তৈমূর ও এটিএম কামালকে নিয়ে কাউন্সিলর দিনা’র আবেগঘন স্ট্যাটাস
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:২০ পিএম
সদ্য বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার ও মহানগর বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও নাসিক ৭,৮,৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর আয়েশা আক্তার দিনা।
তিনি তার স্ট্যাটাসে লিখেন, আমি জানিনা আমার এই স্ট্যাটাসটি বিএনপির কেন্দ্রের কোন সিনিয়র নেতার চোখে পড়বে কিনা তবে অনুরোধ রইলো যারা বিএনপি করেন তারা দয়া করে আমার আজকের লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।আজকে আমি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির দুই জন নেতাকে নিয়ে এই লেখাটি লেখছি একজন হলেন তৈমুর আলম খন্দকার সাহেব আরেক জন হলেন এ টি এম কামাল সাহেব।যাদের দুই জনকেই ইতিমধ্যে বিএনপি থেকে কেন্দ্র বহিষ্কার করেছে।তারা দুইজনই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি তে এতটাই ত্যাগী এবং আওয়ামী সরকার দ্বারা এতটাই নির্যাতিত যার বয়ান একদিনে লিখে বা একটি আলোচনায় বসে শেষ করা যাবেনা। তাদের কি কারনে বহিষ্কার করা হলো???? বহিষ্কার এর কারন হলো তৈমুর ভাই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছেন আর এ টি এম কামাল ভাই এর অপরাধ হলো তিনি তৈমুর ভাই এর নির্বাচনে নির্বাচনী এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। সন্মানিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তারা কি অনেক বড় অপরাধ করে ফেলেছে??? বাংলাদেশের বিএনপির রাজনীতিতে কখনোকি আর কেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে নাই??? তাদের কাউকে কি আপনারা বহিষ্কার করেছিলেন?? কুমিল্লার সিটি নির্বাচনে সাক্কু ভাই যখন দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করলো তখন দেখলাম ভিন্ন চিত্র তাকে বহিষ্কার করার বদলে কেন্দ্রীয় অনেক নেতৃবৃন্দ তার নির্বাচনী প্রচারণা করতে কুমিল্লা গিয়েছিলেন।সাক্কু ভাই পাশ করলেন তাকে নিয়ে আমরা সবাই গর্ব বোধ করলাম।অথচ উনি পাশ করেই তখন ছুটে গিয়েছিলেন গন ভবনে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে একেবারে পায়ে ধরে সালাম করে সাচ্চা জিয়ার সৈনিক হয়ে গেলেন।তাকে বহিষ্কার করা তো দুরে থাক একটা টু শব্দ ও তার বিরুদ্ধে তখন হয় নাই। অথচ তৈমুর ভাই এর বেলায় এর ঠিক উল্টো আচরন হলো।আমরা যদি একটু সংক্ষিপ্ত ভাবে তৈমুর ভাই এর বিএনপির রাজনৈতিক ত্যাগের বয়ান করতে যাই তাহলে একটু পিছন দিকে তাকাতে হবে।২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সারা বাংলাদেশে সন্ত্রাস দমনে এগিয়ে যাচ্ছিলো তখনই তৈমুর ভাই এর আপন ভাই সাব্বির আলম খন্দকার নেত্রীর ঐ পদক্ষেপে একাত্মতা প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তুখোর বক্তব্য রাখলেন এবং এর পরপরই সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন তৈমুর ভাই এর আপন ভাই সাব্বির আলম খন্দকার। আমাদের দল তখন ক্ষমতায় আমাদের ভাই সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হলো অথচ আজোও তৈমুর ভাই এবং তার পরিবার ভাই হত্যার বিচার পেলো না।