Logo
Logo
×

রাজনীতি

অপ্রতিরোধ্য নেতা এমপি বাবু

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৩৫ পিএম

অপ্রতিরোধ্য নেতা এমপি বাবু
Swapno

# দশ ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী নৌকা
# বাকি চারটিতে নৌকার প্রার্থী হেভিওয়েট
# দলীয় কোন্দল কমে আসায় সফলতা আসছে : মিজানুর রহমান বাচ্চু
# এই বিজয় শুধু আমার নয়, আ’লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর : এমপি বাবু


এমপি শামীম ওসমান যেখানে হোঁচট খেয়েছেন সেখানেই সফল এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। হাঁক-ডাক করে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নিবেদিন প্রাণ দাবি করলেও এবারের ইউপি নির্বাচন নিয়ে সমালোচিত এমপি শামীম ওসমান। কুতুবপুরে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি নেতা মনিরুল আলম সেন্টু নৌকা পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। তবে ইউপি নির্বাচনে নিজের মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে ১০টি ইউনিয়নের ৬টিতে ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ীরা হলেন, হাইজাদী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আলী হোসেন, ফতেপুর ইউনিয়নে আবু তালেব মোল্লা, ব্রাহ্মন্দী লাক মিয়া, বিশনন্দী সিরাজুল ইসলাম ও মাহমুদপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান আমান উল্যাহ আমান ও এবার নতুন মুখ দুপ্তারা ইউনিয়নে নাজমুল হক। একমাত্র সাতগ্রাম ইউনিয়ন ব্যতিত বাকি ৩টি ইউনিয়ন খাগকান্দা, উচিৎপুরা, ও কালাপাহাড়িয়াতেও নৌকার প্রার্থীর অবস্থা বেশ সুবিধাজনক। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানেও নৌকার জয়-জয়কার হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আড়াইহাজারে নৌকার এমন সাফল্যের জন্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন এমপি নজরুল ইসলাম বাবুকে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন অনুষ্ঠানেও এমপি বাবুর ভূয়সী প্রশংসা করে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, এমপি বাবু যেই কাজটি পারল, সেটি কিন্তু অন্যরা পারলনা। কিছু জায়গায় নৌকাকে সরিয়ে জোর করে লাঙ্গলকে জেতানো হয়েছে। এমপি বাবু ৬ জন নৌকার প্রার্থীকে জিতিয়ে নিয়ে এসেছে। এমপি বাবুর নৌকার জন্য নিবেদিত প্রাণ এটিই প্রমাণিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রও বলছে নারায়ণগঞ্জে সবগুলো এমপি’র কর্মকাণ্ড বিবেচনায় সবচাইতে সফল এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। তিনি একদিকে উন্নয়ন আরেকদিকে দল গোছানোর কাজ দুটোই সমানতালে করে গেছেন। আর তাই ইউপি নির্বাচনেও সেই সাফল্য এসে ধরা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছেও এমপি বাবু অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। একই সাথে আড়াইহাজারে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছেও অনেকবেশি আস্থাভাজন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, মহিলা লীগ , ছাত্রলীগসহ অন্যান্য অংঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দাবি, আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগ আগে কখনোই এতোটা সংগঠিত ছিলনা। এমপি বাবুর কল্যাণে আড়াইহাজারে এখন প্রতিনিয়ত প্রতিটি কমিটি গঠন, পুনর্গঠন হচ্ছে। ফলে সাংগঠনিকভাবে আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগের ভীত অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে। আড়াইহাজারে দলগত কোন্দল না থাকার কারণে সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সকল সমস্যার সমাধান বের করতে পারছে।

এমপি বাবু এমনটি করতে পারার পেছনে তার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অভিজ্ঞতাই কাজে দিয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, এমপি বাবু স্কুল পর্যায় থেকেই ছাত্র লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন  শেষে নজরুল ইসলাম বাবু ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করেন।  কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের  আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিএনপি-জামাতের সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এমপি বাবু। যার কারণে তার মধ্যে সাংগঠনিক দক্ষতার গুনটি ভালোভাবে তৈরি হয়। সেটির প্রয়োগ তিনি এমপি হওয়ার পর নিজ আসনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। ফলে এলাকায় দলীয় কোন্দল-বিভেদ-মারামারি-হানাহানি হ্রাস পেয়েছে। আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হয়েছে। আর একারণে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সারা দেশে আস্থাভাজন এমপিদের মধ্যে নজরুল ইসলাম বাবু অন্যতম।

জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘আড়াইহাজারে এমপি বাবুর হাত ধরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে আড়াইহাজারে  দলীয় কোন্দল কমে এসেছে। ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের সাফল্য সেই তথ্যটিই দিচ্ছে। উন্নয়নের পিছিয়ে থাকা আড়াইহাজার এক অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। স্থানীয় এমপি নিসন্দেহে অনেকে কাজ করেছেন।’
 
কী করে আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগের এমন শক্তিশালী ভীত তৈরি করলেন এর উত্তরে এমপি বাবু যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি করার কারণে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড করতে করতেই বড় হয়েছি। আর তাই উন্নয়নের পাশাপাশি আড়াইহাজার আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি ওয়ার্ড-ইউনিয়নের সম্মেলনের পরিসমাপ্তির পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণভাবে। সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে জেলা আওয়ামী লীগ কমিটির ৪৫জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। শুধু এখানেই শেষ নয়, আড়াইহাজারে ছাত্রলীগ, যুবলীগ মহিলা লীগ থেকে শুরু করে প্রতিটি সংগঠনের কমিটি নিয়মিত হয়েছে। সবার সাথে যোগাযোগের জন্য আলাদা আলাদা বই করা হয়েছিল। খেয়াল করলে দেখা যাবে গত এক যুগেরও বেশি সময় আড়াইহাজারে কোন রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনেও কোন মতভেদ কিংবা বিভেদ দেখা যায়নি। আমার নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ সকল অঙ্গসংগঠন সুসংগঠিত হয়েছে। যার কারণে এবারের ইউপি নির্বাচনে প্রতিটি পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করছে। এই বিজয় শুধু আমার নয়, আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর।’
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন