Logo
Logo
×

রাজনীতি

আইভীর উন্নয়ন, তৈমুরের প্রতিশ্রুতি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৩৬ এএম

আইভীর উন্নয়ন, তৈমুরের প্রতিশ্রুতি
Swapno

জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) তৃতীয় নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে সাতজন মেয়র প্রার্থী থাকলেও আলোচনায় রয়েছেন দুইজন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও গত দুইবারের নির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।

 

আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু না হলেও দুই প্রার্থীই নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ডা. আইভী গত ১৮ বছরের উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে তৈমুর আলম দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি।

 

২০০৩ সালে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী হয়ে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ওই নির্বাচনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। এরপর ২০১১ ও ২০১৬ সালে পরপর দুইবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পান তিনি। আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নাসিক নির্বাচনেও মেয়র প্রার্থী হয়েছেন তিনি।

 

গত ১৪ ডিসেম্বর নির্বাচনে অংশ নিতে মেয়র পদ থেকে অনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন তিনি। এদিকে গত ৩০ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন তার অনুসারী নেতা-কর্মীরা। গত ১৮ বছর নগরকর্তার চেয়ারে থাকাবস্থায় তিনি নগরীর যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পাদন করেছেন সেসবের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন সাধারণ মানুষের সামনে।

 

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পুনরায় তাকেই নির্বাচিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন ভোটারদের। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, আইভী সবদলের সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়। সৎ, নির্ভীক ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর আইভীর নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। তিনি জনপ্রিয় তার কাজ দিয়ে। ২০০৩ সালে পৌর চেয়ারম্যান ও ২০১১ সাল থেকে সিটি মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে বদলে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ নগরীর চিরচেনা রূপ। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাসহ সারাদেশে আজ উন্নয়নের নতুন মডেল নারায়ণগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জ সিটির উন্নয়ন আজ সারা বাংলাদেশে স্বীকৃত।

 

পরিকল্পিত নগর গড়তে ব্যাপক রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ও উন্নয়ন, সমন্বিত ড্রেনেজ সিস্টেম, পয়োনিষ্কাশন, জলধার সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবায় নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও মাতৃসদন এবং অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু; পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ, শহর থেকে ট্রাক টার্মিনাল সরানো, নাসিকের আয়-বৃদ্ধির জন্য নিজস্ব ভূমিতে মার্কেট ও ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং কাঁচাবাজারসমূহের উন্নয়ন, কবরস্থান ও শ্মশানের উন্নয়ন, বিনোদনের জন্য পার্ক নির্মাণ, শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ, নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুপারিশ, নাগরিকের সুবিধার্থে হোল্ডিং ট্যাক্স সহনীয় মাত্রায় রাখাসহ নানান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে মেয়র আইভীকে বলা হয়ে থাকে আধুনিক নারায়ণগঞ্জের রূপকার। তার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় প্রতিটি ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপণ, রাস্তায় রাতে বাতি জ্বালানো, জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে খেলার মাঠগুলো রক্ষা, প্রতিটি এলাকায় সমপরিমাণ উন্নয়ন তাকে নিয়ে গেছে সফলতার অন্য উচ্চতায়। সুপরিকল্পিত নগরায়নের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে শহরের বুকে নির্মাণ করেছেন শেখ রাসেল নগর পার্ক, বাবুরাইল খাল এবং সিদ্ধিরগঞ্জ খাল। প্রাণ-প্রকৃতির রক্ষায় জোর দিয়ে কাজ করেছেন আইভী। নগরীতে বিগত সময়ে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম তিনি সম্পাদন করেছেন সেসব বিবেচনায় তাকেই নগরবাসী পুনরায় মেয়র নির্বাচিত করবেন বলে অভিমত কর্মী-সমর্থকদের। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকও এই কথা বলেছেন।

 

গত ২৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের শেখ রাসেল পার্কে আয়োজিত বিজয় সমাবেশে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আইভী পূর্বের মতো লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন। ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও তাই মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আইভী তার জীবনই উৎসর্গ করেছে নগরবাসীর জন্য। এই শহরের আনাচে-কানাচে, অলি-গলিতে যেখানেই যাবেন সেখানেই দেখবেন, সাধারণ মানুষের চাহিদা মোতাবেক আইভী কাজ করেছে। আইভী কারও সাথে অন্যায় করে নাই, অত্যাচার করে নাই, কারও সাথে জুলুম করে নাই, কাউকে অসম্মান করে কথা বলে নাই। যখন যেটা সঠিক সেটাই বলেছে। নির্যাতিত মানুষের পাশে এসে আইভী দাঁড়িয়েছে। সুতরাং নগরবাসী আইভীর পাশেই থাকবে।

 

’ অন্যদিকে নির্বাচনী মাঠে সরব বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকারও। আওয়ামী লীগের একটি বিদ্রোহী অংশ তাকে সমর্থন দিচ্ছেন, শহরে এমন প্রচারণা চললেও নিজেকে ‘সর্বদলীয়’ প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম। প্রতীক বরাদ্দের আগে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় বিধিনিষেধ থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গণসংযোগ করছেন। সাধারণ মানুষকে দিচ্ছেন আগামী দিনে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। একই সাথে করছেন সাবেক মেয়রের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সমালোচনা। তিনি বলছেন, পরিকল্পিতভাবে নগরায়ন হয়নি এই শহরের। এক আলাপে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘কয়েকটা ভবন নির্মাণ করলেই উন্নয়ন হয় না। আমি নির্বাচিত হতে পারলে জনগণের মতামত নিয়ে ১০০ বছরকে সামনে রেখে মহাপরিকল্পনা করবো। স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে কার্যক্রম শুরু করবো। নারায়ণগঞ্জ শহর আলাল-দুলালের শহর হয়ে গেছে। মেয়র যদি ডাইনে যায়, এমপি যায় বায়ে। এমপি ও মেয়র দু’জনেই শক্তির উৎস।

 

এমপিরা জাতীয় পর্যায়ে এবং মেয়র স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার উৎস। তাদের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। এই সমন্বয়ের জন্য সরকারও চেষ্টা করেনি। এতে ভোগান্তি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসীর। এইজন্য আমি মনে করি পরিবর্তনের লক্ষ্যে অনেকে এগিয়ে এসেছে আমাকে প্রার্থী করার জন্য। তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে প্রার্থী হয়েছি।’ এদিকে তৈমুর আলম খন্দকারের জেলা বিএনপির পদ স্থগিত করেছে বিএনপি। গত ১ জানুয়ারি তৈমুর আলম খন্দকারকে আহ্বায়ক করে জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করে। গত ২৫ ডিসেম্বর তৈমুরের আহ্বায়ক পদটি স্থগিত করা হয়। তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয় প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন