আইভীর হাত ধরে ময়লার রাজনীতির মৃত্যু
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৪৮ এএম
সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি দশপাইপ এলাকায় নির্মাণের শেষ প্রান্তে ১০ একর জায়গার উপর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট। প্রতিদিন ৬০০ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হবে, বর্জ্য থেকে উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ। প্রকল্পটির কাজ শেষ পর্যায়ে। ছবি : আল-আমিন তুষার।
# জালকুড়ির দশপাইপ এলাকার এই প্রজেক্টের দিকে তাকিয়ে নগরবাসী
# প্রতিদিন ৬০০ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হবে
সত্য ও ন্যায়ের কথা উচ্চারণে সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কণ্ঠ যেমন বলিষ্ঠ, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে আইভী হয়ে উঠেছেন অনন্য। শুধুমাত্র ইট-পাথরের উন্নয়ন নয়, পরিবেশ বান্ধব এবং জনসম্পৃক্ত উন্নয়নের মাধ্যমে গোটা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের চেহারা তিনি বদলে দিয়েছেন।
দুই মেয়াদে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করলেও বড় বড় কয়েকটি মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গোটা সিটি এলাকার নাগরিক সুবিধা কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে। নারায়ণগঞ্জে বর্জ্য নিয়ে রাজনীতি নতুন কোন বিষয় নেই। মাঝে মধ্যেই বর্জ্য নিয়ে নানা রাজনীতি করার চেষ্টায় নামে একটি মহল। তবে আইভীর দুরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্তের কারণে এই সুযোগ আর বেশিদিন পাওয়া যাবেনা।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কারো সহযোগিতা না পেয়ে প্রতিবাদ স্বরূপগ ডিসির বাসভবনের সামনে প্রতিবাদ স্বরূপ ময়লার ট্রাক রাখতে বাধ্য হয় পরিচ্ছন্নকর্মীরা। শেষে ১৮নং ওয়ার্ড সৈয়দপুরে খাস জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে সেএলাকাতেও মানুষের নানা অভিযোগ। তবে এসব মাথায় নিয়েই আইভী এসবের চূড়ান্ত সমাধান খোঁজেন। সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়িতে অবস্থিত ২৩ দশমিক ২৯ একর জমির উপর নির্মাণ করা হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ব্যায় করা হচ্ছে ৩৪৫ কোটি ৯১ লাখ ৩১ হাজার টাকা। সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, এরই মাঝে এই প্রকল্পের প্রায় নব্বই শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সামনের বছরই সিটি করপোরেশনকে কাজ বুঝিয়ে দেবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
আর এটি হলে বর্জ্য নিয়ে গোটা সিদ্ধিরগঞ্জ, শহর এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশৃঙ্খল তো হবেই, ফতুল্লার গোটা এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও সুশৃঙ্খলতার আওতায় আসবে। আর এবার আইভী তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হলে এই প্রজেক্টে তড়িৎ সফল পাবে নগরাবাসী। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্জ্য নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। বরং এই প্রকল্পে প্রতি দিন যে পরিমাণ বর্জ্য লাগবে তাতে প্রতি দিন পার্শবর্তী ফতুল্লা থেকে অথবা ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে ১০০ টন বর্জ্য আনতে হবে। আর এই বর্জ্য ব্যাবহার করে উৎপাদন করা হবে বিদ্যুৎ। সিটি করপোরেশন সূত্র আরো জানিয়েছে এই প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রী এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রের মাঝে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। অধিগ্রহণকৃত ২৩ দশমিক ২৯ একর জায়গার মাঝে ১০ একর জায়গায় ওয়েস্ট টু এনার্জি প্লান্ট নির্মাণ করবে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এই বর্জ্য ব্যাবস্থাপনা প্লান্টের জন্য যে ৩৪৫ কোটি ৯১ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা ব্যায় করা হচ্ছে তার পূরোটাই দিয়েছে সরকার। এই টাকার মাঝে জমি অধিগ্রহণ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। বাকী টাকা খরচ করে এরই মাঝে প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ১৮ কিলোমিটার রাস্তা, ২ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ৩ হাজার ৭১৭ বর্গ কিলোমিটার অফিস ভবনের চারিপাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। শিগগিরই প্রকল্পের বাকি কাজ শুরু করা হবে।
প্রকল্পটি চালু হলে কেবল মাত্র বিদ্যুৎই পাওয়া যাবে না, বর্জ্য অপসারণের মতো গুরুতর সমস্যার সমাধান হবে। সম্পূর্ণ সিটি করপোরেশন হতে প্রতিদিন ৬০০ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকা হবে একটি সুপরিচ্ছন্ন নগরী। এছাড়া গোটা জেলা শহরের একটি মারাত্বক সমস্যার সমাধান হবে। প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী যে দশটি মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন তার মাঝে এটি অন্যতম একটি প্রকল্প। কারণ এই প্রকল্পটির সাথে জড়িত সিটি করপোরেশনের জনস্বাস্থ্য এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা। এই প্রকল্পের আওতায় আরো নির্মান হবে বায়ো গ্যাস প্লান্ট, রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট, কম্পোষ্ট প্ল্যান্ট, লিচিড পন্ড, গ্রিণ পন্ড, গ্রে ওয়াটার পন্ড, গ্যারেজ, ওয়েটিং রুম সহ আরো বহু স্থাপনা। প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। নতুন বছরেই প্রকল্পটি বুঝে পাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।
এরপর শুরু হবে বিদ্যুত প্রকল্প নির্মাণ এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণ এবং রিসাইক্লিং কারখানা নির্মাণের কাজ। আর এসব কাজের জন্য নতুন বরাদ্ধ আসবে। ফলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে একেবারে বদলে যাবে চিত্র। নারায়ণগঞ্জে বর্জ্য নিয়ে আর কোনো সমস্যাই থাকবে না। বরং বর্জ্য থেকে উৎপাদন করা হবে বিদ্যু ও গ্যাস। রিসাইক্লিনিং এর মাধ্যমে উৎপাদন করা হবে কম্পোষ্ট সার। প্রকল্পটিতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার হবে। বাকী টেকনিক্যাল কাজগুলি করবে একটি চায়নিজ কোম্পানী।


