কামাল-সাখাওয়াতকে জাতীয় ইস্যু বানাবে আ’লীগ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:১৯ পিএম
# বিএনপি এখন পর্যন্তও সিদ্ধান্ত নেয় নাই: তৈমূর
# নির্বাচনও চলবে এবং নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনও চলবে: সেন্টু
# এই নির্বাচনকে জাতীয় ইস্যু বানাবে আওয়ামীমী লীগ: সজল
# ছাত্রদল কাজ করার প্রশ্নেই আসে না: সাহেদ
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুশয্যায়। তাকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার দাবি অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোও তারা বয়কট করেছে। কিন্তু এমন অবস্থাতেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির কিছু নেতা দলীয় সিদ্ধান্তেই বাইরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার আন্দোলন বাদ দিয়ে নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিএনপির একটি অংশ বলছে, বিএনপির এই প্রার্থীদের নিয়েই জাতীয় রাজনীতি হবে। কেননা, তারা বলবে, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার থেকেও নির্বাচনে লড়াটা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আসলে সেসব নেতার কারণে সামনে বেকায়দায় পড়বে দল।
সূত্র বলছে, আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে লড়াই কারার মধ্যে কোনো হেভিওয়েট প্রার্থী নাই। ২০১১ সালের প্রথম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রভাবশালী বর্তমান সাংসদ একেএম শামীম ওসমানকে বিশাল ভোটের ব্যবধালে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন মেয়র আইভী। এরপর ২০১৬ সালেও প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে বিএনপির দলীয় প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকেও তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়। কিন্তু আসন্ন সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে। তবে আওয়ামীলীগ চায় বিএনপির নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করুক। তাহলে আসন্ন নাসিক নির্বাচনে জমজমাট একটা ভোটের লড়াই হবে। আর দলীয়ভাবে বিএনপি অংশ না নিলেও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বিতা করবে বলে বিএনপির দুই নেতা গত নির্বাচনে বিএনপির টিকেটে প্রার্থী হওয়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ- সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল। তারা ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহও করেছেন। আসন্ন নাসিক নির্বাচনে বিএনপির এই দুইনেতা কালাম- সাখাওয়াতকেই জাতীয় ইস্যু বানাবে আওয়ামীলীগ।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির দলীয় ভাবে অংশ নিবে কিনা তা এখন শঙ্কার মধ্যেই রয়েছে। তবে দলীয়ভাবে বিএনপি অংশ না নিলেও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বিতা করবে বিএনপির দুই নেতা গত নির্বাচনে বিএনপির টিকেটে প্রার্থী হওয়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ- সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল। তবে তাদের মধ্যে কেউকেই সরাসরি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি সমর্থন এখনও করেনি। তবে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপির হাইকমান্ডের কোনো আপত্তি নেই- দলের পক্ষ থেকে এ সবুজ সংকেত পেয়েই গত নির্বাচনে বিএনপির টিকেটে বিএনপির প্রার্থী হওয়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ- সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল। নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান জানাবেন।
এদিকে গত রোববার এড. সাখাওয়াত হোসেন খান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা আছে। যদি মানুষ রায় দিতে পারে, তবে নারায়ণগঞ্জবাসী তাদের রায় আমার পক্ষে দেবে।
অপরদিকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে এটিএম কামাল বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না গেলে আমি স্বতন্ত্র নির্বাচন করব। দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা শেষ করে দিয়েছে এই সরকার। তবুও নির্বাচনকে টেস্ট কেস হিসেবে নিচ্ছি। যদি মানুষ তাদের রায় দিতে পারেন, তবে পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দেবে।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্ট এড. তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, কেউ যদি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে এটি তার ব্যক্তিগত ইচ্ছে। কিন্ত বিএনপি এখন পর্যন্তও সিদ্ধান্ত নেয় নাই। তবে কঠিনভাবে আলোচনা চলছে। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে যা সিদ্ধান্ত হবে তার পরে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবো। তিনি আরও বলেন, ইলেকশন যে ম্যাগানিজম বা সিদ্ধান্ত এটা তো চলমান প্রতিক্রিয়া। কখন কি সিদ্ধান্ত হয় তা বলা যায় না। তবে দল যে সিদ্ধান্ত দিবে সেটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আমার সাথে প্রতিদিনই দলীয় হাইকমান্ডের সাথে কথাবার্তা হচ্ছে এবং তারাও আমার সাথে যোগাযোগ করছে। আর কেউ যদি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে তাহলে তাকে আপনারা সমর্থন করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটিও দলীয় সিদ্ধান্ত উপর নির্ভর করছে। আর তারেক রহমানের অনুমতি ছাড়া কিছু বলতে পারবো না।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু বলেন, এটিএম কামাল আমাদের সাথে আলাপ আলোচনা করেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তবে সাখাওয়াত হোসেনের আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি। যদি দল দলীয় ভাবে অংশ না নেয় আর কেউ প্রার্থী হতে চাইলে সমস্যা নাই তাহলে এটিএম কামাল প্রার্থী হবে আর আমি তাকে পূর্ণ সমর্থন দিবো। কারন আমি তাকে কথা দিয়েছি। দল নির্বাচনে যাবে না এটিএম কামাল নির্বাচন করবে আপনাদের নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন কি করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনও চলবে এবং নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনও চলবে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, আমরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবো না। যারা নির্বাচন করবে তারা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে নির্বাচন করবে দলীয় ভাবে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যু শয্যা । তার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে দলের নেতাকর্মীরা আন্দোলন মুখি । আমরা মহানগর যুবদল নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নয়। আর দলীয় ভাবে সিদ্ধান্ত না আসলে কোন ব্যক্তির নির্বাচন মহানগর যুবদল কববে না। এছাড়া এই প্রার্থীতা নিয়ে জাতীয় রাজনীতি হবে। তারা বলবে, বিএনপির চেয়ারপারসনের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সাহেদ আহমেদ বলেন, দল যদি আঞ্চলিক রাজনীতির কারনে নাসিক নির্বাচনে যেতো তাহলে দেশনেত্রী বেগম খালেদার মুক্তির আন্দোলন আরও বেগমান হতো । দল যদি এমন সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে ভালো হতো। আর দল যদি দলীয়ভাবে নির্বাচনে না যায় তাহলে আমরা কেউ ভোট কেন্দ্রেই যাবো না এবং ভোটও দিবো না। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। আর দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে তার পক্ষে মহানগর ছাত্রদল কাজ করবে তার প্রশ্নেই আসে না।


