‘আমি চাইনা প্রতিমন্ত্রীর অবস্থার মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটুক’
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:২৬ পিএম
#নৌকাকে দাবিয়ে রেখে লাঙ্গলকে জিতানো হয়েছে
#নৌকার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক চাইনা
# জীবনের শেষ মুহূর্ত্ব পর্যন্ত নিবেদিন থাকবো
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও নাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, আমি আপনাদের সাথে সব সময় চেষ্টা করেছি মিলেমিশে থাকতে, তাদের সাথে কাজ করার জন্য। এবং যখনই নেত্রী আমাকে নৌকা দিয়েছে, গতবারও আপনারা আমার জন্য ছুটে এসেছেন এবারও আপনারা আমাকে সমর্থন দিচ্ছেন। পক্ষান্তরে আপনার নেত্রী কথা মেনে নিয়ে আমার জন্য কাজ করছেন অর্থাৎ নেত্রীকে আপনারা সমর্থন দিচ্ছেন। যারা এই সুযোগটি নিলেন না, আমি মনে করি তারা দলের প্রতি নেত্রীর প্রতি আস্থা রাখলেন না। আমরা ভবিষ্যতে আমাদের দল যাকেই মনোনীত করবে আমরা তার পাশেই থাকব ইনশাআল্লাহ। গতকাল শহরের ২নং রেলগেটে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইভী।
মেয়র আইভী বলেন, আমাদের সভাপতি হাই কাকা কথা বলতে গিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছেন। কেন? কারণ ছোট ভাই বাবু যখন তার সকল চেয়ারম্যানকে দাড়ঁ করিয়ে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। সে গর্বের সহিত বলছে যে, আমি আমার এমপি ইলেকশনে চেয়ারম্যানদের এখানে নিয়ে এসেছি, নৌকায় পাশ করেছে। সেখানে হাই সাহেব বলতে পারলেন না এতোগুলি ইউনিয়নে আমার নৌকা পাশ করেছে, বরংচ নৌকাকে দাবিয়ে রেখে লাঙ্গলকে জিতানো হয়েছে। এর থেকে বড় কষ্ট হতে পারে না। জেলা আওয়ামী লীগের পদ পদধারী, আওয়ামী লীগের নমিনেশনে সংসদ সদস্য হয়েও তারা কি করছে? লাঙ্গলকে নারায়ণগঞ্জ পাস করাচ্ছে। মধ্যরাতে নাটকীয়ভাবে আওয়ামী লীগের ক্যান্ডিডেটকে পরাজিত করে সেখানে লাঙ্গলকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক ব্যাপার আমাদের জন্য। আমরা নারায়ণগঞ্জে এগুলো আর চাইনা। আপনারা জানেন অতীতেও নাজমা রহমানের ভোট ছিনতাই করা হয়েছে। নৌকার ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা হয়েছে। আমরা এর পুনরাবৃত্তি চাইনা।
নৌকাকে হারানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে আইভী বলেন, আমি পুরনো কথা জানতাম না কিন্তু আজকে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে যেই নৌকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার হাতে তুলে দিয়েছেন সেই নৌকা নিয়েও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। দাঙ্গা হামলার কথা বলা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জকে অস্থির করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে। কে হেফাজত থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলের প্রার্থীকে কিভাবে নির্বাচনে বানচাল করা যায়। ইনশাআল্লাহ জয় কেউ ঠেকাতে পারবেনা। আওয়ামীলীগকে অস্থির করার জন্য নারায়ণগঞ্জে এগুলো করা হচ্ছে। আমি অবশ্যই তাদেরকে বলব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা একবার চিন্তা করে দেখুন। উনি যেই প্রার্থী চেয়েছে তার বিরোধিতা করবেন? নাকি নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখার চিন্তা করবেন? সেটা সময় এসেছে চিন্তা করার জন্য। আমি আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই যে, বেশি বাড়াবাড়ি কোন কিছুই ভালো না। আপনারা রিসেন্টলি (সম্প্রতি) দেখেছেন আমাদের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর অবস্থা কি হয়েছে। আমি চাইনা এরকম কোন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটুক। দলের প্রতি সবসময় আস্থাশীল ছিলাম, থাকবো।
আইভী বলেন, বহু চেষ্টা করেছেন জামায়াত বিএনপির বানানোর জন্য। দলীয় ক্যাসেট বের করেছেন আলী আহমদ চুনকাকে নিয়া। কিন্তু দেখেন আমরা যে দল করি সেই দলের জন্য একদম নিবেদিতপ্রাণ। আমার বাবা জীবনের শেষ মুহূর্ত্ব পর্যন্ত এই দলের প্রতি নিবেদিত ছিল। আমাকে যেন আল্লাহ এই জয় বাংলা বলে যেতে মৃত্যুবরণ হয়। আমি যেন অন্য কোথাও না নিয়ে যাই।
আইভী বলেন, সবার অবশ্যই আমি আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই। আমাদের এমপি গাজী সাহেবের সাথে কথা হয়েছে। জেলার প্রত্যেকের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি। এবং আমি জানি আমি আপনি কথা বলি বা না বলি আপনারা আসবেন, সহযোগিতা করবেন এবং নৌকাকে আপনারা জিতিয়ে আনবেন।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে আইভী বলেন, আবারো বলছি আওয়ামীলীগ একটি অনেক বড় তো এখানে আমাদের মধ্যে মনোমালিন্য থাকতে পারে, প্রতিযোগিতা থাকতে পারে কিন্তু একটাই আমাদের ঠিকানা। আমাদের শেষ ঠিকানা হলো বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের শেষ ঠিকানা যেন আমরা না হারিয়ে ফেলি। একসাথে আমরা নৌকার পালে ওঠে নৌকার গান গাই, নৌকাকে জিতিয়ে আনি। আমি আহ্বান জানাচ্ছি সকলকে একসাথে আসার জন্য। আমরা ১৫ তারিখে ইনশাআল্লাহ আমাদের নমিনেশন জমা দিবো। তারপর আমরা আচরণবিধি মেনে আমরা আমাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাব। একদম ১৬ তারিখ পর্যন্ত।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, সাবেক সংরক্ষিত আসনের সাংসদ হোসনে আরা বাবলী, তারারো পৌরসভার মেয়র হাসিনা গাজী, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল কাদির, এড.আসাদুজ্জামান আসাদ, আরজু রহমান ভূঁইয়া, আদিনাথ বসু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নূর হোসেন, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. নিজাম আলী, বন ও পরিবেশ সম্পাদক রানু খন্দকার, মহিলা সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা, প্রবীণ সদস্য মো. শহীদুল্লাহ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, মহানগর যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


