Logo
Logo
×

রাজনীতি

তৈমুর বিএনপিরও প্রার্থী নন

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:০৭ এএম

তৈমুর বিএনপিরও প্রার্থী নন
Swapno

# দলের নাম বিক্রি করে নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে তৈমুর
# তৈমুর বিএনপির প্রার্থী না, হাইকমান্ডের কোনো নির্দেশনা নেই: রিজভী
# তৈমুরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, রবি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক না : আব্দুস সালাম


নাসিক নির্বাচনকে ঘিরে তৈমূর আলম খন্দকারের স্ট্যান্টবাজি অব্যাহত রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তিনি বলে আসছেন তার বিএনপির কেন্দ্রীয় সমর্থন রয়েছে। আবার কেন্দ্রীয় বিএনপি তৈমূরকে স্বীকৃতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করে আসছে। কেন্দ্রীয় নেতারাও তৈমুর আলম খন্দকারের স্ট্যান্টবাজিতে নাখোশ। আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবির মতোও তৈমূর নাসিক নির্বাচনে নিজ দল বিএনপিতেও বোরকা পড়ে রয়েছেন। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। সেটি পরিষ্কার করেই বলেছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সারাদেশে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও বর্জন করেন বিএনপি। দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থী দেয়নি এবং কাউকে সমর্থনও করেনি দলটি। সেই সিদ্ধান্তেই অটল আছেন বিএনপি। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনেও দলীয়ভাবে অংশ নেয়নি দলটি এবং কাউকে সমর্থনও করেনি। তবে বিএনপির স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদ্য সাবেক আহবায়ক এড. তৈমুর আলম খন্দকার। তিনি বরাবরই বলে আসছে বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশেই তিনি নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আর এটি নাকি বিএনপির একটি নির্বাচনী কৌশল। কিন্তু তৈমুর আলমের সেইসব মনগড়া কথা গুলো পরিস্কার করেন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।


এবিষয়ে জানতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এড. রুহুল কবির রিজভীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, বিএনপি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় অংশ নেয়নি এবং কাউকে সমর্থনও করেননি। তৈমুর আলম খন্দকার বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বিএনপির মতো বড় দল দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি তাহলে তৈমুর আলম খন্দকার কেনো স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আপনি এই প্রশ্নটা তৈমুর আলমকে করেন কেনো তিনি প্রার্থী হলেন। বিএনপি তো অংশ নিচ্ছে না।  


আর তৈমুর আলম খন্দকার নাকি বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশনায় নিয়েই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির হাইকমান্ডের কোনো নির্দেশনা নেই। তিনি বিএনপির প্রার্থী নয় এটাই পরিষ্কার।


এবিষয়ে বিএনপির সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) এড.আব্দুস সালাম আজাদ যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি না।
তৈমুর আলম বিএনপির প্রার্থী না। আর কে বলেছে তৈমুর বিএনপির প্রার্থী। আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ বলছে আপনাদেরকে। দল একটি প্রতিষ্ঠান কাউকে এমনি এমনি সমর্থন দেওয়া হয় না।
জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি বলেছেন বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশনা নিয়েই নাকি তৈমূর প্রার্থী হয়েছেন আর এটি নাকি বিএনপির একটি কৌশল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মনিরুল ইসলাম রবি এইসব কথা বলেছে আর বলবে না। আপনি এখন তাকে জিজ্ঞাসা করেন। আর মনিরুল ইসলাম রবি তৈমুর আলমের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, মনিরুল ইসলাম রবি এখন আর তৈমুর আলমের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক না।


তিনি আরও বলেন, তৈমুর আলমের মার্কা কি হাতি নাকি ধানের শীষ। এখন মার্কা দেখে নির্বাচন। যারা আওয়ামীলীগ তারা মার্কা নৌকা, যদি বিএনপি প্রার্থী দিতো তাহলে ধানের শীষ পেতো। তৈমুর আলম কি মার্কা পেয়েছে হাতি মার্কা। তাহলে তৈমুর আলম তো আর বিএনপি প্রতিনিধি না, জনগনের প্রতিনিধি। আর তৈমুর আলমের যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে তাতে কি দলীয় লেখা আছে, নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী।


 তৈমুর আলম বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হয়ে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তার বিরুদ্ধে কি দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে নাকি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি তো এখন আর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক না। আর তাকে তো নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তিনি এখন আর বিএনপি কেউ না। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হলেন মনিরুল ইসলাম রবি।  তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী তাকে নির্বাচন করতে দেন। অযথা খোচাখুচি করেই না।


জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না সেটিও আগে থেকেই জানতেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এড. তৈমুর আলম খন্দকার। তিনি তখন বলেছিলেন আমরা নির্বাচন নয় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা নিয়ে চিন্তিত। আর এই সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না সেটা আগেই বলে দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু নিবার্চনের ঠিক দু'দিন আগে হঠাৎ তিনি স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন এবং জমা দেন। তৈমুর আলম আর বলেছিলেন আমি বিএনপির হাইকমান্ডের সাথে আলাপ- আলোচনা করেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। এটি বিএনপির একটি কৌশল। দলীয়ভাবে অংশ না নিয়ে আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বলেছেন। দল নির্বাচনে যাবে না কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে দলীয়ভাবে কোনো সমস্যা নেই। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এখন দলের নাম বিক্রি করে নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারনা চালাচ্ছে বিএনপির স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী এড. তৈমুর আলম খন্দকার।  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন