Logo
Logo
×

রাজনীতি

কালাম-সেন্টুর উপরই মহানগর বিএনপির গুরু দায়িত্ব

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৩৪ এএম

কালাম-সেন্টুর উপরই মহানগর বিএনপির গুরু দায়িত্ব
Swapno

#ধুকতে থাকা বিএনপিকে টিকে থাকতে হলে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই

 

তৈমূর আলম খন্দকার ও  তার পরিবারকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একটি অংশ রাজনীতিতে সরব ছিল। তবে সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দলের বারোটা বাজানোয় বিএনপির উপদেষ্টার পদ, জেলা বিএনপির আহবায়কের পদ এমনকি সদস্য পদও হারিয়েছেন তৈমুর। আর তার ছোট ভাই সাবেক যুবদল নেতাকে আরো আগেই দলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে বিএনপি। তৈমূরপন্থীদের কপালে জোটেনি বিএনপির কোন দায়িত্ব।

 

তবে তৈমূরকে সিটি নির্বাচনে সহযোগিতা করার দায়ে বহিষ্কার হয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালও। যদিও দেশে ফিরে তৈমূরের নির্বাচন করার আগে বছর দুয়েক তিনি সুদূর আমেরিকাতেই অবস্থান করছিলেন। তার সময়ে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যুগ্ম সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টু। তৈমূর-এটিএম কামালের সাথে বিএনপির হিসেবে নিকেশ চুকে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা আবারও শুরু হয়েছে নতুন দমে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হাজী জালালউদ্দীনের ছেলে সাবেক এমপি আবুল কালামের হাত ধরেই মহানগর বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানো নির্ভর করছে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টুও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অতীতে দারুণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের হাতেই এখন মহানগর বিএনপির ভবিষ্যত। কেননা, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ঐক্যের রাজনীতি বাদ দিয়ে একাই সব এমন রাজনীতিতে হাঁটছেন। যার দরুণ ঐক্যবদ্ধ মহানগর বিএনপির প্রত্যাশা করছেনা খোদ বিএনপির তৃণমূল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, ফখরুল ইসলাম মজনু, হাজী নুরউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু এই চার বিএনপি নেতাও তৈমূর আলম খন্দকার প্রার্থী হওয়ার আগে ও পরে তার সাথে ছিলেন। দল যখন তৈমূর আলম খন্দকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করে, তারপরেও তারা তৈমূরের পক্ষে ছিলেন সরব।

 

তৈমূর ও এটিএম কামালকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসলেও রহস্যজনক কারণে মহানগর বিএনপির এই চারনেতার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নিতে দেখা যায়নি কেন্দ্রীয় বিএনপিকে। তৃণমূল বিএনপির কর্মীরা বলছে, কেউ পাবে, কেউ পাবেনা, তা হবেনা, তা হবেনা। এই কথাটি যেন ঠিক রাখতে পারেনি কেন্দ্র। তৈমূর ও এটিএম কামাল যদি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোন দোষ করে থাকে, তবে মহানগর বিএনপির ওই চার নেতারও একই দোষ রয়েছে। তবে তাদের দুজনকে শাস্তি দেয়া হলেও, কোন শাস্তির আওতায় আসেনি মহানগর বিএনপির কয়েক নেতা।


সূত্র বলছে, মহানগর বিএনপির অবস্থা এমনিতেই নানা বলয়ে বিভক্ত হওয়ার কারণে নাজুক ছিল। যতখানি সাংগঠনিক অস্তিত্ব টিকে আছে তা কেবল সাবেক এমপি ও মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টুর বদন্যতায়। সহসভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান তার নিজস্ব গুটিকয়েক লোক নিয়েই রাজনীতিতে ব্যস্ত। মামলার দরুণ মহানগর বিএনপির যেই স্থগিতাদেশ রয়েছে সেটির নেপথ্যে সাখাওয়াত হোসেন খানকে দায়ী করেন মহানগর বিএনপির নেতারা।

 

তারা বলেন, কৌশলে তার অনুসারীদের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের দুইজনকে নিয়েই সীমান জটিলতাসহ নানা অভিযোগে মহানগর কমিটির বিরুদ্ধে মামলার ব্যবস্থা করে দেন সাখাওয়াত। যদিও সাখাওয়াত হোসেন খান সেটি বরাবরই নাকচ করে দিয়েছেন। কিন্তু  এখান থেকে মহানগর বিএনপির পরিত্রাণের জন্যও তিনি কিছু করেননি। মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম অন্তত নিজের বাড়িতে তৃণমূল কর্মীদের বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সামনে তাদের উপরই নির্ভর করছে মহানগর বিএনপির ভাগ্য।   নারায়ণগঞ্জ মহানগর বর্তমান কমিটি প্রায় ৪ বছর আগের। মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও এখনো পর্যন্ত গঠন করা সম্ভব হয়নি নতুন কমিটি। মামলার জঠিলতার থমকে আছে নতুন কমিটি।

 

২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সাবেক এমপি এড. আবুল কালামকে সভাপতি ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৩সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিলো। এরপর ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ১৫১সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন