# নাসিক নির্বাচনে বন্দরের ৯টির ৫টিতেই নতুন মুখ
নারায়ণগঞ্জ সদরের অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় বন্দর উপজেলা নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এমনিতেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও বন্দর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বন্দরকে ওসমান পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্গেট হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে তারা একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করেন। আর তাই বন্দরে আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশী জনপ্রিয় ওসমান লীগ।
যার প্রমাণ ৮০’র দশকের পর থেকে ওসমান পরিবার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে টার্গেট করে সাংসদ হওয়ার চেষ্টা ও অর্জন। যেই আসনটি শহরের সাথে সাথে পুরো বন্দর জুড়ে অবস্থান, তাকে কেন্দ্র করেই ওসমান পরিবারের রাজনৈতিক আধিপত্যের উত্থান বলে মনে করেন রাজনৈতিক সচেতন মহল। আর ওসমান পরিবার তাদের নারায়ণগঞ্জ এর রাজনীতিতেও বন্দরের আধিপত্যের উপর অনেকটাই নির্ভর বা ভরসা করেন। আর তাইতো বন্দর আওয়ামী লীগের যেকোন কমিটিতে জায়গা পাওয়ার জন্য শুধুমাত্র ওসমান পরিবারকে তুষ্ট করতে পারলেই যথেষ্ট। সেখানে রাজনৈতিক যোগ্যতা কিংবা দলের জন্য ভূমিকার তেমন কোন গুরুত্ব থাকে না।
শুধুই কি তাই? বন্দরে ওসমান পরিবার তাদের প্রাধান্য বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের সাথে সাথে প্যারালাল করে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করায় জাতীয় পার্টির রাজনীতি, এবং কৌশলে সেখানে তারা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে মিলেমিশে একাকার করে ফেলে। যাতে করে দলের তৃণমূল ও ত্যাগী নেতারা কোন প্রকার মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। আর তাইতো বন্দরের জাতীয় পার্টির নির্ধারক ও আওয়ামী লীগের নির্ধারক কে হবেন একটি পক্ষ থেকেই তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। যা বন্দরের গত ৮০’র দশকের পর থেকে এযাবত কালের সকল স্থানীয় নির্বাচনের চিত্র যাচাই করলেই বুঝা যায়। তবে সদ্য অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর নির্বাচনে সম্পূর্ণ নতুন চিত্র দেখা যায়। বন্দরে নাসিকের ৯টি ওয়ার্ড অবস্থিত। এর মধ্যে কাউন্সিলর পদে মাত্র একটিতে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী। ২টিতে জয়ী হয়েছেন জাতীয় পার্টির সমর্থক এবং অন্যদের মধ্যে একজন দলনিরপেক্ষ ছাড়া বাকি সব বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তারচেয়েও বড় কথা বন্দরে হেভি ওয়েট প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ওসমান পরিবারের তিনি সমর্থকের মধ্যে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারেন মাত্র একজন। যা বন্দর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের পতনের প্রথম ইঙ্গিত বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।
বন্দর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র জানায়, নাসিক ২২ নং ওয়ার্ডের খান মাসুদ, ২৩ নং ওয়ার্ডের দুলাল প্রধান ও ২৪ নং ওয়ার্ডের আফজাল সবসময়ই ওসমান পরিবারের খুব কাছের লোক হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে খান মাসুদ ও দুলাল প্রধান আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন এবং আফজাল হোসেন জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেন।
তারা এতটাই ওসমান ভক্ত যে, মাস তিন আগে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে ওসমান ভক্ত আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা (খান মাসুদ ও দুলাল প্রধান) নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রভাবশালী সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের আহবানে সাড়া দিয়ে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। সে সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা তাদের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করার জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রতি আহবান জানানোও হয়। সেই নির্বাচনে ওসমান পরিবার সরাসরি জাতীয় পার্টির নেতাদের এমনকি রাজাকার পরিবারের সদস্যদেরও সমর্থন জানান। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সাপোর্ট না করে তাদের বিরোধিতা করেন। আর নাসিক নির্বাচনে যখন মেয়র পদের নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন তখন আওয়ামী লীগের এখানকার চিত্র দেখে তারাও বিস্মিত হন। আর সেই নির্বাচনে ওসমান পরিবারের এই ভক্তদের ভরাডুবি হয়। যেখানে বিএনপির কাউন্সিলরের ছড়াছড়ি।
নাসিকের শহরে অবস্থিত ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে যেখানে মাত্র তিনটির মতো কাউন্সিলর নতুন মুখ সেখানে বন্দরের মাত্র ৯টিতে নতুন মুখ ৫টি। এর মধ্যে ২৭ নং ওয়ার্ডের পূর্বের কাউন্সিলরের মৃত্য হওয়ায় নতুন মুুখ আসছে। এর মধ্যে সেই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অনেক চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দৃঢ়তায় সেটা আর সম্ভব হয়নি। তাই আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে এটাকে আশিবার্দ হিসেবে দেখতে চাইছে এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযান কামনা করছেন। তাদের দাবি এখানে যদি কেন্দ্র ঠিকমতো নজরদারী করেন তাহলে ওসমান পরিবারের শক্তি খর্ব হতে বাধ্য।


