সাখাওয়াত-কালামের দিকে তাকিয়ে তৃণমূল
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:১৪ পিএম
# সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়ায় এখন তাদের দৃষ্টি দিতে হবে তৃণমূলে
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি যেকোনোদিন ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটির করার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু আদালতে মামলা জটিলতা কারণেই থমকে আছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি। কারণ ইতিমধ্যে মেয়াদহীন হয়ে পড়েছে এই কমিটি। আবার দলীয় সিদ্ধান্তে উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া বিএনপির সদ্য বহিস্কারকৃত নেতা এড. তৈমুর আলম খন্দকারের নির্বাচনের প্রধান এজেন্ট হয়ে দলী সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ দলীয় সকল পদ থেকে এটিএম কামালকে বহিস্কার করা হয়েছে। মহানগর বিএনপির সভাপাত সাবেক এমপি এড. আবুল কালাম শারীরিকভাবে অসুস্থ্য। এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টুও শারীরিকভাবে ফিট না। শারীরিকভাবে অসুস্থ্য থাকার পরও মহানগর বিএনপিকে আগলে রেখেছেন এড. আবুল কালাম। যতখানি কর্মসূচি হচ্ছে শুধু তার বদন্যতায়। এছাড়া এখন মহানগর বিএনপির হাল ধরতে হবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে। আর এড. সাখাওয়াত হোসেনের উপরই নির্ভর করছে মহানগর বিএনপির ভবিষৎ এমটাই মনে করছে মহানগর বিএনপির নেকাকর্মীরা।
জানা গেছে, মামলা জটিলতার কারণে নতুন কমিটি গঠন না হওয়ায় থমকে আছে মহানগর বিএনপির রাজনীতি। পাশাপাশি মহানগর বিএনপির নেতারা কয়েকটি ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ক্ষমতাসীনদের সাথে আতাঁত করে রাজনীতি করছে এমন যে সকল নেতা রয়েছেন তাদের অধিকাংশই মহানগর বিএনপির কমিটিতে রয়েছেন। অসুস্থতার কারণে মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি এড. আবুল কালাম রাজপথে তেমন একটা থাকতে না পারলেও তার নির্দেশে নেতাকর্মীরা প্রতিটি কর্মসূচি পালন করছে । নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কার্যালয় না থাকাতে নিজের ব্যক্তিগত অফিস দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিয়েছেন। আর সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে দলীয় সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে বিএনপির বহিস্কারকৃত নেতা এড. তৈমুর আলমের নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট হওয়ায় দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছেন। অথচ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির এক সময়ের দাপুটে নেতা ছিলেন এটিএম কামাল।
অপর দিকে, মহানগর বিএনপির নেতা আতাউর রহমান মুকুল, শওকত হাশেম শুকু, হান্নান সরকারসহ অসংখ্য নেতা রয়েছেন যারা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সাথে আতাঁত করে রাজনীতি করছেন। এতে করে সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়েছে মহানগর বিএনপি। যার ফলে দ্রুত সময়ে কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের। কিন্তু মহানগর বিএনপির কমিটি দিয়ে দায়ের করা মামলায় দলীয় সকল কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাই নতুন কমিটিও দিতে পারছেন না কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই মামলা নিষ্পতি করে মহারগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠন করা হবে এমটাই জানাগেছে।
বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই আইনাঙ্গনের গন্ডি পেরিয়ে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ পাওয়া এড. সাখাওয়াত হোসেন খান এখন মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের কাছে ভরসার অন্যতম আশ্রয়স্থল বলে জানায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, মহানগর বিএনপির রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছেন সাখাওয়াতই। নেতাকর্মীদের আইনী সেবার দেওয়ার পাশাপাশি রাজপথেও ছিলেন সমান তালে। কেননা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম অসুস্থতার জন্য বের হতে পারেননি তবে কর্মসূচিগুলোতে তার আন্তরিকতার কমতি ছিলনা। এখন অবধি তার কারণেই মহানগর বিএনপি কোথাও বসার সুযোগ পাচ্ছে।
কালামের অসুস্থ্যতার সুযোগে এটিএম কামালও দেশ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশের মাটিতে। মনে নানা ধরণের অপ্রাপ্তি থাকলেও মহানগর বিএনপির হাল শক্ত হাতে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে ছিলেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। দীর্ঘ সময় ধরে দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, আন্দোলন সংগ্রাম, দু:স্থ ও অসহায় মানুষের সেবা ও ত্রাণ বিতরণ, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকান্ড, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। তাই মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে দু:সময়ের কান্ডারী হিসাবেই পরিচিত এড. সাখাওয়াত। সামনের দিনগুলোতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির হাল ধরতে আবুল কালাম-সাখাওয়াত হোসেন খানের অন্য কোন বিকল্প এই মুহুর্ত্বে হাতে বলে মনে করছে তৃণমূল।


