নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের শেষ পর্যায় এসে নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যে এবার ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সকলকে একত্রিত করার জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সরাসরি এই নির্বাচনের দায়িত্ব নেওয়ায় এবং দলের স্বার্থে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকৃত আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীদের সকল ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত করার জন্য একটি ভূমিকার রাখার দৃশ্য ভেসে উঠায় তৃণমূল আওয়ামী লীগসহ নারায়ণগঞ্জ বাসীর মনে এমন ধরণের একটি আকাঙ্খা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন শেষে দেখা যাচ্ছে যেই লাউ সেই কদুতেই রয়ে গেল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অবস্থা।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অন্যতম ধারক ওসমান পরিবারের অন্যতম সদস্য একেএম শামীম ওসমানের একের একের পর এক নাটকের মধ্যদিয়ে সেটি যেন আরো বেশী করে প্রকাশ পাচ্ছে। আর শামীম ওসমানের এসব অতি নাটকীয় বিষয় সমুহ আবারও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে বিতর্কিত অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
যদিও নাসিক নির্বাচনে কেন্দ্রের তদারকী ও হস্তক্ষেপে নির্বাচন সংক্রান্ত ওসমান পরিবারের ভূমিকা নিয়ে একটা কভারেজ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া ইউপি ও সিটি নির্বাচনে ওসমান পরিবারের একান্ত ভক্ত কিছু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা, নির্বাচনে সরাসরি বন্দর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যনদের অবস্থান ছিল ওসমান পরিবারের কলুষিত রাজনীতির কিছু প্রতীক। এসব নেতাকর্মীরা সরাসরি ওসমান পরিবারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। এসব চেয়ারম্যানরা সরাসরি ওসমান পরিবারের হুকুমের ভক্ত হিসেবে পরিচিত। বলা চলে এসব চেয়ারম্যানদের হাতে ধরে চেয়ারম্যান বানিয়েছেন ওসমান পরিবার। তাই তাদের এসব কর্মকাণ্ডে ওসমান পরিবারের সরাসরি হস্তক্ষেপ আছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বোদ্ধারা।
এবারের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের পূর্ব থেকেই নাসিক নির্বাচনে ষড়যন্ত্র চলছে বলে জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগসহ নারায়ণগঞ্জ রাজনৈতিক মহলের সচেতন ব্যক্তিরা। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও আদ্যপান্ত লেখালেখি হয়েছে। নির্বাচনের আগের সকল নাটক, নির্বাচন শুরুর নাটক, নির্বাচন চলাকালের নাটক সর্বোপরি নির্বাচন নিয়ে ওসমান পরিবার থেকে যে ধরণের কর্মকাণ্ডের সৃষ্টি করা হয়েছে তাতে শুধু নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগই নয়, হতভম্ব হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও।
আর তাদের এমন কর্মকাণ্ডকে ঘরের শ্রত্রু বিভীষণ আখ্যায়িত করে শুধুমাত্র এইজন্যই এবার মেয়র নির্বাচনের সহজ জয়টাও অনেক পরিশ্রম করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আওয়ামী লীগের মতো একটি দলকে জিততে হয়েছে। তা-ও নারায়ণগঞ্জ শহর, যেখানে আওয়ামী লীগের তুমুল জনপ্রিয়তা এবং বিস্তর দাপট। আওয়ামী লীগের পুরোনো শত্রুতা যেটা শুরু হয়েছে সেই যুদ্ধের পরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আমল থেকেই। সেই শত্রুতা নিরসনে এবারের নেতাকর্মীদের মনে একটি আশার জাগরণ ঘটেছিল। যদিও নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মেয়র হিসেবে আইভীর পক্ষে না হলেও নৌকার পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন সাংসদ শামীম ওসমান। আনন্দের সহিত দিতে না পারলেও অনেক কষ্টে সমর্থন দিয়েছেন বলে ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি তারপরও দলের অবহেলিত, নিপীড়িত ও অত্যাচারিত তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের আশা ছিল এবার হয়তো হবে।
দলের শুদ্ধির মাধ্যমে হয়তো আবারও সেই হারানো জৌলুস ফিরে পাবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ। হয়তো অস্তিত্ব রক্ষার্থে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে দুই মেরু একত্রিত হবে। কিন্তু কি করে কি হবে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ এখন যেন সেই চুম্বকীয় তত্ত্ব মেনে চলার শপথ নিয়েছেন। যেই তত্ত্বের নিয়ম অনুযায়ী সমমেরু কখনো পরস্পরকে আকর্ষণ করে না, বিকর্ষণ করে। আর তাইতো একের পর এক নাটক ও সংবাদের জন্মদিয়ে এখনও নিজের প্রভাব জাহিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঐতিয্যবাহী ওসমান পরিবারের প্রভাবশালী সাংসদরা। যাতে সেই শক্তির লড়াইয়ের দৃশ্যমান ইঙ্গিত পাচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসী। এমনকি তাদের যেসব সুবিধাবাদীরা প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করছে তাদের পক্ষে সাফাই গাওয়াসহ নিপীড়িতদের পুনরায় হুমকী দিয়ে তার পূর্ব কর্মসূচী বহাল রাখারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।


