# সুবিধাভোগীদের প্রাধান্যে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ত্যাগীরা
শহর সংলগ্ন এলাকাগুলোর আওয়ামী লীগের কমিটিগুলোতে এমনিতেই সুবিধাবাদীদের প্রাধান্য। তাই এসব কমিটিগুলোকে শুদ্ধিকরণের অভিযানের দাবী করে আসছিল এসব এলাকার তৃণমূলসহ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতৃবৃন্দ। এর মধ্যে সবচেয়ে সোচ্চার ভূমিকা ছিল সদরের অন্তর্ভূক্ত বন্দর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মাঝেও। এমনকি সেখানে এখন আইভীর মতো নেত্রীকে ভীষণ প্রয়োজন বলেও মনে করেন সেখানকার তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এর আগে ইউপি নির্বাচনে যখন আওয়ামী লীগের একটি পরিবারের কারিশমায় জাতীয় পার্টির কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে। তখন থেকেই সেই পরিবারের প্রতি সাধারণ ভক্তদের বিতৃষ্ণার সৃষ্টি হয় এবং তৃণমূল আওয়ামী লীগের মনের মধ্যে একটি পরিবারের হাত থেকে আওয়মী লীগকে মুক্ত করার জন্য আকুতি শুরু হয়। এর আগে বন্দরের আওয়ামী লীগের পদধারী বেশ কিছু নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সেখানে সেই পরিবারের কারিশমায় যে শুধু জাতীয় পার্টির ক্ষমতাই বাড়ে তা নয়। বন্দর আওয়ামী লীগের পদধারী নেতৃবৃন্দের উছিলায় একই মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বসানো হয় প্রখ্যাত রাজাকার পরিবারের সদস্যদের। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, শোক দিবস এমন কি বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন কিংবা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসেও তাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের বসতে বাধ্য করা হয়। যা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নির্যাতিত, অবহেলিত ও ত্যাগী নেতাদের অন্তরে বিষের কাঁটার মতো মনে হতো। আর তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাধ্যমে এখানকার আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযানের দাবি চেয়ে আসছিলেন। তবে তারা আওয়ামী লীগের সেই পরিবারের কারিশমা এবং ক্ষমতার ভয়ে প্রকাশ্য হতে পারছিলেন না।
তবে এবারের ইউপি নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকেই প্রকাশ্যে এসব সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা যায় এবং পরে আবার এসব নেতাদের হুমকি ধামকি ও রোষানলে পড়ে তারা চুপসে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু ইউপি নির্বাচনের সময় এই পরিবার ও তাদের দোসর কিছু আওয়ামী লীগ নেতার প্রকাশ্য আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করার সময় আওয়ামী লীগের মনোনীত অনেক প্রার্থীকেই বলতে শোনা যায়, বন্দর আওয়ামী লীগে যদি মেয়র আইভীর মতো প্রতিবাদী একজন নেতা পাইতাম। তাহলে এখানকার আওয়ামী লীগকে হয়তো উদ্ধার করা সম্ভব হতো। আর তাদের সেই ডাকেই যেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মাঠে নামেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মাঠে থাকাকালীন সময়েও যেভাবে এসব সুবিধাবাদীরা প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নামেন তখন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সোচ্চা ভূমিকা রাখা শুরু করেন। শুধু তাই নয় এখানকার প্রতিটি আওয়ামী লীগ নেতার কর্মকান্ড তাদের পর্যবেক্ষণে আছে ঘোষণা দেয়ার হয়। এদিকে দলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে সঠিকভাবে কাজ না করার কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলে একটি ধারণা তৈরী হয়। ইতোমধ্যে কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। আর এর মাধ্যমেই ‘ওলটপালট’ হয়ে যায় নারায়ণগঞ্জ ও বন্দর আওয়ামী লীগের রাজনীতির চিত্র। সুবিধাবাদীরা এখন অনেকটা আতঙ্কে দিন কাটালে ফুরফুরে মেজাজে আছে তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা ত্যাগী নেতৃবৃন্দ।
এদিকে নির্বাচন-উত্তর পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন মাত্রা যোগ করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানো হবে এবং জেলা ও মহানগর কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়ার পর বন্দর আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, শুধু জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নয়, শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে আমাদের বন্দর আওয়ামী লীগকে নিয়েও। কারণ বন্দর এলাকাটি শহর সংলগ্ন হওয়ায় এখানকার কমিটিগুলোর উপর অনেকটাই জেলা ও মাহনগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর এজন্য এখানেও মেয়র আইভীর রাজনৈতিকক প্রভাব চান এখানকার আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদরা। এখানে শক্ত হাতে সুবিধাবাদীদের বলয়কে দমন করতে এর বিকল্প কিছু নাই বলেও মনে করেন তারা।


