐক্যবদ্ধ


 এই তো মাত্র কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের  ২৭টি ওয়ার্ড ঘুরে ঘুরে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায় নেমেছিলো আওয়ামী লীগের একটি অংশ। এর নেতৃত্ব দিয়েছিন জেলা আওয়ামী লীগেরই সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল (ভিপি বাদল)। সাথে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা ও সিনিয়র সহসভাপতি বাবু চন্দনশীল। কিন্তু এসবের কোন কিছুতেই মুখে কোন কথা ছিলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই। সকল অপপ্রচারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আবারো আইভীর উপরই আস্থা রেখে তাকে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরেও নিজ কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আইভীকে অভিনন্দন জানাননিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই।

 

নিজ কমিটির নেত্রীকে সামনের দিকে কীভাবে বিজয়ী করবেন সে ব্যাপারেও এখনো টু শব্দটি তিনি করেননি। এতে হতবাক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তবে আবদুল হাইয়ের দিকে না তাকিয়ে থেকে মনোনয়নপ্রাপ্তির দুইদিনের মাথাতেই ভাতিজি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও নাসিকের বর্তমান মেয়র ডা. আইভীকে নিয়ে নির্বাচনী কর্মকৌশল ঠিক করতে মাঠে নেমেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সফল চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন। গতকাল ২নং রেলগেট এলাকায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ফুল দিয়ে ভাতিজি আইভীকে অভিনন্দন জানান চাচা আনোয়ার হোসেন।  
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইভীকে শুধু ফুল দিয়ে বরণ করাই নয়, তাকে জয়ী করতে ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি রোডম্যাপও তৈরি করেছেন আনোয়ার হোসেন। আর এতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাথে সাথে যুক্ত হতে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু চন্দনশীলকে ফোন করেছিলেন বলে জানান আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার বাসনা অনেকের থাকতেই পারে। তবে মনোনয়ন পাবে একজন। যিনি মনোনয়ন পাবেন তার পক্ষেই আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা কাজ করবেন। এটিই আওয়ামী লীগের একটি ধর্ম। সেই লক্ষ্যে আজ  (সোমবার) সকালে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহাকে ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি এমনকি ব্যাকও করেননি।  এছাড়া তিনি সহসভাপতি চন্দনশীলকে ফোন করে দাওয়াত করেছেন গতকালের সভায় উপস্থিত থাকতে। তিনি থাকার কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত আর আসেননি।  

 


বোদ্ধা মহল বলছে, আইভীকে নৌকা দেয়ার আগে ও পরে আনোয়ার হোসেনের কাজকর্ম ছিল ইতিবাচক। তিনি কেন সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য সেটিও প্রমাণিত হয়েছে। সূত্র জানায়, মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ডেকে আইভীকে সাথে নিয়ে নির্বাচনী রোডম্যাপ তৈরির এই কর্মকাণ্ডকে স্বাগত জানিয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের ব্যক্তিরা। গতকালের ওই সভায়  মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবীব, জিএম আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাতসহ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এড.আসাদুজ্জামান আসাদ, আরজু রহমান ভূঁইয়া, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের অন্তত পঞ্চাশজনের বেশি নেতা উপস্থিত ছিলেন।

 


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন,  আইভীকে মনোনয়ন দেয়ার পর এখন বোঝা যাচ্ছে কারা আসলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কথাকে মেনে নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে মাঠে নামে। মহানগর আওয়ামী লীগের মূলত এই অনুষ্ঠানটি হলেও এতে অনুপুস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীরেগ উপরের দিকের অনেক পদের নেতারা। বিশেষ করে সভায় ছিলেননা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সহসভাপতি বাবু চন্দনশীল, রবিউল ইসলাম, এড, হান্নান আহমেদ দুলাল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা, জাকিরুল আলম হেলাল, আইন সম্পাদক এড. ওয়াজেদ আলী খোকন, সদস্য শাহাদাৎ হোসেন সাজনুসহ আরো বেশ কয়েকজন নেতা। তবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আইভীর পক্ষে কাজ করার আহবান জানানোয় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের ইমেজ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উপস্থিত অনেক নেতাকর্মী মন্তব্য করেন।

 


এদিকে চাচা আনোয়ার ভাতিজীকে আইভীকে মনোনয়ন পাওয়ার পর সংবর্ধনা ও অভিবাদন জানালেও একই সময়ে আরেক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হাইয়ের প্রসঙ্গও আনছেন নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, হুট করে যেন হারিয়ে গেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই।আইভীকে নৌকার মনোনয়ন দেয়ার পর এখন অবধি কোন টু শব্দটি তিনি করেননি। সৌজন্যতা হিসেবে এখনো আইভীর প্রতি অভিনন্দন শব্দটিও ছুঁড়ে দেননি। এতে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই। তার কমিটির একজন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। অথচ আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই কিংবা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন অভিনন্দন জানাননি। এটিকে দৃষ্টিকটু হিসেবেই দেখছেন অনেকে। আবার অনেকে তীর্যক মন্তব্য ছুঁড়ছেন। তারা বলছেন, জেলা আওয়ামী লীগকে যে তারা নিজেদের কুক্ষিগত করে ফেলেছে এটি তারই একটি বাজে নজির। কেননা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নৌকা দিয়েছেন। অথচ এখানে অভিনন্দন দেয়ার মতো সৌজন্যবোধটুকুর প্রয়োজন মনে করছেন না জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই। প্রশ্ন উঠেছে, আইভী কুৎসা রটিয়েছে যারা তাতে কি আবদুল হাইয়ের মৌন সমর্থন ছিল!