ওয়ান ইলেভেনের সময় তৈমুর ভাই এরেস্ট হলেন।তাকে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে স্ট্যাটমেন্ট দেওয়ানোর জন্য অনেক নির্যাতন করা হলো নিরবে সব নির্যাতন মাথা পেতে নিলো কিন্তু জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে কখনো একটি টু শব্দ ও করেনি। প্রচন্ড টর্চারিং এর স্বীকার হয়েও দলের প্রতি ছিলো মজবুত ঈমানদারী।এতটা নির্যাতিত হওয়ার পরও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তৈমুর ভাই নারায়ণগঞ্জের কোন আসন থেকেই দলীয় নমিনেশন পাননাই।২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হওয়ার পর দলের দুঃসময় নেমে আসলো। চারিদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামীলীগ দ্বারা প্রশাসন দ্বারা হামলা মামলার স্বীকার হতে থাকলো। ভয়ে যখন কেউ নেতৃত্ব নিতে চায়না তখন দল তৈমুর ভাইকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব দিল।দলের প্রতি অন্ধ ভালোবাসার শৃঙ্খলে আবদ্ধ তৈমুর ভাই নারায়ণগঞ্জের নেতা কর্মিদের নিয়ে শুরু করলো রাজ পথের আন্দোলন।প্রতিটা আন্দোলনে তৈমুর ভাই এর পাশে ছিলো এ টি এম কামাল ভাই। পুলিশ রাজপথে আসার আগেই তৈমুর ভাই বিভিন্ন ওয়ার্ড এর নেতা কর্মিদের নিয়ে ভোর ৪ টা থেকেই আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জের রাজপথের গুরুত্বপূর্ন পয়েন্টে অবস্থান করতেন। পুলিশ তৈমুর ভাই কে ইচ্ছামত ঘাড়ে পিঠে পায়ে মোটা রুলার দিয়ে পিটাচ্ছে এদিকে তৈমুর ভাই মার খাচ্ছে আর বলিষ্ঠ কন্ঠে স্লোগান দিচ্ছে জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই করো,,,,,, আমরা সবাই জিয়ার সেনা ভয় করিনা বুলেট বোমা।তৈমুর ভাই এর সাথে থাকা এ টি এম কামাল ভাই সহ আরো যারা নেতাকর্মীরা আছে সবাই মার খাচ্ছে আর তৈমুর ভাই এর সাথে তাল মিলিয়ে স্লোগান দিচ্ছে। জিয়া পরিবারের প্রতি ভালোবাসার কাছে পুলিশের এই অত্যাচার যেনো ম্লান হয়ে গেলো নিমিষেই। শুরু হলো একের পর এক মামলা। তৈমুর ভাই, এ টি এম কামাল ভাই সহ নারায়ণগঞ্জের নেতা কর্মিদের শুরু হলো ফেরারী জিবনের পালা। শীত,বর্ষা কিংবা চৈত্রের দাবদাহ তাদের জিবন কাটে মানুষের বাড়ীতে কিংবা জেলখানাতে।আর তাদের স্ত্রী সন্তানেরা কখনো কাটায় দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত আর দিনের বেলায় ঘুরে কোর্টের বারান্দায় বারান্দায়। একটা সময় জামিন হয় তারপর আবার ঐ রাজপথের আন্দোলনে পুলিশের বারী অথবা আবার জেলে বন্দী জিবন।চলে এলো ২০১১ সাল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।যাদের বিএনপি থেকে মেয়র নির্বাচন করার কথা তৃনমুল আশা করে বসেছিলো তারা কেউ নির্বাচনে যেতে ইচ্ছুক না।মেয়র নির্বাচনের টিকেট দেওয়া হলো তৈমুর ভাই কে।ওয়ান ইলেভেন থেকে ২০১১ পর্যন্ত তৈমুর ভাই এর উপর যত নির্যাতন হচ্ছে তখন কিন্তু তার স্ত্রী ক্যান্সার নামক ভয়াবহ রোগটির সাথে যুদ্ধ করছে পাশাপাশি তার স্বামীর রাজনীতির কারনেও তাকে হয়রানী হতে হচ্ছে।