Logo
Logo
×

রাজনীতি

দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকেন আইভী পালিয়ে যান শামীম

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:৫৭ পিএম

দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকেন আইভী পালিয়ে যান শামীম
Swapno

# আইভীকে প্রাধান্য দিয়েই আসছে নারায়ণগঞ্জের সব কমিটি


নারায়ণগঞ্জে একেবারে বদলে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এরই মাঝে আইভীকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন করে গোটা জেলা এবং মহানগরীতে দলকে সাজানো হবে বলে প্রভাবশালী সংবাদপত্রে খবর এসেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বরাত দিয়ে সংবাদ পত্রটি লিখেছে দলের অধিকাংশ কমিটিতে শামীম ওসমানের লোকদের প্রাধান্য থাকলেও দলের দুঃসময়ে তিনি পালিয়ে যান, কিন্তু আইভী এর আগে দলের দুঃসময়ে বিদেশ থেকে এসে হাল ধরেছিলেন এবং নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাছাড়া একটি পৌরসভা এবং তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে মেয়র আইভী একই সাথে জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাই আইভীকে ঘিরেই দলকে নতুন করে সাজানো জরুরী বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

 

এদিকে এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রায় এক মাস নারায়ণগঞ্জে থেকে এই জেলার রাজনীতিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তারা দেখেছেন দলের অধিকাংশ কমিটি শামীম ওসমানের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এসব লোকজন দলের স্বার্থে কোনো কাজ করেন না। তারা এখানে ওসমান লীগ বা ভাই লীগ নামে আলাদা বলয় সৃষ্টি করেছেন যা কিনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতিকে মোটেও ধারন করেন না। আর এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনেতো তারা একেবারে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বসেছেন। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নিজে আইভীকে মনোনয়ন দেয়ার পরও শামীম ওসমান নানা নাটকের অবতারণা করেছেন এবং সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজের দাম্ভিকতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া শামীম ওসমান আর তার ভাই সেলিম ওসমানই নেপথ্যে থেকে এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছেন এবং অনেকটা প্রকাশ্যেই সহায়তা করেছেন। 

 

বন্দরে সেলিম ওসমানের নির্দেশে পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা মাঠে নেমেছিলেন। আর শামীম ওসমান বার বার আইভীকে কটাক্ষ করে বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু দৃঢ়চেতা আইভী ওসমানদের এসব ষড়যন্ত্রকে কেয়ার না করে তিনি জনগণের কাছে ছুট গিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের জনগণও তার ডাকে ছুটে এসেছেন এবং বিশাল ব্যবধানে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটির ভোটারদের মতে ইভিএমের কারনে ভোট গ্রহণ ধীর গতিতে হওয়ায় মাত্র পঞ্চাশ শতাংশের কিছু বেশি ভোট কাস্ট হয়েছেন। কিন্তু তারপরেও আইভী প্রায় সত্তুর হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। আর যদি ভোট ঠিক মতো কাস্ট হতো তাহলে তিনি অন্তত লক্ষাধিক ভোটের ব্যাবধানে জিততেন বলেই এই নগরীর ভোটাররা মনে করেন। আর এটা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও দেখেছেন। 

 

তাই এবার নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে আইভীকে প্রাধান্য দিয়েই সকল কমিটি গঠনের স্বিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে নারায়ণগঞ্জে এবার মাফিয়া বা গডফাদারদের হাত থেকে ভালো মানুষদের হাতে এই দলের রাজনীতি চলে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইভীর হাতে নেতৃত্ব এলে এই জেলায় একেবারে কমে যাবে সন্ত্রাস। মাদক ব্যাবসা আর চাঁদাবাজীও কমবে। কারণ শামীম ওসমানের হাতে নেতৃত্ব থাকায় তার লোকজনই এই শহরে বেপরোয়া সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনে করেন রাজনীতির নামে সন্ত্রাস করে বেড়াচ্ছে শামীম ওসমান যাদেরকে পদে বসিয়েছেন তারা। তাই তারা গত এক দশকে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ শহর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ আর বন্দরের মানুষ। 

 

মেয়র আইভী যতোটা পারছেন ততোটাই প্রতিবাদ প্রতিরোধ করছেন। তারপরেও সন্ত্রাসীদের অনেকের দলীয় পদপদবী থাকায় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কাঙ্খিত ব্যাবস্থা নিতে পারছে না। ফলে এবার যদি আইভীর হাতে এবং তার লোকদের হাতে দলের নেতৃত্ব তুলে দেয়া হয় তাহলে পরিস্থিতি একেবারে পাল্টে যাবে। স্বস্তির নিশ^াস ফেলবে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ। আইভীর সাথে আনোয়ার হোসেন এবং আবদুল হাইয়ের মতো ভালো নেতারা আগে থেকেই রয়েছেন। কিন্তু তারপরেও শামীম ওসমানের অন্যায় এবং অন্যায্য দাপটে তারা বেশির ভাগ সময়ই কোনঠাসা হয়ে থাকেন। তাই আগামী দিনের রাজনীতিতে অজনপ্রিয় শামীম ওসমানকে মাইনাস করে যদি আইভীসহ দলের ভালো লোকদের প্রাধান্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করা হয় তাহলে দলের ভেতর এবং সাধারন মানুষের মাঝেও স্বস্তি ফিরে আসবে বলে নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল মনে করেন।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন