নির্বাচনে কারসাজি হলে নারায়ণগঞ্জ হবে মাগুরা: তৈমুর
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৫০ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কোন কারসাজি হলে নারায়ণগঞ্জ মাগুরা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার। ১৯৯৪ সালে নিজ দলের শাসনামলে অনুষ্ঠিত মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠা নির্বাচনের উদারণ টেনে বলেন, ইভিএম হলো একটি চুরির বাক্স। এই ইভিএমের মাধ্যমে চুরি করবেন না।
সঠিকভাবে জনগণ যে রায় দেয় সে রায় আমি মেনে নিবো। কিন্তু আপনারা যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জনগণের ভোট যদি জনগণকে দিতে না দেন তাহলে নারায়ণগঞ্জকে মাগুরা বানিয়ে দিবো ইনশাআল্লাহ। আমি রাজপথে মার খেয়েছি, গুলি খেয়েছি এবং জেল খেটেছি তাই এখন এসবের ভয় করি না। একটাই মাত্র দাবি জনগণে আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটতে হবে। যদি সরকারি কোনো কারসাজি ঘটে তাহলে নারায়ণগঞ্জ হবে মাগুরা।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ের সামনে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, আজকে সিটি করপোরেশন ট্যাক্স বৃদ্ধি করে মানুষের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে। বাড়ি-ঘরের খাজনা প্রতি বছর বৃদ্ধি করে। আল্লাহ যদি আমাকে কবুল করে তাহলে এ সিটির আর ট্যাক্স বৃদ্ধি হবে না। ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসবো। এ রেকর্ড আমার ইতিপূর্বে রয়েছে। জীবনের বিনিময়ে হলেও আপনাদের যে চাহিদা তা আমি পূরণ করবো।
নারায়ণগঞ্জের চার এমপি ও মন্ত্রীকে অনুরোধ করে বলেন, আপনারা আচরণ বিধি কেউ লঙ্ঘন করবেন না। যদি সিটি করপোরেশনে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে আইনের বাইরে যদি কোনো ভূমিকা পালন করেন মন্ত্রী মহোদয় তাহলে আইনের হ্যান্ডকাপ আপনার হাতে লেগে যাবে। আসুন আমরা সবাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে কলঙ্ককিত এক অধ্যায়ের নাম 'মাগুরা নির্বাচন'।
বিএনপির শাসনামলে ১৯৯৪ সালের ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচনে তাদের প্রার্থী শফিকুজ্জামান বাচ্চুকে কারচুপি করে নির্বাচনে হারানোর অভিযোগ তোলে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামীলীগ। সেই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ইকোনো বল পেন কোম্পানির মালিক কাজী সলিমুল হক কামালকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ওই নির্বাচনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনে নামে সব বিরোধী দল এবং আন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয় তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি।