 


এদিকে চাচা আনোয়ার হোসেনের ডাকে সাড়া দিয়ে ভাতিজি আইভীও অতীত স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। তিনি বলেন, অনেকেই মনে করে আমি হয়ত দলকে সময় কম দেই। আমি যে চেয়ারটায় বসি সেখানে সারা দিনই আমাকে কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ২৭ টি ওয়ার্ডের কাজ করতে গিয়ে সকল ওয়ার্ডেই কোন না কোন নেতাকর্মীদের সাথে আমার কথা হচ্ছে। একটা জিনিস খেয়াল করে দেখেন ২০০৩ এ যখন আমি আসলাম আমি কিন্তু আপনাদের সাথে নিয়েই শুরু করেছিলাম। অনেকেই দেশে ছিল না বিভিন্ন পরিস্থিতির কারনে। যারা ছিল তাদের সাথে নিয়ে আমি প্রচার করেছিলাম তার মাঝে আমার কাকা আনোয়ারও ছিলেন এবং সবার সহযোগীতা নিয়ে যখন পাশ করলাম তখন মার্কা ছিল মোমবাতি। পরবর্তীতে ২০০৯ পর্যন্ত দলীয় এমন কোন কর্মকাণ্ড ছিল না যেখানে দল আমাকে ডেকেছে কিন্তু পায় নাই৷ আমি সবসময় আমার দলের পাশে ছিলাম। কর্মী বান্ধব সবসময় ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকবো। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর আমি আমার পৌরসভার সামনে থেকে বিশাল মিছিল বের করেছি, আনোয়ার কাকাও সাথে ছিল। ওয়ান ইলিভেনের সময় এমন কোন কর্মসূচি ছিল না যেখানে আমি আমার নেত্রীর জন্য কাজ করিনি। কেউ যদি বলেন করিনি তাহলে আমার প্রতি অন্যায় অবিচার করা হবে। অনেকে বলে আইভী এ্যাক্টিভ না, রাস্তায় নামে না। আমি জানি না আর কতটুকু কাজ করলে একটা দলের জন্য এরকম এ্যাক্টিভ হওয়া যায় আমার জানা নাই। আমার যেমন বাবা আপাদমস্তক একজন আওয়ামী লীগার ছিল আমিও সেখানে ছিলাম। আমি দলের বিরুদ্ধে বা নেত্রীবৃন্দের বিরুদ্ধে কোন কর্মকাণ্ড করেছি আমার জানা নাই।  

 

মেয়র বলেন, আমি দলের নিবেদিত প্রাণ কর্মী। এটা পরীক্ষা দেয়ার কোন কারন নেই। কারন দুঃসময়ে বোঝা যায় কে দলে থাকে কে থাকে না। এখন এমন কোন জায়গা নাই যেখানে আওয়ামী লীগের লোকজন নাই। কিন্তু আমি দুসময়ে এই আনোয়ার কাকার সাথে অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে কাজ করেছি। আমি সবসময় আপনাদের সাথে আছি, থাকবো। আলী আহমদ চুনকা যেভাবে দলকে ভালবাসত সেভাবে আপনাদের সাথে কাজ করতে চাই। আমি হয়ত আমার বাবার মত হতে পারিনি, কারণ অনেক কাজ করতে হয়। আজকে যদি নারায়ণগঞ্জের বড় বড় প্রজেক্ট না হত আপনারা বলতেন মেয়র কিছু করেনি। গত এক দেড় বছর যে প্রপাগান্ডা আমার বিরুদ্ধে চালানো হল মসজিদ-মন্দির নিয়ে। আমি একদম নিশ্চুপ ছিলাম। কখনও দলীয় ফোরামে বা নেত্রীর কাছে কারও বিরুদ্ধে কোন কথা বলিনি।  তিনি বলেন, ২০০৩ এ যখন কেউ নেই তখন আপনারা আমার নির্বাচন করেছেন, ২০১১ তে যখন আমাদের দলের সমর্থন দিতে কষ্ট হল তখন আনোয়ার কাকাসহ আপনারা প্রত্যেকেই পদ পদবীর কথা চিন্তা করেন নি। আমাদের কত ভয় দেখিয়েছে যে পদ চলে যাবে। আনোয়ার কাকা সভাপতি থাকতে পারবেন না। আমি বলেছি ধৈর্য্য ধরুন, কিছু হবে না।


আনোয়ার হোসেন নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তিনি আরও বলেন, ‘আজ প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়ে আমরা মাঠে নামবো। মাঠে নামার আগে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করবো। ইতিমধ্যে অনেকটা কাজ এগিয়ে এনেছি। আমাদের বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটি নেই আর ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটিও আমরা করতে পারিনি। তাই ওয়ার্ড ভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির জন্য তালিকা চাওয়া হয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের অনেকেই কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করবেন। কাউন্সিলর পদে দল কাউকে মনোনয়ন দিবে না। হয়তোবা ভবিষ্যতে আমরা একত্রে বসে সমর্থন দিতে পারি। যতদিন তা না হচ্ছে ততোদিন নেতৃবৃন্দ ব্যক্তিগতভাবে একেকজন সমর্থন দিবেন। এ অবস্থায় নির্বাচন পার করতে হবে। কেউ বলতে পারবেন না আমি আওয়ামী লীগের অমুক, আমাকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করেন। কাউন্সিলর নির্বাচন নিজেদের করতে হবে। আমি মাঠের কর্মী তাই চাইবো মাঠের কর্মীদের সমর্থন করতে।’
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন