Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপি নেতাদের স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র খেলা

Icon

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৩২ পিএম

বিএনপি নেতাদের স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র খেলা
Swapno



# ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি
# দল না চাইলেও এবার সেই পথই অনুসরণ করছে বিএনপি নেতারা
# দল-তৃণমূল-নেতা সবাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে অনুমান রাজিবের
# স্বতন্ত্র আরো হলেও শেষ পর্যন্ত হাইকমান্ড একজনকে বেঁছে নেবে দাবি টিপু’র


কেন্দ্রীয় বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে না আসার কথায় অটল আছে এখনো। ইউপি নির্বাচন কিংবা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও  তাদের অটুট অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে  বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের হিড়িক পড়েছে। যেসকল নেতারা স্বতন্ত্র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তারা সকলেই বর্তমানে জেলা ও মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন। যদিও বিএনপির একটি নির্ভরশীল সূত্র বলছে, শেষ পর্যন্ত এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে একজনকে দলীয় সমর্থন দেয়া হতে পারে। আবার এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে, দলের একটি ভারী অংশ মনে করছে এভাবে দায়িত্বশীল নেতারা স্বতন্ত্র পদে মনোনয়নপত্র কিনে আবারো দলকে হাস্যরসে পরিণত করছেন। তারা দায়িত্বশীল পদে থেকে এমনটি করতে পারেননা। তৃণমূলে এতে অনেক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।



 সূত্র জানিয়েছেন, গত জাতীয় নির্বাচনেও  বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থীদের হিড়িক পড়েছিল। সেবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হলেও তখনকার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ এড.আবুল কালাম, তখনকার মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান কারাগারে থাকায় এসবের কোন কিছুতেই তিনি অংশগ্রহণ করতে পারেননি। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়নপত্র না কিনলেও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসন রূপগঞ্জে। কিন্তু পরবর্তীতে মনোনয়নপ্রাপ্তদের কেউই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল ধানের শীষের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মুনির হোসাইন কাসেমী  ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এসএম আকরামকে। তারা দুই জনেই নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিলেন। তখনও দলীয় প্রতীকে এতোজনকে মনোনয়ন দেয়ায় ঘরে-বাইরে সমালোচিত হয়েছিল বিএনপি। যা কেন্দ্রীয় রাজনীতিরও একটি অংশে পরিণত হয়।

২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির হাইকমান্ড এমনটি করলেও এবার সিটি নির্বাচনে কোন প্রার্থী না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু বিএনপি নেতারা বর্তমানে বড় বড় পদ দখল করে থাকলেও সিটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ইতিমধ্যে দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে দেশে ফেরা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ২০১৬ সালে বিএনপির ব্যানারে সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এড.সাখাওয়াত হোসেন খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, জেলা বিএনপির আহবায়ক ও ২০১১ সালে বিএনপির ব্যানারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এড. তৈমূর আলম খন্দকারও মনোনয়ন কেনার খবর চাউর রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তিনিও হয়তো দুই একদিনের মধ্যে মনোনয়নপত্র কিনবেন। তবে নির্বাচনে আগে থেকে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু প্রচার করে আসছিলেন দল চাইলে তিনিও নির্বাচন করতে চান। এছাড়া মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জামিনে থাকা কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খোরশেদও সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করতে ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। খোরশেদ ধর্ষণ মামলায় উচ্চ আদালতে আগাম জামিনের আবেদনপত্রেও নিজেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সর্বশেষ তথ্যমতে তিনি এবার কাউন্সিলর পদেই আবার মনোনয়নপত্র কিনেছেন।

এদিকে বিএনপির বড় বড় পদ দখলে থাকা বিএনপির নেতাদের এই স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াটাকে ভালো চোখেই দেখছেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘দল মার্কা দিলে আমি নির্বাচন করতাম। জাতীয় নির্বাচনের মতো এবার অনেক প্রার্থী থাকলেও ওটার পুনরাবৃত্তি হবেনা। দল যেহুতু নির্বাচনে যাবেনা, আবার বাধাও দিবেনা। তবুও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দলের হাইকমান্ডের একটা সমর্থন থাকতে পারে। দলের পদে থেকেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তৃণমূলে কোন প্রভাব পড়বেনা বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আওযামী লীগের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিবে। বিএনপির লোক হলেও এতো স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও ভোট বিভক্তি হবেনা। বিএনপির ভোটও বিভক্ত হবেনা। আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড একজনকে সমর্থন দিবে। ভোটে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও কম। বিএনপির নেতা সবাই হলেও শেষ পর্যন্ত একজনকে সমর্থন দিবে কেন্দ্র দাবি টিপুর।’  

তবে এসব করে দলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছেন বলে মনে করেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মাশুকুল ইসলাম রাজিব। তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমি যা চাই, আমি তা করিনা এটির প্রতিফলনই ঘটবে। আমি যেটা মানুষ বুঝাই কিন্তু কাজের সময় যেটা বলি সেটা করিনা এটাই প্রমাণ পাবে। যারা মনোনয়ন কিনেছেন সবার মনোনয়ন কেনার যোগ্যতা আছে। তবে দল যেহুতু নির্বাচনে যাচ্ছেনা সেহুতু এখানে না যাওয়াটাই ভাল ছিল। সামনে তো দেখা যাবে স্বতন্ত্র হিসেবে বিএনপির লোকজনের মনোনয়ন কেনার হিড়িক পড়তে পারে। যারাই কিনছেন বলছেন বলছে দলের আপত্তি নেই। দল তো এখনো কিছুই ক্লিয়ার করেনি। দল অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, নেতাকর্মীরা দ্বিধাগ্রস্ত হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও একটি ধারণা হবে, আমরা যা বলি তা আসলে করিনা। দলের মতামতটা জরুরি।’

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন