পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত আড়াইহাজারে বিএনপির রাজনীতি
আড়াইহাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৪০ এএম
আড়াইহাজারে হঠ্যাৎ করেই উত্তপ্ত বিএনপির রাজনীতি। একের অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যেকোন সময় পরম্পরের মধ্যে বড় ধরনের হামলা-পাল্টা হামলার আশঙ্কা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দলটির তৃণমলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দিনভর উত্তেজনামূলক বাধ্য বিনিময় করতে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি আড়াইহাজার উপজেলাসহ দুই পৌরসভায় বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে উপজেলা বিএনপির কমিটিতে অনেক ত্যাগী নেতারই ঠাঁই হয়নি বলে অভিযোগ ওঠেছে। অনেকেই দাবি বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাকে বাদ দিয়ে নতুন অনেকেই কমিটিতে ঠাঁই করে নিয়েছেন। পদ-বঞ্চিতরা এর প্রতিবাদে ২৯ জানুয়ারী স্থানীয় দক্ষিণপাড়া এলাকায় বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবু’র বাড়িতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। পরে বিএনপির নেতা শামীম মোল্লার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
এদিকে এর প্রতিবাদে গতকাল ৩০ জানুয়ারী স্থানীয় চামুরকান্দি এলাকায় উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির আহবায়ক হাজী ইউছূফ আলী ভূঁইয়ার বাড়িতে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সদ্য ঘোষিত উপজেলা কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক আফজাল হোসেন ভূঁইয়া, মতিউর রহমান মতিন ও মাছুম শিকারীসহ আরও অনেকে। এদিকে সদ্য ঘোষিত উপজেলা কমিটির ব্যাপারে সরেজমিন গিয়ে আলাপকালে উপজেলা বিএনপির নেতা শাহআলম মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন পর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কিন্তু কমিটিতে অনেক সিনিয়র ও ত্যাগী নেতার ঠাঁই হয়নি। যারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিএনপির রাজনীতি করছেন; এমন অনেক নেতাকেই বাদ দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটি বভিষ্যতে খুব এটা ভালো ফল বইয়ে আনতে পারবে না। আলাপকালে জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোল্লা বলেন, কমিটিতে যাদের নাম রয়েছে। তাদেরকে অনেকেই অপরিচিত মুখ। অথচ তারা উপজেলা কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন। এখানে অনেক সিনিয়র নেতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আড়াইহাজার পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক পল্লী চিকিৎসক জসিম উদ্দিন বলেন, কমিটিতে যারা ঠাঁই পেয়েছেন। তারাই মাঠে ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। তারা নির্যাতিত। আজাদ বিপদগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, তবে আনোয়ার হোসেন অনুকে কমিটিতে ঠাঁই না দেওয়ায় আমি কষ্ট পেয়েছি। অনু নেতাকর্মীদের অতীতে অনেক সহযোগিতা দিয়েছেন।
এদিকে কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভিতরে ভিতরে উত্তেজনা চলছে। তারা দফায় দফায় মিটিং করে যাচ্ছেন। কমিটির ব্যাপারে তারা নানা পদক্ষেপও নিচ্ছেন। দলটির হাইকমান্ডকে বিষয়গুলো অবহিত করে যাচ্ছেন। গতকাল বিভিন্ন এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাধ্য বিনিময় করতেও দেখা গেছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্রমেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। এতে যেকোন সময় বড় ধরনের হামলা-পাল্টা হামলার আশঙ্কা রয়েছে। অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবু বলেন, নবগঠিত এই কমিটি বাদ দিয়ে, যারা ত্যাগী নেতা, তাদের ঠাঁই দেওয়া হোক। কাউন্সিল করে কমিটি করা হোক।
তিনি অভিযোগ করেন, বতর্মান কমিটির আহবায়ক ইউছূফ আলী ভূঁইয়া ১৪ বছর এলাকার বাইরে ছিলেন। তিনি আড়াইহাজার বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার নামে কোন রাজনৈতিক মামলাও নেই। তিনি কিভাবে কমিটির আহবায়ক হলেন। তিনি আরও বলেন, আমার নামে ২০টির অধীক মামলা রয়েছে। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, ৩১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা বিএপির কমিটিতে লুৎফর রহমান আব্দু ও মতিউর রহমান মতিন নজরুল ইসলাম আজাদের আপন চাচা। খোরশেদ আলম তার চাচাতো চাচা। তাকেও এই কমিটিতে রাখা হয়েছে।
এছাড়াও মোহাম্মদ উল্যাহ লিটন নামে একজনের নাম ছাত্রদল জেলা ও পৌরসভা কমিটি থাকার পরও তাকে ফের উপজেলা কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক। এদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী মাহমুদুর রহমান সুমন বলেন, তৃণমুলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ১৪ বছর ধরে যারা নির্যাতিত হয়েছেন। তারা কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন।
তারাই এখন আন্দোলন করছেন। তবে এই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির প্রায় ৯৫শতাংশ নেতাকর্মীর সমর্থন রয়েছে বলে আমার মনে হচ্ছে। তবে আমি বিষয়টি নিভৃত করার চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, আমি জানতে পারলাম একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে কমিটিতে আহবায়ক করা হয়েছে। যিনি অতীতে তার নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। আমি বিষয়টি কেন্দ্রে জানাবো। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি দল অংশ নেয়; তাহলে আমিই দলীয় মনোনয়ন পাবো এটাই শতভাগ নিশ্চিত। তবে এই ব্যাপারে জানতে বর্তমান কমিটির আহবায়ক ইউছূফ আলী ভূঁইয়ার মোবাইলে কল করা হয়। কিন্তু তিনি কল রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