২০১১ তে তৈমুর ভাই মেয়র নমিনেশন পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ শহরে বিএনপির চাঙ্গা ভাব চলে আসল। জমে উঠলো নারায়ণগঞ্জের সিটি নির্বাচন। তৈমুর ভাই এর স্ত্রী ক্যান্সারের রোগী হয়ে ও নেতা কর্মিদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ২৭ টি ওয়ার্ড চষে বেড়ালো।তৈমুর ভাই ও নেতা কর্মিদের নিয়ে ২৭ টি ওয়ার্ড ঘুরে চাঙ্গা করে তোললো বিএনপিকে।কিন্তু কোন কারন ছাড়াই কেন্দ্র ইলেকশনের আগের দিন রাতে তৈমুর ভাই কে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নিলো।আমি নিজেও তখন কাউন্সিলর নির্বাচন করছি।তৈমুর ভাই এর বসে যাওয়ার খবর টেলিভিশনে দেখে দৌড়ে যাই তৈমুর ভাই এর বাসায়।গিয়ে দেখি তৈমুর ভাই অঝোরে কাঁদছে আর বলছে আমার দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আমার তখন তৈমুর ভাই এর চেয়ে বেশি কষ্ট লেগেছে ভাবীর মানে তৈমুর ভাই এর স্ত্রীর জন্য। কারন আমি সংরক্ষিত তিন ওয়ার্ড ঘুরে নির্বাচন করতে গিয়ে বেহাল অবস্থা আর ভাবী ক্যান্সারের রোগী হয়েও ২৭ টি ওয়ার্ড তার স্বামীর জন্য দলের জন্য কিকষ্টটাই না করলো।তৈমুর ভাই আবার শুরু করলো দলের নির্দেশে রাজ পথের আন্দোলন। আবার হামলা মামলা জেল জুলুম।দিনের পর দিন ফেরারী নয়তবা আশ্রয় হয়েছে কারাগারে। যখনই কোন নেতাকর্মি নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে খবর পেয়ে সেখানেই ছুটে গিয়েছিল তৈমুর ভাই। ২০১৬ তে আবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।আমরা গেলাম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে। তখন প্রথমেই তৈমুর ভাই কে নির্বাচন করার প্রস্তাব দেওয়া হলো।তৈমুর ভাই তখন বিনয়ের সাথে জানতে চাইলো তাকে কি অপরাধে ২০১১ সালে নির্বাচন এর আগের রাতে বসিয়ে দেওয়া হলো।কিন্তু এর কোন উত্তর এলো না।কিছুক্ষণ পর আমাদের চেয়ারপার্সন আসলো। তৈমুর ভাই তখনো দেখলাম মেডামের সামনে মাথা নত করে বিনয়ের সাথে বলছে মেডাম আমি নির্বাচন করবোনা। আরো অনেক কথাই তখন হয়েছিলো সব কথা শেষে আমি এগিয়ে গিয়ে মেডামকে পা ছুয়ে সালাম করে দোয়া চাইলাম আর বললাম আমি সংরক্ষিত কাউন্সিলর নির্বাচন করছি।আমার সৌভাগ্য হয়েছিল মেডাম আমার মাথায় হাত রেখে দোয়া করে দিয়েছিলো।আমার সাথে তখন আমাদের নারায়ণগঞ্জের মহিলাদলের নেত্রীরাও ছিলো।২০১৬ সালে তখন বিএনপি প্রার্থী হয় এডভোকেট সাখাওয়াত ভাই। নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পরাজয় হয়।সব কিছুর উর্ধ্বে তৈমুর ভাই এবং এ টি এম কামাল ভাই এর রাজ পথের আন্দোলন জেল জুলুম কিন্তু থেমে নেই।এবার ২০২২ সালের ১৬ ই জানুয়ারি আবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।বিএনপি আগেই বলে দিয়েছে এই সিইসির অধীনে আর কোন স্হানীয় নির্বাচনে যাবেনা।বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও যায় নাই কিন্তু অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছে।