Logo
Logo
×

রাজনীতি

জেলা পরিষদে সজ্জনদের প্রতিযোগিতা

Icon

শুভ্র কুমুদ

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:১০ পিএম

জেলা পরিষদে সজ্জনদের প্রতিযোগিতা
Swapno

 

# সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে নির্নয় হতে পারে মানদণ্ড
# সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয়ার কাজ শেষ করেছে কেন্দ্র


 

 নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার রাজনীতির লাগাম টেনে ধরেছে কেন্দ্র। উচ্ছৃঙ্খল, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এমন, দ্বিমুখী চরিত্রের আওয়ামী লীগ নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতারা। ইতিমধ্যে সেটি যে কথার কথা নয় সেটিও প্রমাণিত হয়েছে মহানগর ছাত্রলীগ, জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং মহানগর শ্রমিক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করার মাধ্যমে। সামনে আরো পরিবর্তন আসছে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতারা। এদিকে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বিদায় নিয়েছেন। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের কাজও প্রায় শেষদিকে।

 

 আর নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলেই সারা দেশের জেলা পরিষদ নির্বাচনগুলোর দিকে মনোনিবেশ করবে বলে জানিয়েছে সূত্র। সূত্র জানিয়েছে, গত নির্বাচন কমিশন চেয়েছিল জেলা পরিষদ নির্বাচনও তারা করবে, কিন্তু সময় স্বল্পতায় সেটি হয়ে ওঠেনি। এদিকে  জেলা পরিষদের বর্তমান মেয়াদকালও শেষ পর্যায়ে। নির্বাচন সঠিক সময়ে সম্ভব না হলে হয়তো তত্ত্বাবধায় হিসেবেও কাউকে স্বল্প দায়িত্ব দিতে হতে পারে। তবে নির্বাচনে আগামী ৫ বছরের জন্য জেলা পরিষদের আওয়ামী লীগের ত্যাগীদের মধ্যে কাউকেই স্থান করে দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্র।

 


সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে যে পরিশোধনের কাজ শুরু হয়েছে সেটির প্রভাব পড়বে জেলা পরিষদ নির্বাচনেও। এমনিতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে ক্লিন ইমেজের বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন  অন্যতম। গত সিটি নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হলেও প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হিসেবে তাকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী করা হয় এবং তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীও হন। গত ৫ বছরে জেলা পরিষদের  মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়নও তিনি সম্পন্ন করেছেন। এবারও তিনি জেলা পরিষদে থাকবেন না কি রাজনীতির অন্য কোন শাখায়  গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন তাও স্বল্প সময়ের মধ্যে জানা যাবে।



সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নারায়ণগঞ্জের সভাপতি বাবু চন্দন শীল। মনোনয়ন চাওয়াটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু তারা মনোনয়ন চেয়েছিলেন এই সিটি নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে লাগাতার কুৎসা রটনা করে। এমনকি  আইভী মনোনয়ন পাওয়ার পরও কেন্দ্র থেকে জোরালো চাপ না আসা পর্যন্ত তারা আইভীর পক্ষে নামেননি। এমনকি নামলেও তা বাধ্য হয়ে করা এমন কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। কেন্দ্রও তাদের এমন ভূমিকায় নাখোশ। আর খোকন সাহার তো একটি ফোনালাপের কারণে তিনি আরো বিতর্কিত। তাছাড়া আইভী জয়ী হওয়ার পরেও তাদের পক্ষ থেকে তেমন কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। ওসমানপন্থীদের তালিকা হতে তাদের নাম প্রত্যাশা করা হলেও কেন্দ্রের ডিমেরিটসের কারণে তারা জেলা পরিষদ নির্বাচনে তালিকায় থাকবেন না এমনটাই জানিয়েছে সূত্র।



সূত্র জানায়, জেলা পরিষদের আওয়ামী লীগের মনোনয়প্রার্থীদের মধ্যে জেলা প্ররিষদের সাবেক প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইও  তালিকায় রয়েছেন। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে থাকলে সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে নানা সমালোচিত এবং দলের বাইরের ব্যক্তি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান হওয়া এবং কমিটি বাণিজ্য নিয়ে নানা অভিযোগ উঠার কারণে আবদুল হাই তার অবস্থান আগের তুলনায় হারিয়েছেন বলে মনে করে সূত্র। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল ও আবদুল হাই মিলে জেলা কমিটিতে স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন এমন অভিযোগের স্তুপও কেন্দ্রে। এছাড়া বন্দর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ এবং সদরের কমিটি নিয়েও তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। সোনারগাঁয়ের আহবায়ক কমিটি তো বিতর্কের শীর্ষে অবস্থান করেছে। তবে সিটি নির্বাচনে আইভীকে মনোনয়ন দেয়ার পর দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি জেলা পরিষদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় থাকবেন বলে জানায় সূত্র।  
সূত্র বলছে, এবার জেলা পরিষদের আনোয়ার হোসেনের বাইরেও বেশ কিছু নাম অতি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় নেতারা বেশ কয়েকজন নেতার অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ফিরেছে। জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, জেলা যুব লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদিরও জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থীদের তালিকায় অন্যতম। দীর্ঘদিন অত্যন্ত সজ্জনভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি জড়িত। প্রয়াত জনবান্ধব নেতা আলী আহাম্মদ চুনকার মেয়ের জামাই হলেও তিনি আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজের কর্মগুনে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও কেন্দ্রীয় নেতা এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথে ছিলেন ছায়ার মতো। নেতৃত্বগুনে যুবলীগকে শক্তিশালী করার অতীত স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছেন তার।

 জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এড. আসাদুজ্জামান আসাদও রয়েছেন জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের হেভিওয়েট তালিকায়। বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন যখন ছাত্র রাজনীতিতে তোলারাম কলেজের সভাপতি ছিলেন তখন ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও এড. আসাদুজ্জামান আসাদ দায়িত্ব পালন করেছেন। পিপি হিসেবে দীর্ঘদিন অত্যন্ত ব্যক্তিত্বপূর্ণ এবং ক্লিন ইমেজের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে আওয়ামী লীগের জন্য তার গোটা রাজনীতির ব্যাপারটি কট্টর সমালোচকরাও নির্দ্বিধায় স্বীকার করে। দলের জন্য নিবেদিত হয়ে সিটি নির্বাচনেও তার ভূমিকা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের  হেভীওয়েট তালিকায় রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, বিজেএ’র ভাইস চেয়ারম্যান আরজু রহমান ভূঁইয়া।  পারিবারিক গৌরবের সাথে তিনি তোলারাম কলেজের ভিপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত এই আওয়ামী লীগ নেতারও নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে সংঘটিত করতে তিনি ৫৪টি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনসাধারণের মাঝে তুলে ধরেন যা জাতীয়ভাবেও প্রশংসিত হয়। এবারের সিটি নির্বাচনেও তার ভূমিকা কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রশংসা কুঁড়িয়েছে।

সূত্র জানায়, আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে হট ফেভারিট তালিকায় এই সজ্জন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের নিয়েই ভাবছেন কেন্দ্র। তাদের সম্পর্কে জানা থাকলেও আরো ভালভাবে খোঁজখবর নেয়ার কাজও ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে কেন্দ্র। জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই যাতে সহজেই যোগ্য প্রার্থীকের বেঁছে নিতে পারে সেজন্যই সিটি নির্বাচনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারাও সে কাজটি সেরে ফেলেছে। এখন শুধু অপেক্ষা তফসিল ঘোষণার।  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন