Logo
Logo
×

রাজনীতি

নাসিক নির্বাচনেও অনৈক্যে বিএনপি

Icon

নীরব প্রকাশ

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৪৪ পিএম

নাসিক নির্বাচনেও অনৈক্যে বিএনপি
Swapno

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনৈক্য নতুন কিছু না। অনেককেই মজা করে বলতে শোনা যায় ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা আছে ততজন নেতাকে বিএনপির দলীয় কোন কর্মসূচিতেও একসাথে দেখা যায় না। অথচ নির্বাচনের সময় তাদের মধ্যে প্রার্থী হওয়ার প্রতিযোগিতা এত বেশী থাকে যে, স্বয়ং বিএনপি সমর্থকদেরও মাঝেও এ নিয়ে অসন্তুষ্টি তৈরি হয়।

 

বিএনপির তৃণমূলের একাধিক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যখন দলীয় কোন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে আমরা নেতাদের দ্বারস্থ হই, তাদের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকি, তখন তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। আর নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দ সেই কবে একসাথে বসে কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা তাদের পক্ষে মনে করা সম্ভবও হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তারা।

 

গত দুটি জাতীয় নির্বাচনে অর্থাৎ ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসন এলাকায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কোন শোডাউন করতে পারেননি। পত্যেক মনোনয়ন প্রত্যাশীই তাদের নিজের ইচ্ছেমতো নিজেদের সমর্থকদের নিয়ে আলাদা আলাদা শোডাউন করেছেন। এর বাইরে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন পালন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা ও সমনের প্রতিবাদ কর্মসূচি, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবরণ ও চিকিৎসাসহ কোন প্রতিবাদ বা কর্মসূচিই তারা ঐক্যবদ্ধভাবে করতে পারেননি। হোক সেটা নিরাপদ কর্মসূচী কিংবা হোক আন্দোলনের কর্মসূচী, কোন কর্মসূচিতেই তারা মতানৈক্যভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তারই ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে এবারের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর নির্বাচনে।

 

যদিও দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হবে না বলে কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে। তারপরও জেলা বিএনপির আহবায়ক এড. তৈমুর আলম খন্দকার, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সাখাওয়াত  হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল ও বিএনপির সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইচ্ছে নিয়ে পৃথকভাবে মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেন। অথচ আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থ হিসেবে আছেন মেয়র হিসেবে এর আগে দুই বার নির্বাচিত এবং পৌরসভা থাকাকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত অর্থাৎ একটানা তিনবারের নির্বাচিত হেভিওয়েট প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। যার কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের জাদরেল নেতা ওসমান পরিবারের অন্যতম সদস্য একেএম শামীম ওসমান। সেই প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে যেন রসিকতা করছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির এই প্রথম সারির নেতারা।


 
২০০৭ সাল থেকে প্রায় ১৫ বছর যাবত ক্ষমতার বাহিরে রয়েছে বিএনপি। যার মধ্যে ২০০৯ সাল থেকে একটানা প্রায় এক যুগ ধরে ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন সরকার। আর সে সময় থেকে অদ্যাবধি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে এমন একটি ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে যেন একজন আরেকজনের মুখ দেখতেও বারণ। কোন কর্মসূচীতে সে আছে তো ও নাই, আবার ও আছেতো সে নাই। এমনকি সেই ও আর সে তাদের একজন থাকলে যেন আরেকজন সেখানে থাকা নিষেধ এমন একটি ভাবও লক্ষ্য করা যায়। তাদের কাছে দলীয় ইস্যুর চেয়ে তাদের ব্যক্তিগত ইমেজ সম্মানটাই বড়।
 
২০১৪ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন উদযাপনেও দেখা গেছে অনৈক্য বিএনপির কর্মসূচী। সে সময়ও ঐক্যবদ্ধ হতে পারেননি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ বিএনপির সাবেক এমপিরাও। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীসহ শুভাকাঙ্খীরা বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনটি উৎযাপন করলেও জন্মদিনে জেলার শীর্ষ নেতাদের তেমন কোন অংশগ্রহণই ছিল না। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা ও সমনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও একই অবস্থা ছিল। মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা দায়সারা প্রতিবাদ কর্মসূচী করলেও পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল, জেলা ও মহানগর যুবদল এবং জেলা ছাত্রদল। কিন্তু বাকী সংগঠনগুলোর কোন ধরনের প্রতিবাদ ছিল না।

 

এর মধ্যে দু-একটিতে তখনকার জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে দেখা গেলেও প্রথম সারির বাকি নেতারা ছিল অনেকটাই ধরা ছোয়ার বাইরে। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় নির্বাচনের সময় বিএনপির নারায়ণগঞ্জের নেতৃবৃন্দ কোন প্রকার ভূমিকাই রাখতে পারেনি শুধুমাত্র অনৈক্যের কারণে। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন ধরেই পৃথক পৃথকভাবেই পথ চলছেন নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে বিএনপির দেড় ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারা পৃথক পৃথকভাবে শোডাউনসহ আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তারা পৃথকভাবেই কর্মসূচী পালন করেছেন।

 

সবচেয়ে বড় আশ্চর্য্যরে বিষয় হলো ২০১৮ সালে যখন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় তখনও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দ একতাবদ্ধ হয়ে শক্ত কোন প্রতিবাদসহ বড় ধরণের কোন আন্দোল গড়ে তুলতে পারেননি। এবারের নাসিক নির্বাচনেও সেই পুরোনো চিত্রই পীড়া দিচ্ছেন বিএনপির তৃণমূলসহ যারা বিএনপি নামক দলটিকে একটু হলেও ভালবাসেন তাদের। আর নিজেদের সকল অনৈক্য দুর করে নিজেদের স্¦ার্থর চিন্তা বাদ দিয়ে একতাবদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এই পীড়া মুছে দেওয়ার দায়িত্বও বর্তায় সেসব নেতাদের উপর, যারা এক সময় বিএনপির বিভিন্ন সুবিধাজনক জায়গায় বিচরণ করেছেন এবং বিএনপির সু সময় বড় বড় পদ বা স্থান নিয়ে বসে ছিলেন তাদের উপর।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন