Logo
Logo
×

রাজনীতি

ভোটযুদ্ধে মাঠে থাকবেন তৈমূর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:০২ পিএম

ভোটযুদ্ধে মাঠে থাকবেন তৈমূর

দ্বিধাদ্বন্দ্ব-সংশয় থেকে গতকাল নিজ অনুগতদের সাথে নিয়ে নাসিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অবশেষে মনোনয়নপত্র কিনলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহবায়ক এড. তৈমূর আলম খন্দকার।

Swapno

# দ্বিধা-দ্বন্দ্ব-সংশয় পাশ কাটিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনি
# দলীয় প্রতীক না থাকলেও নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে পেয়েছিলেন ৭ হাজার ভোট
# ইভিএম হলো চুরির বাক্স,  চুরি করবেন না : তৈমূর
# ছায়ার সাথে নয়, কায়ার সাথে যুদ্ধ : এড. দিপু

 
অবশেষে মনোনয়নপত্র কিনলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহবায়ক এড. তৈমূর আলম খন্দকার। একদিন আগে মনোনয়নপত্র কিনতে গিয়েও কিনেননি। তাকে দেখেই অনেকে বলছিলেন, সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। কেননা ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগের দিন রাতে কেন্দ্রের নির্দেশে বসে পড়েছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি দলের এই সিদ্ধান্তে বলেছিলেন ‘দল আমাকে কোরবানি দিয়ে দিয়েছে’। দীর্ঘ ১০ বছর পর আবারো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হলেন তৈমূর। তবে এবার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনেছেন তৈমূর আলম খন্দকার। গতকাল দুপুরে জেলা নির্বাচন অফিসের কার্যালয় থেকে তিনি তার অনুগতদের নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। মনোনয়নপত্রসংগ্রহের পরে তার অনুগতরা আনন্দমিছিলও করেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে অংশগ্রহণ করেন তৈমূর আলম খন্দকার। আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে অংশগ্রহণ করেন শামীম ওসমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দোয়াত কলম প্রতিকে প্রার্থী হন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নির্বাচনে ভোটের আগের রাতে তৈমূর আলম খন্দকার আচমকা নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণার দেন। যার ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন,  বিএনপিসহ এর সমমনা দলগুলোর ভোট একচেটিয়া পান ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী। নির্বাচনে দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৮ ভোট পান, শামীম ওসমা দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে পান ৭৮ হাজার ৭০৫ ভোট।

 

নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারেন শামীম ওসমান। নির্বাচনের পর তৈমূর আলম খন্দকার মন্তব্য করেন, দল তাকে কোরবানি দিয়েছে। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনেও তৈমূরকে প্রার্থী করতে চেয়েছিল বিএনপি। কিন্ত তিনি তাতে রাজি হননি। এবারের নির্বাচনে বিএনপি কোন প্রার্থী দেবেনা বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। গত ৩ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর হুট করেই মনোনয়নপত্র কিনেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। জল্পনা-কল্পনা ছিল বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকারও মনোনয়পত্র কিনতে পারেন। সেই ধারণা সত্য করে দিয়েই তিনি মনোনয়নপত্র কিনলেন। এতে উচ্ছ্বসিত তার সমর্থকরা। সূত্র জানিয়েছে, দলীয় সমর্থন না পেলেও বিএনপি কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে তাকে বাধা দিবেনা এমন চিন্তা থেকেই তৈমূর প্রার্থী হয়েছেন। আবার অপরদিক থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের ইন্ধনেই এবারের সিটি নির্বাচনে তৈমূর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তৈমূরসহ বিএনপির চার নেতা এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন।তারা আদৌ নির্বাচন করবেন কিনা তা জানতে প্রত্যাহারের তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এদিকে তৈমূরের প্রার্থী হওয়ার সংবাদে উচ্ছ্বসিত তার নেতাকর্মীরা, আওয়ামী লীগের একটি অংশও এতে উষ্মা প্রকাশ করেছেন।



সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীনে জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের অধীনে দলীয় ভাবে আর অংশ নিবে না। সেই হিসেবে নাসিক নির্বাচনেও মেয়র পদে ভোটে অংশ নিবে না বিএনপি। আর তৈমূর আলমও বলেছিলেন আমরা এই ভোট চোর সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি এবয় আমি নিজেও নির্বাচন করবো না। কিন্তু শেষ মূহুর্তে নিজেকে কোরবানী করে আওয়ামীলীগের একটির পক্ষের হয়ে তৈমূর আলম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এমটাই শোনা যাচ্ছে সর্বত্র।


