আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে এই নির্বাচনে অংশ নেবে কি না- এ প্রশ্নের সুরাহা না হওয়ায় আগেই নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ- সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান এবং একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। আর নানা নাটকের অবসান করে অবশেষে নারায়ণগঞ্জ সর্বদলীয় নাগরিকের ব্যানারে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। বিএনপির এই নেতারা আপাতত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে জানাগেছে। দলীয় ভাবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিজেরা স্বতন্ত্রভাবে মেয়র পদে তারা নির্বাচন করবে এমটাই জানাগেছে। তবে মুখে মুখে তারা দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা আছে বললেও তলে তলে নিজেদেরকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে তাদেরকে সুবিধাবাদী নেতা মনে করছেন তৃনমূল নেতাকর্মীরা।
তবে নাসিক নির্বাচনে বিএনপি দলীয় ভাবে অংশ নিবে কিনা তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগেই নাসিক নির্বাচনে বিএনপির দুই নেতা মেয়র পদে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে তা ইতিবাচক চোখে দেখছে না নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তৃনমূল নেতাকর্মীরা। তারা মনে করেন নাসিক নির্বাচনে এসকল সুবিধাবাদী নেতাদের উপরে ভরসা রাখতে পারছে না বিএনপি। কারন এটিএম কামাল দীর্ঘ এক বছরেরও অধীক সময় ধরেই দেশের বাইরে আমেরিকায় অবস্থান করছে। নির্বাচনের খবরেই হুটহাট করে দেশে এসেই মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। আর অনেকদিন ধরেই বিএনপির কোনো দলীয় কর্মসূচি পালন করতে রাজপথে দেখা যায়নি সাখাওয়াত হোসেনকে। তবে নাসিক নির্বাচনের খবরে হঠাৎ করেই দীর্ঘদিন ধরে নিরব থাকা সাখাওয়াত হোসেন খান সবর হয়েছেন।
আর প্রথম থেকেই নাসিক নির্বাচনে জেলা বিএনপির আহবায়ক তৈমূর আলম সরাসরি বলে আসছে আমরা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নিবে না বিএনপি। আর তার অংশ গ্রহনের সিদ্ধান্ত দলীয় হাইকমান্ডের উপর। দল যদি তাহলে নির্বাচন করবে। তবে দলীয় সিদ্ধান্তকে উপক্ষো করে নারায়ণগঞ্জ সর্বদলীয় নাগরিকের ব্যানারে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তৈমূর। কারন আওয়ামীলীগের একটি পক্ষের হয়ে তৈমূর আলম নির্বাচন করছে বলে সরাসরি পরিস্কার। আর এতে করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপরি নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে আলোচনা- সমালোচনা। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে তারা সুবিধাবাদী নেতা মনে করছেন তৃনমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা।
জানাগেছে, মেয়র আইভী যাতে দলীয় মনোনয়ন না পায় তার জন্য বহু ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কিন্তু সকল ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নৌকা প্রতীক পায় বর্তমান মেয়র ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তবে মেয়র আইভীর দলীয় মনোনয়ন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে এখন আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে তলে তলে প্রার্থী দেওয়ার গুঞ্জন চলছিলো । মেয়র আইভীকে ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে মেয়র প্রার্থী করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সর্বদলীয় নাগরিকের ব্যানারে তৈমূর আলমকে প্রার্থী করেছে উত্তর মেরু। মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে বিএনপির একজন মেয়র প্রার্থী হবেন। তবে কে হবেন এই নিয়ে ছিলো জল্পনা ও কল্পনা। নাসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার কিছুদিন পূর্বে আমেরিকা থেকে দিশে আনা হয় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে। আওয়ামীলীগের একটি পক্ষের সাথে আলাপ- আলোচনা করেই তৈমূর আলম তাকে দেশে আস্তে বলেন। কিন্তু বর্তমানে এটিএম কামাল রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় এবং তার গ্রহন যোগ্যতা নেই। মেয়র আইভীর সাথে লড়াই করতে হলে শক্তিশালী প্রার্থী দরকার। শেষ পর্যন্ত তৈমূর আলমকেই রাজি করার তারা। তবে তৈমূর আলম খন্দকার। শর্ত দিয়েছেন তার ছোট ভাই ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে কাউন্সিলর নির্বাচিত করতেই হবে। আর তাকে মেয়র নির্বাচন করতে আর্থিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা করতে হবে। তৈমূর আলমের সকল শর্তেই রাজি হয় উত্তর মেরু।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। স্ত্রীর চিকিৎসার অজুহাতে দেশ ছাড়েন তিনি। ইতিপূর্বেও তিনি বেশ কয়েকবার আমেরিকায় গিয়েছিলেন কামাল এবং চলেও এসেছেন কিন্তু এবার আর ফেরার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বিশ্বস্ত একটি সূত্র। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অংশ নিতেই হুটহাট করে দেশে ফিরে এসেছে বলে জানাগেছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল একজন সুবিধাদাবী টাইপের লোক। সুবিধা পেলে যে কোন কিছু করতে পারেন এবং যে কোন দলে ভিড়ে যেতে পারেন তিনি। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫-আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এসএম আকরামের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বিভিন্ন সূত্র মতে আকরামের কাছ থেকে এজন্য বিশাল অংকের একটি টাকাও পান কামাল। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারনার কয়েকদিনের মধ্যেই টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান তিনি। গুঞ্জণ রয়েছে সরকারী দলের প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের ‘বখশিস’ পেয়ে নির্বাচনী মাঠ ছাড়েন সুচতুর কামাল আর বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে তার ছেলেকে গ্রেফতারের নাটক সাজান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে এবার স্ত্রীকে নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান এবং সেখানে পাকাপাকিভাবে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে সিটি নির্বাচনের মধু আহরন করেত তিনি আটঘাট বেধে দেশে ফিরেছে। বিএনপি দলীয় ভাবে এই নির্বাচনে অংশ না নিলেও এবং মনোনয়ন না পেলেও স্বত্রন্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন অংশ গ্রহন করবেন রাজনীতিতে দীর্ঘদিন যাবৎ নিষ্ক্রিয় থাকা এটিএম কামাল। এই নির্বাচন থেকে যা আয় হবে তা নিয়ে আবারও চলে যাবে আমেরিকায় এমটাই জানাগেছে।
অন্যদিকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে স্থানীয় সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে বিএনপি। সেই হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনেও অংশ না করার ইঙ্গিত পেয়ে যান সাখাওয়াত হোসেন খান। এমন ইঙ্গিতে হঠাৎ করে বিএনপির দলীয় কর্মসূচি পালন থেকে বিতরণ হয়ে যান তিনি। কারন তিরি এবার নাসিক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে ছিলো। সেই হিসেবে আলাদা ভাবে কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। বিএনপির অঙ্গসংগঠনের বেশীরভাগ নেতাকর্মীরাই তার বলয়ে কাজ করছেন। হঠাৎ করে তার নিরবতাকে ভালো চোখে দেখছেন না নেতাকর্মীরা। কিন্তু হঠাৎ করে আবারও রাজপথে দেখা গেছে দীর্ঘদিন ধরে নিরব থাকা সাখাওয়াতকে। হঠাৎ করে আবারও রাজপথে সাখাওয়াত তার মানে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের সম্ভবনা আছে।


