সংবাদ সম্মেলন করার কথা বললেন শামীম ওসমান
আন্দোলন চালানোর কথা বলছেন ত্বকী মঞ্চের নেতৃবৃন্দ
নারায়ণগঞ্জের একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের আজও বিচার হয়নি। মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহম্মদ ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে ২০১৩ সালের ৬ মার্চ। ওই দিন তাকে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে অপহরণ করা হয়। এর দুইদিন পর ৮ মার্চ তার লাশ মিলে শীতলক্ষা নদীর পাড়ে। নৃশংসভাবে এই মেধাবী এই ছাত্রকে হত্যা করার পর প্রায় দশ বছর চলে যাচ্ছে। কিন্তু বিচার হচ্ছে না।
তাই বিচারহীনতার একটি বড় উদাহরণ হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে নারায়ণগঞ্জের এই ত্বকী হত্যাকাণ্ড। আর এই হত্যাকাণ্ডটি যেহেতু বর্তমান সরকারের আমলেই ঘটেছে এবং সরকারী দলের এমপি এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে ত্বকীকে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে তাই সরকারের জন্য বিষয়টি বেশ অস্বস্থ্যিকরই বটে। কেনোনা ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি এই শহরের একজন নামকরা মানুষ।
তিনি একজন সাংস্কৃতিক ব্যাক্তি হিসাবে পরিচিত। এছাড়া সমাজে তিনি একজন ভালো মানুষ হিসাবেও পরিচিত। তিনি তার পুত্রের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ভুলে যেতে দেননি। তার এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুমের নেতৃত্বে ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে দশ বছর ধরে আন্দোলন চলছে। প্রতি মাসেই হত্যাকাণ্ডটির বিচার দাবি করে পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি। তাই ত্বকী হত্যাকান্ডের দায়ে অভিযুক্ত পরিবারের মূল নেতা ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান নানা ভাবে চেষ্টা করেছেন ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে তা বন্ধ করতে।
কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। দিনে দিনে আরো জোরালো হচ্ছে ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি। ফলে এই সময়ে এসে নতুন করে বিচলিত হয়ে পড়েছেন শামীম ওসমান। তিনি ত্বকী হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখন আবার নানা কথা বলছেন। এবং সর্বশেষ তিনি এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাই নতুন করে আলোচনায় চলে এসেছে নারায়ণগঞ্জের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি।
এদিকে সম্প্রতি ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে করা এক অনুষ্ঠানে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে বেশ জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম। এতে শামীম ওসমানও পাল্টা হুমকির সুরে কথা বলছেন। যদিও শামীম ওসমানের এই হুমকিকে মোটেও আমলে নিচ্ছে না আন্দোলনকারীরা। বরং তারা আশা করছেন আজ হোক কাল হোক এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবেই। সঙ্গে সঙ্গে ওসমানদের অপরাজনীতির অবসান ঘটবে।
কেনোনা নারায়ণগঞ্জের মানুষ পরিস্কার ম্যাসেজ দিচ্ছে তারা ওসমান পরিবারকে চায় না। যারা তাদেরকে চায় তাদের সংখ্যা হাতে গোনা। যদিও টাকার জোরে তারা মাঝে মাঝে ২/১ হাজার লোকের শোডাউন করে দেখায় কিন্তু তাতে কিছু প্রমাণ হয় না। বরং প্রমাণ হয় নারায়ণগঞ্জের মানুষ এই পরিবারটির হাত থেকে মুক্তি চায়। ত্বকী মঞ্চের নেতৃবৃন্দ সহ নারায়ণগঞ্জের সাধারন মানুষের মতে ওসমান পরিবার বাস্তবে কোনো রাজনৈতিক পরিবার নয়। কারন তাদের মাঝে জনকল্যানে কোনো রাজনীতি নেই।
তারা যে রাজনীতি করেন সেটা হলো মানুষ হত্যার রাজনীতি, লুটের রাজনীতি, ভয়ভীতির রাজনীতি। এক কথায় রাজনীতির নামে সন্ত্রাস আর লুটপাট জারি রেখেছে এই পরিবারের সদস্যরা। তাই সঠিক ভাবে যদি ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিচার হতো তাহলে এই পরিবারের রাজনীতি বলতে কিছুই থাকতো না। তবে নারায়ণগঞ্জবাসী আরো বিশ্বাস করেন, ন্যাচারাল পানিশম্যান্ট বলে একটি কথা আছে।
সরকার ত্বকী হত্যার বিচার না করলেও ওসমানরা এক ধরণের ন্যাচারাল পানিশম্যান্টের দিকেই যাচ্ছে। এই জনপদে কোনো অবাধ ও সুষ্টু নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা জিততে পারবে না। এছাড়া বর্তমান সরকারের ভেতরেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা কমেছে। নারায়ণগঞ্জের মানুষ যেকোনো মূল্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইছে।


