হাতির উপর উঠেই নৌকা বিজয়ী হবে : আইভী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৩০ পিএম
গতকাল নৌকা প্রতীক বরাদ্দের আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে নৌকার প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের মন্তব্য, ‘হাতি নৌকার উপর উঠলে নৌকার তলি থাকে না। হাতি যেহেতু নৌকার উপর উঠে গেছে বাকিটা ভবিষ্যতে দেখবেন।’ এর বিপরীতে বলেছেন, উনি আমার চাচা। উনি অনেক কিছু বলতেই পারেন। ইনশাল্লাহ হাতির উপর উঠেই নৌকা বিজয়ী হবে।
গতকাল বেলা সাড়ে ১২টায় জেলা নির্বাচন অফিসে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে এই কথা বলেন। আইভী বলেন, ‘আমি বিগত ১৮ বছর কাজ করেছি। সিটি কর্পোরেশনে ১০ বছর কাজ করেছি। কোনোদিন দল-মত, ধর্ম-বর্ণ দেখি নাই। সাধারণ মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি অলি-গলিতে দল-জাতি-বর্ণের উর্ধ্বে উঠে প্রত্যেকের জন্য সমানভাবে কাজ করেছি। সুতরাং আশা করবো তারাও আমার পাশে এসে দাঁড়াবে এবং আমাকে ভোট দেবে।’
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে করা প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, ‘একটুও ট্যাক্স বাড়াইনি। সুপরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা কথা ছড়ানো হচ্ছে। আগে ওয়াসা আমাদের সাথে ছিল না। ওয়াসা ৩ শতাংশ ট্যাক্স নিতো। যেহেতু সিটি কর্পোরেশন পানি সরবরাহের দায়িত্ব নিয়েছে সেই ট্যাক্স যুক্ত হয়েছে। এইটাকে ট্যাক্স বাড়ানো বলে না। ওয়াসাকে যেই ট্যাক্স দেওয়া হতো সেটি সিটি কর্পোরেশনকে দিতে হচ্ছে। একজন প্রার্থী সুকৌশলে অভিযোগটা মাঠে ছড়িয়ে দিয়েছেন।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে নৌকার প্রার্থী বলেন, ‘নৌকার বাইরে আওয়ামী লীগের লোকজনের যাওয়ার সুযোগ নেই, তারা যাবেও না। দল চিন্তা-ভাবনা করে যাচাই-বাছাই করে মনোনয়ন দিয়েছে। এইখানে দল, ব্যক্তি সবাই একাকার। আমি আওয়ামী লীগ না করলে নৌকা প্রতীক পেতাম না। সব বিবেচনা করেই দল মনোনয়ন দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই শহরের মানুষ দেখেছেন আমি সেবা দিয়েছি নাকি দেইনি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এখন অনেক কিছুই বলবেন। অথচ উনি বাসার সামনের যে রাস্তা দিয়ে হাঁটেন সেটাও সিটি কর্পোরেশন করেছে। সাতাশটি ওয়ার্ডে উনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সব জায়গাতেই তিনি গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে রাস্তা, ড্রেন, খেলার মাঠ, পার্ক সিটি কর্পোরেশন করেছে। আমরা নির্বাচন করবো। ১৬ জানুয়ারি নির্বাচন শেষ হবে কিন্তু এই শহরে সকলে একসাথে বসবাস করবো। সুতরাং এইখানে মিথ্যা বলার কোনো অবকাশ নেই। জনগণ যাকে ভোট দিবে সেই বিজয়ী হবে।’
সরকারি দলে থাকলেও কোনো সুবিধা নিচ্ছেন না বলেও জানান ডা. আইভী। তিনি বলেন, ‘আগেও আমি কোনো সুবিধা নেইনি। উনি প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে ভোট চেয়েছেন। আমি কিন্তু যাই নাই। আমি ঘরেই ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ আমি আজকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবো।’
নির্বাচন কমিশনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবি করেন মেয়র প্রার্থী আইভী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নৌকা কখনই ভয়ের ছিল না, নৌকা বিজয়ের নৌকা। একাত্তরে দেশ স্বাধীন হয়েছে নৌকাকে সামনে রেখে। ধর্মীয়ভাবে নূহ (আ.) এর নৌকা ছিল। নৌকা পরাজিত হতে পারে না। নৌকা বিজয়ের। ইনশাল্লাহ নৌকা বিজয়ী হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার সাথে আমার জনগণ আছে। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আছেন। নৌকাকে যারা পছন্দ করে তারাও নৌকাতেই আসবে, অন্য কোথাও যেতে পারে না।’
এই নির্বাচনে শামীম ওসমানের অবস্থান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি আমার বড়ভাই, উনি একজন এমপি। এমপি হওয়ার কারণে উনি প্রচারণায় আসতে পারবেন না। যেহেতু উনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী, শেখ হাসিনার কর্মী সেহেতু উনি নৌকার বাইরে যাবেন না। উনিও কিন্তু নৌকা প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করেন। মান-অভিমান, দলের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে কিন্তু সকলকে আহ্বান জানাবো, একসাথে নৌকার জন্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করি।’
এই সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাড. আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির, আদিনাথ বসু, অ্যাড. মো. আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবীব, সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত প্রমুখ।


