খালেদার জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তারা দেখছেন নির্বাচন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:২৬ পিএম
# সমালোচনার তীরে বিদ্ধ তৈমুর, সাখাওয়াত ও কামাল
# দলের সিদ্ধান্তে সকলের অনুগত থাকা জরুরী : দিপু ভূইয়া
# দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া কারও জন্যই উচিৎ নয় : মামুন মাহমুদ
# দলের চিন্তার সাথে তাদের চিন্তার পার্থক্য রয়েছে : রাজিব
জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন দীর্ঘ দিন ধরে। তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের দাবিতে আন্দোলনে নামে বিএনপি এবং সহযোগি সংগঠনগুলো। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই আন্দোলনের নির্দেশনা এখনো বহাল। তবে, দলীয় নেত্রী হাসপাতালের বেডে থাকলেও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির তিন নেতা রয়েছেন নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিলের মিশনে। তারা হলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সাখওয়াত হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। এই তিনজনই মনোনিবেশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের চেয়ারের দিকে। এর মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন এবং এটিএম কামাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন।
অন্যদিকে, এ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার মনোনয়ন পত্র ক্রয়ের জন্য আনুসাঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে যাচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল বেলা ১২টার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসের কার্যালয়ে আসেন তৈমুর। বেশ কিছু সময় সেখানে অবস্থানের পর তিনি নির্বাচন অফিস থেকে বেড়িয়ে যান।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে তৈমুর আলম বলেন, ‘আমি এখনো মনোনয়ন ফরম ক্রয় করিনি। তবে, সেখানে গিয়েছিলাম ফরম ক্রয় করতে হলে কি কি প্রয়োজন তা জানার জন্য। আমি আমার দলের হাই কমান্ডের সাথে আলোচনা করবো। তিনি যদি আমাকে নির্বাচন করার জন্য বলেন, তাহলে অবশ্যই আমি নির্বাচনে অংশ নেব। আমি হাই কমান্ডের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।’
এদিকে, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধিনে সিটি করপোরেশন সহ স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে বিএনপি দলীয় ভাবে অংশ নিচ্ছে না বলে আগে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এরপরও দলের দায়িত্বশীল নেতাদের নির্বাচনে যাওয়ার প্রবণতা সমালোচনার সৃষ্টি করছে।
কর্মী সমর্থকরা বলছেন, দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া যখন হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন, তখন কেন্দ্রের নির্দেশনা না থাকা সত্বেও বিএনপির ওই নেতারা মনোনিবেশ করেছেন নির্বাচনের দিকে।
জানা গেছে, আগামী ১৬ই জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সাখাওয়াত হোসেন ও এটিএম কামাল আরো আগে থেকেই নির্বাচনি মাঠে ছিলেন। এবার তৈমুর আলম খন্দকারও যোগ দিতে চাচ্ছেন সেই স্বতন্ত্রদের দলে।
এই বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু দৈনিক যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘বিএনপি দলীয় ভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, এটা দলের পরিস্কার নির্দেশনা। তারপরও যেহেতু তারা স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে চাইছেন, সেহেতু এটা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এর সাথে দলের সম্পর্ক নেই। তবে, দলের সিদ্ধান্তের উপর অনুগত থাকা সকল দায়িত্বশীলদের জন্যই জরুরী।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ বলেন, ‘তৈমুর আলম খন্দকার প্রার্থী হয়েছেন কিনা, তা আমার জানা নেই। আমার জানা মতে দুইজন বিএনপির নেতা স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়েছেন, যারা মহানগর বিএনপির নেতা। আসলে এই নির্বাচন কমিশনের অধিনে যেহেতু নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না, সেহেতু দলীয় সিদ্ধান্ত হচ্ছে এই কমিশনের অধিনে কোন নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও একই কথা প্রযোজ্য। এক্ষেত্রে দলের নেতা হিসেবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া কারও জন্যই উচিৎ নয়। আমি মনে করি, যারা মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন, তারা অপেক্ষা করবেন দলের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মাশুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, ‘বিএনপি দলীয় ভাবে নির্বাচনে আসছেন না, এটা পরিস্কার। এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, এই সরকারের অধিনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। কিন্তু দলের দায়িত্বশীল নেতা হয়েও তারা সেই ম্যাসেজকে উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, দলের চিন্তার সাথে তাদের চিন্তার পার্থক্য রয়েছে। এটা অবশ্যই সমালোচনার কারণ।’
রাজিব আরো বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জীবন সংকটে রয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সাধারন কর্মীসমর্থকরা এখন আন্দোলনমুখি। দায়িত্বশীল নেতাদেরও সেদিকে প্রাধান্য দেয়ার কথা। কিন্তু তারা দলীয় ইস্যুকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থের জন্য নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন। এটা দৃষ্টিকটু। তারা যেহেতু দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন, সেহেতু তারা দলের পদবী কেন ব্যবহার করবেন। তাদের উচিত দল থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নেয়া।’
রাজিব আরো বলেন, ‘এই সময়ে উচিৎ ছিলো ব্যক্তিগত চিন্তা না করে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন মুখি হওয়া। আন্দোলন হয়েছে ঠিক, তবে তা জোড়ালো হয়নি। জোড়ালো আন্দোলন করতে না পারার কারণ হলো আমরা ঐক্যবদ্ধ নই। সিটি নির্বাচনে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থীই এর জ্বলন্ত উদাহরন। বিএনপির পদে থেকে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাদের ঘিরে বিএনপি অঙ্গণেই তিনটি বলয় সৃষ্টি হবে। এতে দলের ঐক্যে আরো বড় ফাটল ধরবে। যা আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামকে আরো দূর্বল করে তুলতে পারে। তারা মানুষের আস্থা হারাবে, দলের কর্মীদেরও আস্থা হারাবে।’


