তৃণমূলের গলার কাঁটা কামাল-সাখাওয়াত
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:১৩ পিএম
# তারা নিজেরা নিজেরাই প্রচার প্রচারনা করুক : মন্তু
#দলীয়ভাবে তাদের এই নির্বাচনে সাহায্য করতে পারবোনা: রনি
# অংশগ্রহণ না করাটাই উত্তম ছিলো : রুহুল আমিন
#এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি : এড. তৈমূর আলম খন্দকার
# বিএনপির হয়ে কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেনি : আবদুস সবুর সেন্টু
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। মূলত এই নির্বাচনের মাধ্যমে নগরবাসী আগামী পাঁচ বছরের জন্য পাবেন তাদের নতুন সিটি মেয়র। তাই এর আগে মেয়র হিসেবে নির্বাচন করতে যেসব প্রকৃয়ার মধ্যদিয়ে যেতে হয়, এখন সেটিই করছেন স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতীক দলের মেয়র প্রার্থীরা। তবে এই যাত্রা করো জন্য মসৃণ হচ্ছে আবার কারো কারো জন্য হচ্ছে খুবই সংকৃর্ণ।
জানা গেছে, নাসিকের বর্তমান মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী এই নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন কেনার পর, তার দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তাকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার অনুমতি দিয়েছে। তাই স্থানীয় আওয়ামীলীগের একটি বড় অংশ তার পক্ষ্যে এখন থেকে কাজ করবে। আইভীর পর ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মাসুম বিল্লাহও তার দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কাছে মেয়র নির্বাচন করার জন্য অনুমতি চেয়ে, সেটা পেয়েছেন। সূত্র বলছে, তিনি এখন তার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে হাতপাখা মার্কার প্রচার প্রচারনা নিয়ে ব্যস্ত। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী আরেক মেয়র প্রার্থী বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির যুগ্ম-সম্পাদক রাশেদ ফেরদৌস সোহেলও এই যাত্রায় বেশ ভালো ভাবেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।
অথচ আটকে আছে শুধু বিএনপির দুই নেতা। জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর জেলা নির্বাচন কমিশনের অফিস থেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল এবং সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছেন। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিএনপির শীর্ষ নেতারা যেহেতু সব ধরনের নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই কামাল এবং সাখাওয়াত এই নির্বাচনে স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমর্থন পাবে কিনা সেই প্রশ্নটা এখন সবচেয়ে বড়। আর তারা যদি তৃণমূলে নেতাকর্মীদের সমর্থনই না পায় তাহলে এই নির্বাচনে তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই অংশগ্রহন করে কি লাভ?
এদিকে এটিএম কামাল এবং সাখাওয়াত হোসেনের নাসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে যুগের চিন্তার সাথে কথা বলেছেন, স্থানীয় বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএপির আহবায়ক কমিটির সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, আসলে আমাদের নারায়ণগঞ্জে যে দুজন বিএনপির নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন এটা আমরা জানি। কেন্দ্রেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাই সিদ্ধান্ত এলে আমি এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের নেতাদের বিষয়টি জানাবো। এর বেশি এখন আর বলা যাবেনা।
মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টু যুগের চিন্তাকে বলেন, বিএনপির হয়ে কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেনি, তাই দায় বিএনপির নেতাকর্মীদের নয়। উৎসুক হয়ে যারা মনোনয়নপত্র কিনেছেন প্রচার-প্রচারণার দায়ও তাদের। কেন্দ্র আমাদের কোন নির্দেশনা দেয়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তবান আহবায়ক কমিটির সদস্য রুহুল আমিন বলেন, আসলে এখন নির্বাচন ব্যবস্থা ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করলে দেখা যাবে আমাদের পক্ষে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করাটাই উত্তম ছিলো। তারপরও তারা যেহেতু স্বতন্ত্রভাবে এটা করতে চাইছে, করুক। এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু আমি দলীয় সিদ্ধান্তের সাথেই একমত।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক মমতাজউদ্দিন মন্তু বলেন, আমি মনেকরি তারা দুজন দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। কারণ আমাদের তো এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহন করার কথা না। তারপরও তা যেহেতু করেছে এটা তাদের ব্যাপার। তাই এখানে আমরা তৃণমুলের কেউ তাদের সঙ্গ দিতে পারবো না। তারা নিজেরা নিজেরাই প্রচার প্রচারনা করুক।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম বলেন, আসলে এ বিষয়ে আমি কি বলবো? তারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবে শুনেছি। দেখি কি হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি বলেন, আমি দলীয়ভাবে তাদের এই নির্বাচনে সাহায্য করতে পারবোনা। এটার প্রশ্নই উঠেনা। কারণ আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত হচ্ছে যে, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে আমরা কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবোনা।