জানা গেছে, নাসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তৈমূর আলম এক বক্তব্যে বলেছিলেন, তৈমুর আরও বলেছিলেন, ব্যবসায়িক মহল থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল থেকে অনেকেই আমাকে প্রার্থী হওয়ার তাগিদ দিয়েছে। ২০১১ সালে আমাকে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যে কারণে ২০১৬ সালে আমি প্রার্থী হতে চাইনি। কিন্তু এবার আমি দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে রাজী আছি কিন্তু দলকে অফিসিয়ালি নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। নয়তো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচনে অংশ নিবোনা।’


তিনি আরও বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার থেকেই দিনভর আমার বাড়ি লোকে লোকারণ্য হয়ে যাচ্ছে। সবার দাবি, আমাকে নির্বাচনে দাঁড়াতেই হবে। নেতা-কর্মীদের বলেছি, দল যদি বলে আমি নির্বাচনে দাঁড়াবো। আমি যেহেতু দলের আহ্বায়ক ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সেহেতু আমার স্বতন্ত্র প্রতীকের প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি যদি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অফিসিয়ালি অংশ নেয় তাহলেই আমি প্রার্থী হবো। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনমতেই নয়।’


তবে একটি পক্ষ মনে করে, নাসিক নির্বাচনে বিএনপি দলীয় ভাবে অংশ না নিলেও নারায়ণগঞ্জ জনগণের মনোনীত মেয়র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি'র আহবায়ক এড. তৈমূর আলম খন্দকার। মেয়র আইভীকে ঠেকাতেই তৈমূরকে প্রার্থী বানাইছে উত্তর মেরু। মেয়র আইভী যাতে দলীয় মনোনয়ন না পায় তার জন্য বহু ষড়যন্ত্র হয়েছিলেন তারা। কিন্তু সকল ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নৌকা প্রতীক পায় বর্তমান মেয়র ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এবার তা সত্যি হতে চলেছে। মেয়র আইভীর সাথে লড়াই করতে হলে শক্তিশালী প্রার্থী দরকার। শেষ পর্যন্ত তৈমূর আলমকেই রাজি করার তারা। বেশ কিছু শর্ত দিয়ে তৈমূর আলমের সকল শর্তেই রাজি হয় উত্তর মেরু। মেয়র আইভীকে ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে মেয়র প্রার্থী করা হয়। তৈমূর আলমকে প্রার্থী করেছে উত্তর মেরু। যদিও এসব একটি পক্ষের দাবি।


এদিকে সাজ সাজ রবে সকাল এগারোটায় জেলা নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। এসময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির এক অংশের নেতাকর্মীরাও তার সাথে উপস্থিত ছিলেন।


মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে সাংবাদিকদের তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘জাতির এই অসময়ে আমি কর্তব্য ও দায়িত্ববোধ থেকে নির্বাচনে এসেছি। একে এম সামসুজ্জোহা, জালালউদ্দিন, আলী আহমেদ চুনকা, একে এম নাসিম ওসমান, নাজিম উদ্দিন, কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম তারা আজ নেই। আর তাই আমি মনে করি এই নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য আজ আমাকে প্রয়োজন। আজ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তাই আমাকে এখন এখানে প্রয়োজন। জাতীয় রাজনীতি ও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ভিন্ন। এই শহরের মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দরকার, নাগরিক সুবিধা দেওয়া নাসিকের দায়িত্ব।’


তিনি বলেন, ‘আমি বিআরটিসির চেয়ারম্যান থাকাকালীন কোন ভাড়া বাড়াতে দেইনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন কোন বেতন বাড়াতে দেইনি। অনুরূপভাবে নাসিক আজ ট্যাক্স বাড়িয়ে নগরবাসীকে বিপদে ফেলেছে, আমি এলে কোন ট্যাক্স বাড়তে দেবো না। জীবনের বিনিময়ে হলেও নগরবাসীর চাহিদা পূরণ করবো। নারায়ণগঞ্জে এমপি আছেন মন্ত্রী আছেন, নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের আচরণ-বিধি ভাঙবেন না।’


তিনি আরও বলেন, ‘ইভিএম হলো চুরির বাক্স, ভোট ইভিএমে চুরি করবেন না। জনগণ যে রায় দেয় মেনে নেবো। জনগণকে যদি রায় না দেয় তাহলে আমি মানবো। ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে জেল খেটেছি, গুলি জেলের ভয় পাই না। যদি কারচুপি হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জ হবে মাগুরা হুঁশিয়ারি দিলাম।’


এদিকে তৈমূরের প্রার্থী হওয়ার সংবাদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড.আনিসুর রহমান দিপু বলেন, ‘আমাদের যুদ্ধ ছায়ার সাথে নয়, কায়ার সাথে। নির্বাচনেই দেখা যাবে কে বিজয়ী হন।’


প্রসঙ্গত, আগামী ১৬ জানুয়ারি নাসিক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৫ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই ২০ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ও প্রচারণা শুরু ২৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন