# সাখাওয়াত-কামালের মতো আরো প্রার্থী দেখার অপেক্ষা
#এটিএম কামাল নির্বাচনকে টার্গেট করেই দেশে ফিরেছেন
খেলা শেষ হয়েও হয়নি শেষ। এখনো বাকি আছে চূড়ান্ত খেলা। যা আগামী ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জ সিটিতে। এ খেলায় হারজিত যা-ই হোক তবে আইভীকে ঠেকাতে সুক্ষভাবেই চালানো হচ্ছে গুটির চাল। আইভীর সাথে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন তারা নির্বাচনের মাঠে নিজেদের অবস্থান তৈরী করবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে আশংকা ভিন্ন জায়গায়। এবার আইভীর বিরুদ্ধে নিজ দলের একটি অংশ গোপনে কাজ করবেন। আর ঐ কাজে দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করতেই তারা পর্দার অন্তরালে থেকে খেলে যাবেন খেলা। এমন আশংকা বিশিষ্ট জনদের। তবে খেলা যা-যাই হোক আইভী তাঁর কাজের মাধ্যমে জনগণের মনে যে জায়গা করে নিয়েছেন,তাই তাঁর বিরুদ্ধে খেলে কেউ কোনো ফায়দা হাসিল করতে পারবেনা বলেও মনে করছেন অনেকে।
অংকের খেলা খেলতে খেলতে অনেকের রাত জেগে ভোর হয়। ভোর বেলা অংক মিলে গেলেও তার ফলাফল হয় শূন্য। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নিয়ে ত্রিমূখী অংকের খেলা আজকে নতুন নয়। আর জটিল অংক কষা হয় একমাত্র আইভীর বেলায়ই। আইভীকে ঠেকাতে গিয়ে দলের যে বদনাম হয় এটা অনেকেই ভুলে যান সিটি নির্বাচনের আগে। তা অন্য কোনো দলের নয়,খোদ নিজ দলের একটি অংশ এই খেলায় মেতে উঠেন। লক্ষ্য সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারটি আইভীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া। একবার নয় বারবার করা হয়েছে নীল নকশা। এবারের অংকও এমনভাবে করা হয়েছিলো যাতে ফলাফল তাদের ঘরে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা যে সূত্র আইভীর বেলায় প্রয়োগ করেছিলো তা যে ভুল ছিল তারা কয়েকদিন আগে তা বুঝতে পেরেছেন। এবার আইভী বিরোধী শক্তি বিরোধী দলের কয়েকজন নেতার কাঁধে ভর করেছেন। যদিও আইভীকে ঠেকাতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খাবেন। তারপরেও এবার নতুন অংক নিয়ে মাঠের বাইরে থেকে খেলতে চাইছেন একটি পক্ষ।
আইভী নৌকা প্রতীক পাওয়ার আগে যে অংক কষা হয়েছিল তাতে একটি পক্ষ মনে করেছিল তাদের অংক মিলে গেলে আইভীকে কোনঠাসা করে রাখা যাবে। কিন্তু তাদের অংকের ভুল সূত্রের কারনে আইভী ঠিকই নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। জনগনের আশা আকাঙ্খার জায়গাটি ঠিক রেখেছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। প্রতীক পাওয়ার পর আইভী বিরোধী শিবির অনেকটা চুপসে গিয়েছেন। তবে তাদের এ চুপ থাকাকে ভালো চোখে দেখছেন না বিশ্লেষক মহল।
গেল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি থেকে সাখাওয়াত হোসেন খান মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এবার বিএনপি দেশের কোনো ইউপি নির্বাচনে তাদের দলীয় কোনো প্রার্থী দেননি। বিএনপি দলীয় কোনো নেতা ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে লড়াইও করেনি। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বেলায় ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। সিটি নির্বাচনে মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। তাদের ভাষ্য তাঁরা স্বতন্ত্র থেকে হলেও নির্বাচন করবেন। নির্বাচন যে কেউ করতে পারেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা নির্বাচন করার যে ঘোষণা দিয়েছেন, এতে বিএনপির তৃনমূল নেতাকর্মীরা কিছুটা আনন্দিত হলেও জেলার প্রভাবশালী বিএনপি নেতারা ভালো চোখে দেখছে না। অপরদিকে, সাখাওয়াত ও কামাল দলের গ্রিণ সিগন্যাল পেয়ে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন বলেও মনে করেছেন একাধিক সূত্র। তবে তাদের মনোনয়ন সংগ্রহের ব্যাপারে আইভী বিরোধী শক্তির ইদ্ধন রয়েছে বলেও একটি কথা শহরময় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত যে অংক আইভী বিরোধী শক্তি কষছেন তা আলোর মুখ কতোখানি দেখবে তা নিয়েও রয়েছে ব্যাপক আলোচনা। আইভী তাঁর কাজের মাধ্যমে ইতিমধ্যে জনগণের মনে যে জায়গা করে নিয়েছেন, ভোট যুদ্ধে আইভীর সাথে অন্য কোনো প্রার্থী কতটুকু কূলিয়ে উঠতে পারে তা এখন দেখার বিষয়।
সাখাওয়াত ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী হয়েছিলেন। তাই এবারও তিনি বিএনপির প্রার্থী হবেন এমনটাই অনুমেয় ছিল। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে না আসার ঘোষণায় নিশ্চুপ ছিলেন সাখাওয়াত। তবে হঠাৎ দলের কোন এক ঈশারায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বলে ধারণা বিএনপি সমর্থকদের।
এদিকে এটিএম কামাল প্রার্থী হওয়ায় বিএনপিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মহানগর বিএনপির নেতারা বলছেন, নির্বাচনকে টার্গেট করেই তিনি দুইবছর পর দেশে ফিরেছেন। তিনি মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হলেও তার কাছে এখনও দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টু। মূলত যে কোন নির্বাচন এলেই সরব হন এটিএম কামাল। এব্যাপারে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টু যুগের চিন্তাকে জানান, এটিএম কামাল দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকেই অনুপুস্থিত ছিলেন। হুট করে দেশে ফিরে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াটাকে দলের নেতাকর্মীরা ভালো চোখে দেখছেননা। তারা ভাবছেন তিনি কারো এজেন্ডা পূরণ করছেন। দল যেহুতু নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলছে, তিনি কী করে এমন হটকারী সিদ্ধান্তে যেতে পারেন,এমনিতেই তিনি দলের রাজনীতি থেকেও অনুপুস্থিত।


