# জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি আসনে নৌকার প্রার্থী দাবি
# আওয়ামী লীগ কারো ছায়াতলে এসে নির্বাচন করে না
# জানতাম যে সেলিনা হায়াৎ আইভী নৌকা পাবেন
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর নির্বাচনে মেয়র পদে হ্যাট্রিকের পথে ধীরে ধীরে আইভীর পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ত্যাগী, কট্টর এবং প্রথম সারির নেতৃবৃন্দ।
আর এবার অনেকটা প্রত্যাশিতভাবেই আইভীকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তার পাশে দাঁড়ালেন সদ্য অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও নৌকা প্রতীকের পক্ষে সরাসরি ভূমিকা রাখা এবং আওয়ামী লীগের যেসব নেতৃবৃন্দ দলের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে কট্টর সমালোচনা করা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই।
আর সে সময় আওয়ামী লীগের উপর একটি পরিবারের চাপসহ জাতীয় পার্টির কঠোর সমালোচনা করে বলেছিলেন আওয়ামী লীগের ছায়াতলে এসে আজ তারা আওয়ামী লীগের উপরই রাজত্ব করার চেষ্টা করছে। তিনি তাদের হুশিয়ার করে দিয়ে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির ছায়াতলে এসে নির্বাচন করে না, বরং জাতীয় পার্টিই আওয়ামী লীগের ছায়াতলে এসে নির্বাচন করে। তাই তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসন থেকেই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর দাবি জানান।
সেই একই দাবি জানিয়েছেন তিনি নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের কান্ডারী ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর সমর্থন প্রদান সভায়। এ সময় তিনি আইভী যে নৌকার প্রতীক পাবেন, আওয়ামী লীগের প্রর্থী হবেন তা আগে থেকেই জানতেন বলে উচ্ছসিতও হন। এর আগের দিন আইভীর পাশে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। তাই এখন মেয়র আইভী তার হ্যাট্রিকের পথে আরেক ধাপ এগিয়েছেন বলে জানান আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ। এখন তারা যে কোন অপশক্তির সাথে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত আছেন বলেও জানান তারা। তাদের ধারণা সেলিনা হায়াত আইভীর পাশে এখন আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মীরা আছেন, তারা যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন তাহলে আইভীর হ্যাট্রিক হওয়ার পথে আর কোন অপশক্তিই কাজ করবে না।
গতকাল বুধবারের সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু, তারাবো পৌরসভার মেয়র এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) এর সহধর্মিনী হাসিনা গাজী, আড়াইহাজার পৌরসভার মেয়র সুন্দর আলী, সাবেক মহিলা সাংসদ হোসনে আরা বাবলীসহ আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতৃবৃন্দ। তারা একবাক্যে নাসিকের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন তার পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। আর তাই এখন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মাঝে আইভীকে যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে হ্যাট্রিক করার স্পৃহা দ্বিগুন হয়ে গেছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের আইভী প্রেমিক সমর্থকরা। এরই মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেছেন, নেত্রীর একান্ত ইচ্ছার কারণে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম ঘোষণা করা হয়। এটা পরিকল্পিত মনোনয়ন।
অনেকেই চেষ্টা করেছিলেন এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যায় কিনা। আমরা আগে থেকেই জানতাম যে সেলিনা হায়াৎ আইভী নৌকা পাবেন। শুধু তাই নয়, আবদুল হাই আরো বলেছেন, আমরা শুধু সিটি করপোরেশনে নয়, আগামী জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই আমরা নৌকা চাই। আর সে ম্যাসেজটি তিনি সেখানে উপস্থিত সাংসদ ও মেয়রদের মাধ্যমে নেত্রীর কাছে পৌছাতে চান বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন এই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের জন্ম। এই নারায়ণগঞ্জে আমরা নৌকার ৫টা এমপি চাই। লাঙলের ভার আমরা আর নিতে পারি না।
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের তৃণমূলসহ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আইভীকে এবারের নির্বাচনে যদিও একটা পক্ষ ঘায়েল করার জন্য প্রথম থেকেই বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু তারা কোন থৈ পাবে না। এবারও বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে ডা. সেলিনা হায়াত আইভী তার মেয়র পদের হ্যাট্রিক করবেন। আর তার পাশে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ স্বেচ্ছায় উপস্থিত হয়ে তাকে নিরংকুশ সমর্থন জানানো এবং তাদের উচ্ছসিত মনোভাব সেই হ্যাট্রিক হওয়ারই পূর্বাভাস।