এবং সারা বাংলাদেশে ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। এমনও নজির দেখা গেছে নৌকার বিরুদ্ধে তৃতীয় লিঙ্গ প্রার্থী নির্বাচন করে বিজয় লাভ করেছে।নারায়ণগঞ্জে যখন সিটি নির্বাচন চলে এসেছে তখন বিএনপি নির্বাচনে যাবেনা দেখে সাধারণ মানুষের মাঝে আমি হতাশা দেখতে পেয়েছি।রিক্সা ওয়ালা,মাছ বিক্রেতা,দিনমজুর ওনারা তৈমুর ভাই কে দেখলেই ছুটে আসে হাতটা ধরে বলে ভাই আপনে নির্বাচনটা করেন আল্লাহর দোহাই লাগে। নারায়ণগঞ্জের সবাই জানে তৈমুর ভাই অত্যান্ত সহজ সরল অহংকার মুক্ত মাটি ও মানুষের নেতা।যে কোন মানুষ চাইলেই তার সাথে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে পারে।আর তার জিবনই কেটেছে বেশিরভাগ দিনমজুরদের সাথে।তৈমুর ভাই দোটানায় পড়ে গেল। একদিকে দলের এক সিদ্ধান্ত আরেক দিকে সাধারণ জনগন ধীরে ধীরে তার কাছে ঝুকতে থাকলো। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে মানুষের চাওয়াটা তৈমুর ভাই এর প্রতি ততটাই বাড়তে থাকলো।মানুষের কথা চিন্তা করে নারায়ণগঞ্জের সার্বিক পরিস্হিতি বিবেচনা করে তৈমুর ভাই নির্বাচন করলো।কিন্তু যেই জানুয়ারীর ১৬ তারিখের নির্বাচনে তৈমুর ভাই কে পরাজিত দেখানো হলো এর পরই তৈমুর ভাইকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো। সাথে বহিষ্কার করা হলো তৈমুর ভাই এর নির্বাচনী এজেন্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল ভাই কে।পুলিশের বারি খেতে খেতে যেই কামাল ভাই এর সমস্ত শরীলে বাসা বেধেছে নানান অসুখ,যার অর্ধেক সময় গেলো জেল খেটে।যেই কামাল ভাই এর স্ত্রী মাসের পর মাস কারাগার আর কোর্টের বারান্দায় স্বামীর মুক্তির আশায় দিন কাটিয়েছে।এ টি এম কামাল ভাই উপর পুলিশি নির্যাতনের ভিডিও গুলি দেখলে এখনো সহ্য করতে পারিনা।কি নির্মম এক একটা আঘাত।তাদের রাজনীতির জন্য তাদের পরিবার কতটা সাফার করেছে। মাসের পর মাস তাদের স্ত্রী সন্তানেরা কত রাত আতঙ্কে কাটিয়েছে।কত রাত তাদের স্ত্রীরা নিরবে কেদে আকাশ পানে তাকিয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে।মাসের পর মাস তাদের সন্তানেরা বাবাকে কাছে পায়নাই।কত ঈদ তারা পরিবার পরিজন ছাড়া করেছে কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতারা দয়া করে বিষয় গুলো একটু ভাববেন।যদি তৈমুর ভাই এবং এ টি এম কামাল ভাই কে বহিষ্কারই করেন তাহলে দয়া করে তাদের হাড়িয়ে যাওয়া সেই দিনগুলো তাদের ফেরত দিন যেই দিন গুলিতে তাদের পরিবারের প্রয়োজন কে গুরুত্ব না দিয়ে দলের স্বার্থে নিজেদের সুখ বিসর্জন দিয়েছে।ফিরিয়ে দেন তাদের স্ত্রী দের নির্ঘুম রাতের আঁধারে একাকীত্বের কান্না।ঈদের দিন সাধারণ পরিবারের সন্তানেরা যখন নামাজের পর বাবা কে সালাম করে এক সাথে সেমাই খায় ঐ সময় তৈমুর ভাই আর এ টি এম কামাল ভাই এর সন্তানেরা সেমাই হাতে বাবার জন্য কান্না করতো।ফিরিয়ে দেন তাদের সন্তানদের না পাওয়া গুলো।এগুলো সব ফেরত দিয়ে তারপর তাদের আজিবনের জন্য বহিষ্কার করেন আর নয়তো তাদের বহিষ্কার আদেশ দয়া করে প্রত্যাহার করেন।