# কতটুকু সত্য ও মিথ্যা তা ২৭ তারিখের পর দেখা যাবে: আনোয়ার
# আমি কিভাবে বলবো আমি বিএনপি করি নাকি : আবদুল হাই
# অসুস্থ তাই বক্তব্য দিবো না : খোকন সাহা
# নৌকার সাথে বেইমানি করার কোনো সুযোগ নাই: শাহ নিজাম
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি দলীয় ভাবে অংশ নেয়নি এবং কাউকে সমর্থনও করেনি । তবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দু’দিন আগে হঠাৎ করে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এড. তৈমুর আলম খন্দকার। তবে দল থেকে সমর্থন না পেলেও তিনি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একটির পক্ষের সমর্থন পেয়েই নির্বাচনে অংশ করেছে বলে একাধিক সূত্রমতে জানাযায়। আর সেই কথা এড. তৈমূর আলম খন্দকার তা পরিস্কারও করে দিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্যে। গত শনিবার এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জাতীয় পার্টিসহ সকল রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়েই নাকি তিনি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছে। আরও বলেছিলেন সময়েই বলে দিবে কে আমার পাশে আছে। আগামী ২৭ তারিখের পর আপনারা তা দেখতে পারবেন। নারায়ণগঞ্জের সকল দলের নেতাকর্মীরা আমার পক্ষে মাঠে নামছে। এছাড়াও তিনি পরিস্কার করেই বলেন সরকার দলীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও আমার সাথে রয়েছে। তৈমুর আলম খন্দকারের এমন বক্তব্যে ক্ষমতাশালী দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ঝড় উঠেছে। নারায়ণগঞ্জে এই নিয়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা । তবে সকলের মনে একটাই প্রশ্ন তৈমুর আলমে পাশে কারা এই আওয়ামী লীগারা।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই যুগের চিন্তাকে বলেন, আমি কিভাবে বলবো আমি বিএনপি করি নাকি। কে আছে তার সাথে, বিয়ষটি তৈমূর আলমকেই জিজ্ঞাসা করুন।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, তৈমূর আলমের কথা কতটুকু সত্য ও মিথ্যা তা ২৭ তারিখের পর দেখা যাবে। আর আওয়ামীলীগের সাথে থাকা ১৪দলও মেয়র আইভীকেই সমর্থন দিয়েছে।
এবিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলকে একাধিকবার তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেনি।
আর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি অসুস্থ কোনো বক্তব্য দিবো না।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ নিজাম যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘সে তো স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষণাই দিয়েছে। আর আওয়ামীলীগের পোষ্টধারী কোনো নেতার নামকি বলেছে। নাকি যারা আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্র্র্টি ও অন্যান্য দলের সমর্থন করে তাদের কথা। তাহলে তৈমূর সাব কাকে বলেছে তা জানিনা। তিনি আরও বলেন, আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রেরিত হয়ে শেখ হাসিনার রাজনীতি করি, নৌকার সাথে বেইমানি করার কোনো সুযোগ নাই। কারন নৌকা মানেই আওয়ামীলীগ নৌকা মানেই শেখ হাসিনা। আমরা যারা জননেতা শামীম ওসমানের কর্মী আমরা নৌকা ছাড়া কিছুই বুঝিনা। আমাদের বিশ্বাস ও আদর্শ বিক্রি করার কোনো মন-মানসিকতা নাই। রাজনীতিবিদরা অনেকই অনেক কথাই বলতে পারে। এটি তৈমূর আলমের ব্যক্তিগত কথা।’
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে প্রথম বারের মতো অনুষ্টিতব্য নাসিক নির্বাচনের ঠিক সাত ঘন্টা আগে বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে তৈমূর আলম খন্দকার নিবার্চন থেকে সরে দাঁড়ান। সেই নিবার্চনে বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমানকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথম বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তৈমূর ভোট পেয়েছেন মাত্র সাত হাজার।


