রাজনীতির শুদ্ধিকরণে আইভীর ১ম ইনিংস শেষ হয়ে ২য় ইনিংস শুরু
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:১৯ এএম
# নেতৃত্বে আসছেন শুদ্ধ ইমেজের গোলাম দস্তগীর গাজী, নজরুল ইসলাম বাবু, আব্দুল কাদির, আনিসুর রহমান দিপু
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি শুদ্ধিকরণে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সংগ্রাম ও আন্দোলনের প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে এখন দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হয়েছে। বিগত ২০০৩ সালে আইভী নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর শুরু হয়েছিল ১ম ইনিংস, গত ১৬ জানুয়ারী নাসিক ৩য় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে তা শেষ হয়েছে। ১৮ বছর দীঘর্ এই ইনিংসে আইভী নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিরাজমান অপশক্তিকে চিহ্নিত করে সেই অপশক্তিকে গণবিচ্ছিন্ন করেছেন।
রাজনৈতিক শক্তিকে কুক্ষিগত করে যারা সন্ত্রাসী বাহিনী সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করেছিল এবং সেই সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে চাঁদাবাজী, ভূমিদস্যূতা ও অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ও গাড়িবাড়ি হাসিল করেছিল। যারা এ শহরে তাদের আধিপত্যকে ধরে রাখতে সাধারণ মানুষের উপর জুলুম, অত্যাচার এমন কি হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করেনি।
রাজনীতিকে যারা আধিপত্য ধরে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড়, এ মহান আদর্শকে পদদলিত করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টি করেছে। এরা নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে ভয় পায় এবং স্বাভাবিক নেতৃত্ব গুণে কাউকে মাথা তুলতে দেখলে অঙ্কুরেই তার বিনাশ করে। যেমন, মনিরুজ্জামান মনির, নূরু মিয়া চৌধুরী বাচ্চু ও সাইদুল হাসান বাপ্পি। বিগত ১৮ বছরে আইভী নিরন্তর সংগ্রামের মাধ্যমে এদেরকে চিহ্নিত করেছেন, গণবিচ্ছিন্ন করেছেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে এদের মুখোশ উন্মোচিত করেছেন। এবার নাসিক নির্বাচন পরিচালনা করতে এসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও জেনে গেছেন, তাদের দলের মধ্যেও এমন অপশক্তির অধিবাস এবং এ অপশক্তিই এখানে দলকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। এরা তাদের আরাধ্য নেতার তুষ্টিতে দলীয় প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীর আদেশ নির্দেশকেও অবমাননা করতেও কুন্ঠিত নয়।
শেখ হাসিনা আইভীকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিলেও শামীম ওসমানের আঙ্গুলী হেলনে এরা আইভীর বিরোধিতা করেছে। এ কারণেই কেন্দ্রীয় নেতারা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ভেঙ্গে দিয়েছেন এবং মহানগর আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন। উপরন্তু কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে পুরো দলকেই ঢেলে সাজানো হবে। ব্যক্তিপূজারীদের আর দলে রাখা যাবে না। কারণ, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল। তিন তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে আইভী প্রমাণ করেছেন তিনি একজন দক্ষ সংগঠক। এজন্য আইভীর ই”্ছা বা পচ্ছন্দকে প্রাধান্য দিযে আগামীর কমিটি গড়া হবে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, অচিরেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে সভাপতি হয়ে আসছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আসছেন নজরুল ইসলাম বাবু এমপি। কোন কারণে এর ব্যত্যয় ঘটলে সভাপতি পদে আসতে পারেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তবে নারায়ণগঞ্জের তৃণমুল নেতাদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পছন্দ এড. আনিসুর রহমান দিপুকে। এই কমিটিতে মন্ত্রী গোলাম দস্তীর গাজীর ছেলে গোলাম মর্র্তুজা পাপ্পাকেও দেখা যেতে পারে বলেও সংম্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন। এদিকে না’গঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা চাচ্ছেন না’গঞ্জ জেলা যুবলীগ সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগ সহ সভাপতি আবদুল কাদিরকে। মুক্তিযোদ্ধা এই নেতা ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে সক্রিয়।
তিনি একজন ক্লিন ইমেজের সজ্জন রাজনীতিবিদ। এই পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ আনতে পারেনি। তিনি কারো সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করেন না। আবার দলের স্বার্থে কাউকে ছাড়ও দেন না। ১৭ বছর ধরে তিনি যুবলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।এর মধ্যেই তিনি কোন কমিটি বাণিজ্যে জড়ান নি। কোন স্বজন প্রীতিও করেননি। সদ্য সমাপ্ত নাসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে তার জড়ালো ভূমিকা ছিলো। দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে তিনি দিন রাত পরিশ্রম করেছেন। তৃণমূল নেতারা মনে করেন আব্দুল কাদিরকে সভাপতি করলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ আরো শক্তিশালী হবে এবং অতীত বিতর্কের অবসান ঘটবে। শ্রদ্ধেয় হবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ রাজনীতি।


