# নতুন বছরে ক্লীন ইমেজের আইভীই এখন আওয়ামী লীগের প্রতিচ্ছবি
# জাতীয় নির্বাচনের আগে নাসিক নির্বাচন আওয়ামী লীগের কাছে লিটমাস টেস্ট
নতুন ইংরেজি বছরটি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জয় দিয়ে শুরু করতে চায় আওয়ামী লীগ। সারা বাংলাদেশ জননন্দিত ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে যথেষ্ট কদর রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর।
আর তাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে মোটেও খাটো করে দেখছে না আওয়ামী লীগ। নাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনেও যথেষ্ট বিচক্ষণতা এবং দলীয় বোঝাপড়ার ব্যাপারটি লক্ষণীয় ছিল। এমনকি আইভীকে যখন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হল তাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা অত্যন্ত আনন্দমুখরভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের আইভীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছন।
কেন্দ্রীয় নেতাদেরও স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন গত দশবছর সফলভাবে মেয়র হিসেবে উন্নয়নের ফুলঝুঁড়ি ছোঁটানো আইভীর যত্ন নিতে নির্বাচনে যেন তাদের ভুল না হয়। এর আরেকটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ প্রধানমন্ত্রীর মালদ্বীপ সফরের পর পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্ট মণ্ডলীর সদস্য ও নাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক জানিয়েছেন, মালদ্বীপ থেকে দেশে ফিরেই সারা দেশে সকল নেতার মধ্যে একমাত্র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কথাই জিজ্ঞাসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সেই জিজ্ঞাসার শব্দ চয়নও ছিল অত্যন্ত মধূর। নানককে তিনি বলেন, আমার আইভীর খবর কী? এই থেকেই বোঝা যায় আইভী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কতখানি প্রিয়প্রাত্র হয়ে উঠেছেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন, গত দুইবছর যাবৎ আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাদের ছেঁটে ফেলতে দেখা গেছে সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ক্লীন ইমেজের ব্যক্তিরা যাতে আওয়ামী লীগের সামনের নেতৃত্বে আসেন সেই ধরণের একটি পদক্ষেপ আওয়ামী লীগে সুস্পষ্ট। গাজীপুরের মেয়র, সম্প্রতি এক প্রতিমন্ত্রীকে ছাঁটাই এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। নারায়ণগঞ্জেও নানা সময় কয়েকজন বিতর্কিত নেতার নাম উঠে আসে। নাসিক নির্বাচনে তারাও উল্টাপাল্টা কিছু করার চেষ্টা করলে কঠিন সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মত আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী অংশের। সূত্র জানিয়েছ, আইভীর বরোধীতাকারী অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও দলের সিদ্ধান্তকে মানতে পারেননি। এদিকেও বেশ আমলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতারা। নারায়ণগঞ্জে এসে তো বলছেনই এমনকি ঢাকায় যখনই মিডিয়ায় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন তখনই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে আইভীর পক্ষে কাজ করার জোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছেন তারা।
আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের মতে, সামনের জাতীয় নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে লিটমাস টেস্ট হিসেবে নিয়েছে। সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ যে কোন রাজনৈতিক দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন ক্লিন ইমেজের নেতার কারণে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একটি বড় শক্তিই বটে। নারায়ণগঞ্জ দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিচ্ছবি যাঁচাই করে নিতে চাচ্ছে কেন্দ্র। এতে যারাই বাধা হয়ে দাঁড়াবে দলের, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যে কেন্দ্র কোন বাছ বিচার করবেনা তা প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় নেতারা বলে আসছেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত মনে করে, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির একটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূরকে সমর্থন যোগালেও বড় অংশ এবং শক্তিশালী পক্ষটি তৈমূরের নির্বাচনে অংশ নেয়াকে ভাল চোখে দেখছেনা। আওয়ামী লীগের আরেকটি অংশ মনে করে, প্রভাবশালী এক সাংসদই তৈমূর আল খন্দকারে প্রার্থী হওয়ার পেছনের মূল নেপথ্য কারিগরের ভূমিকা পালন করছে। তবে যেটিই হোক আইভীর হাতে নৌকা প্রতীক দেয়ার আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে শক্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি যে আওয়ামী লীগের ছিল সেটি এখন প্রকাশ্য দিবালোকের মত পরিষ্কার। আইভীর সমর্থনে প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর। নারায়ণগঞ্জের যে অংশটি এখনো আইভীর পক্ষে সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আসছেনা তাদের উপরও চাপ অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। এমনকি আরেকটি বড় অংশ খোঁজ খবর নিচ্ছে আইভীর বিরোধীতা কারী নেতাদের বিষয়ে। আওয়ামী লীগের একটি অংশ মনে করে, নাসিক নির্বাচনে অন্য দলের ব্যক্তিদের চেয়ে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা ঝুঁকিতে রয়েছে। আওয়ামী লীগ সংঘবদ্ধ দল, এবং এতে কেউ অপরিহার্য নয় একথাটি প্রায় সকল কেন্দ্রীয় নেতাদের মুখ থেকে আসছে। এতে মনে করা হচ্ছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের যত প্রভাবশালী নেতাই হোক না কেন তাকে দলের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারলে ছাড় দেয়া হবেনা, তাকে আওয়ামী লীগ থেকে ছাঁটাই করে যে কোন শাস্তির মুখোমুখি করা হতে পারে। সম্প্রতি শেখ রাসেল পার্কে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত বিজয় র্যালিতে প্রায় সব নেতাই আইভী বন্দনা করে বলেছেন, নতুন বছরে জয় দিয়ে শুরু করতে চায় আওয়ামীলীগ।
নারায়ণগঞ্জের চাঁদ-সূর্য আইভীকে দিয়েই সেই বিজয় রথ শুরু হবে। এই জয়যাত্রায় কেউই অপরিহার্য্য নন, কেউ যদি সেটি মনে করে তাদের জন্য ম্যাসেজ আওয়ামী লীগে কেউই অপরিহার্য্য নন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজেও নারায়ণগঞ্জের বিজয় যাত্রায় প্রত্যক্ষভাবে অংশীদার হয়েছেন। নিজ দলের প্রার্থীর প্রচারণায় যাতে কোন ধরণের কমতি না থাকে সেটিও মনিটরিং করছেন। স্থানীয়ভাবে তো বটেই জাতীয় রাজনীতিতেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিজয় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে এমনটাই ভাবছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারাও।