যদি এই মানুষ দুইটার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার না করেন তাহলে আগামী আন্দোলন সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জে কোন নেতা পাবেন না দলের জন্য এই ভাবে নিবেদিত হয়ে নিজের জান কোরবান করতে প্রস্তুত।কারন সবাই ভাববে এত ত্যাগ করে কি হবে চলার পথে কোন ভুল হলেই বহিষ্কার করবে।এমনিতেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে দালালদের ভীরে ত্যাগীরা হারিয়ে যাচ্ছে।তৈমুর ভাই দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে নির্বাচন করে মহা পাপ করেছে কিন্তু কেন্দ্র থেকে নিশ্চয়ই কোন বিএনপি নেতাকে নৌকার পক্ষে ওপেন ভোট চাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়নাই। তাহলে যারা বিএনপি করে ওপেন নৌকার পক্ষে ভোট চাইলো তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না কেনো???? এইটা আমার একার প্রশ্ন না এইটা শত শত নারায়ণগঞ্জের তৃনমুল নেতাকর্মীদের প্রশ্ন। জানতে চাইতে পারেন আমি শত শত নেতা কর্মিদের এই প্রশ্নের কথা জানি কি করে??? আমিও বিএনপির একজন তৃনমুল কর্মি তাই তৃনমুলের মনের কথা জানি।এরা আশে আমার কাছে আমি নিয়মিত আমার দলের তৃনমুল নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করি তাই জানি।সন্মানিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তৈমুর আলম খন্দকার এবং এ টি কামাল বিএনপি করতে গিয়ে এত নির্যাতিত হওয়ার পরও তাদের চেহারায় কষ্টের কোন ছাপ দেখি নাই।কারন তারা শহীদ রাষ্ট্র পতি জিয়াউর রহমান সাহেব কে হৃদয়ে লালন করে।তারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কে নিজেদের জিবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে।তারা বিশ্বাস করে দেশ নায়ক তারেক রহমান একদিন সুস্থ হয়ে দেশে আসবে।আবার এদেশে গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।এই আশায় তারা রাজপথে নামে পুলিশের নির্যাতনের স্বীকার হয়। তারা যে বিএনপি করতে করতে পরিবারের প্রতি অবিচার করছে এই নিয়ে তাদের কোন আক্ষেপ নাই।এখনো তারা বলে দল বহিষ্কার করলেও বিএনপির কর্মী হয়ে আজিবন দলের জন্য কাজ করে যাব।তারা রাতে আওয়ামিলীগ দিনে বিএনপি করেনা।তারা ২৪ ঘন্টা শুধুই বিএনপি করে। আর কতটা ত্যাগ স্বীকার করলে একজন তৈমুর আলম খন্দকার একজন এ টি এম কামাল আপনাদের কাছে পরীক্ষীত নেতা হতে পারবে।এমন একজন তৈমুর আলম খন্দকার আর এমন একজন এ টি এম কামাল নারায়ণগঞ্জের বিএনপিতে একশ বছরেও তৈরি হবেনা। দয়া করে তাদের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে আবার নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে প্রান ফিরিয়ে দেন।সামনে আন্দোলন সংগ্রামে আবার তাদের রাজপথে দরকার। বিঃদ্রঃ কেউ ভাববেননা আমি শুধু এই দুইজনের ত্যাগের বিষয়টি লিখলাম আর কারো কি নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে ত্যাগ নাই। আরো অনেক ত্যাগী নেতা আমাদের নারায়ণগঞ্জে আছে। তবে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে বলে আজ শুধু তাদের নিয়েই লেখলাম অন্যান্ন ত্যাগী নেতারা দয়া করে বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।


