ঘুরে দাঁড়াচ্ছে জেলা বিএনপি, পুনর্গঠনের অপেক্ষায় মহানগর
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:২৯ পিএম
দীর্ঘ এক যুগ পরে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি'র আওতাধীন ১০টি ইউনিট কমিটি গঠন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পূর্ণগঠনের অপেক্ষায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ চার বছর যাবৎ না'গঞ্জ মহানগর বিএনপি'র কমিটি থাকলেও ইউনিট কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। তবে জেলার ইউনিট কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে নতুন করে পদ- পদবী পেয়ে আবারও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে তৃনমুল নেতাকর্মীরা। আর মহানগর কমিটির কোন ইউনিট কমিটি গঠন না হওয়াতে নেতাকর্মীদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ এমনটাই জানা গেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের সূত্রে।
জানা গেছে, দীর্ঘ এক যুগ পরে হলেও একসাথে এই প্রথম নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি'র আওতাধীন পাঁচটি থানা ও পাঁচটি পৌরসভা কমিটি গঠন করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন ও সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আওতাধীন ১০টি ইউনিট কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বিএনপি সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার। তৈমুর আলম পথ বাণিজ্য ও নিজের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে কমিটি গঠন করেও তা অনুমোদন দেয়নি। আর কিন্তু সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করে দল থেকে পুরোপুরি বহিষ্কার হন তৈমুর আলম খন্দকার। এরপরে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় মনিরুল ইসলাম রবিকে আর রবিও তৈমুর আলমের পথেই হাঁটেন। কিন্তু সিদ্ধিরগঞ্জ থানার হেফাজতের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে। এরপর দলের দায়িত্ব দেওয়া হয় অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক নাসির উদ্দিনকে। নাসির উদ্দিন আহ্বায়ক হয়ে সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে নিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই রূপগঞ্জ থানা কমিটির থাকা যে সমস্যা তা সমাধান করে দশটি কমিটির ইউনিট কমিটি ঘোষণা করেন। ইউনিট থাকা থানা ও পৌরসভা নেতাকর্মীরা পদ- পদবী পেয়ে উজ্জীবিত। আগামী দিনে বিএনপির ঘোষিত যেকোনো কর্মসূচির ডাক আসলে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়েই ঘুরে দাঁড়াবে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা এমনটাই জানা গেছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি সীমানা জঠিলতা নিয়ে আদালতে মামলা ও নেতাদের মধ্যে নিজেদের কোন্দলের কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। নেতায় নেতায় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার কারণেই মূলত মহানগর বিএনপি'র এ করুণ দশা। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে মহানগর বিএনপি'র কমিটি থাকলেও করতে পারেনি ওয়ার্ড ও থানা কমিটি। মহানগর বিএনপি'র সভাপতি সাবেক এমপি এড. আবুল কালাম দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ হয়ে নিজ গিয়ে বসবাস করছেন। বিএনপি'র হাতেগোনা কয়েকটি কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে । আর মহানগর বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক সদ্য বহিষ্কৃত নেতা এটিএম কামাল দীর্ঘ প্রায় দুই বছরেরও অধিক সময় আমেরিকায় সুদূর প্রবাসে কাটিয়েছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে তিনি দলের প্রতি ছিলেন না তার কোন অগাধ ভালোবাসা। দলের চেয়ে বেশি তিনি নিজের স্বার্থকেই বেশি প্রাধান্য দিতেন তিনি। তাইতো দল নির্বাচনে না গেলেও দলের নাম ভাঙিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া আর বিএনপির বহিস্কৃত নেতা তৈমুর আলম খন্দকারের নির্বাচনে প্রধান এজেন্ট হয়ে কাজ করেন এটিএম কামাল। তাই তো তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অসুস্থ সভাপতি এড. আবুল কালাম আর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টুকে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর সেন্টুও শারীরিকভাবে অসুস্থ। মহানগর বিএনপি'র মতন সাধারন সম্পাদকের ভার বর্তমানে তার উপর মরার উপরে খাঁড়ার ঘায়ের মতো যেনো দাঁড়িয়েছে। এমনতো অবস্থায় মহানগর বিএনপি'র পুর্ণগঠনের দাবি জানিয়েছেন মহানগর বিএনপি'র নেতাকর্মীরা। নতুন করে মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন হলে মহানগর বিএনপিও ঘুরে দাঁড়াবে এমনটাই জানা গেছে।


