জেলা-মহানগর আ’লীগে অপূর্ণতা যেখানে
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:১১ পিএম
# জেলার ছয় থানায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই
# মহানগরের ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় কর্মসূচি নেই
# তৃণমূল পর্যায়ে দল শক্তিশালী হচ্ছে না
নারায়ণগঞ্জকে আওয়ামীলীগের সুতিকাগার হিসেবে বলা হয়। ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দের মতে এই জেলা থেকে আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা হয়। নাসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা সহ সকল নেতৃবৃন্দ সক্রিয় থাকলেও নির্বাচনের পরে একে নিরব হয়ে আছে দলীয় কার্যক্রম। ইতি মধ্যে জেলা মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে আছে। শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ায় কাজ কর্মে মানুষের শরীর যেমন চলে না। তেমনি জেলা মহানগরের সর্বস্তরের সরকারি দলের নেতারাও নিরব হয়ে আছে। তাদেরও যেমন সাংগঠনিক কার্যক্রম ঠান্ডা হয়ে আছে।
যা এক ধরনের নিরবতা বিরাজ করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগে। এই নিরবতাকে আবার কেউ কেউ কৌশল বলে মনে করছেন। কেননা নাসিক নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় নেতারা শীগ্রই জেলা মহানগরের সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন। আর এই কমিটিতে সভাপতি সেক্রেটারি পদে নতুনরা আসার জন্য নিরবে নিভৃতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। দলীয় কার্যক্রম ঠান্ডা হয়ে থাকলেও নেতাদের দৌরঝাপ থেমে নেই।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি এবং ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর জেলা কমিটি হয়। তিন বছর মেয়াদী কমিটির দুটিই মেয়াদ পেরিয়েছে অনেক আগে। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আছেন আব্দুল হাই, সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল। মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি দায়িত্বে রয়েছেন আনোয়ার হোসেন এবং সেক্রেটারি হিসেবে রয়েছেন এড. খোকন সাহা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এছাড়া জেলার থানা কমিটিগুলোর মাঝে ফতুল্লা ছাড়া বাকি একটা থানাতেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। আর ইউনিয়ন গুলোতে কমিটি নেই বললেই চলে। রাজনীবিদদের মতে, একটা দলের মূল চাবি কাঠি হলো সেই দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। আওয়ামীলীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরেও ইউনিয়নগুলোতে কমিটি না হওয়ায় দলীয় নেতাদের ব্যর্থতা মনে করছেন রাজনীতিক মহল। এক যুুগের বেশি সময় আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলেও নারায়ণগঞ্জের জেলা মহানগরে এখনো শক্তিশালি কমিটি নেই। না হওয়ার পিছনে নেতাদের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলে মেন করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। সেই সাথে দলীয় কার্যক্রম নেই বললেই চলে। নামকা ওয়াস্তে দেখনোর জন্য কয়েকটি মিটিং হয়।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের ৭ টি থানার মাঝে ফতুল্লা থানায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি আছে। বাকি ৬ টি থানার মাঝে কোনটিতেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। বেশির ভাগ থানায় দুইজন করে আছেন। আবার কোনটিতে ১ জন নামকাওয়াস্তে আছেন। রুপগঞ্জ থানার সভাপতি হিসেবে আছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং সেক্রেটারি আছেন শাহজাহান ভূইয়া। আড়াইহাজার থানা আওয়ামলীগের সভাপতি সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু।
বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আছেন এম এ রশিদ, সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজিম উদ্দিন প্রধান। সদর থানায় কোন পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই বললেই চলে। সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন নাজির মাদবর। ইউনিয়ন নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে মন্তব্য করে এই থানার সেক্রেটারি আল মামুন আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কার হন। আর এজন্য পূর্ণাঙ্গ হওয়ার কোন রাস্তা দেখেন এই থানার নেতৃবৃন্দ। সদর থানা আওয়ামীলীগের অবস্থা একেবারে নাজুক অবস্থায় আছে বলে মনে করেন তৃনমূল নেতৃবৃন্দ।
সোনারগাঁ আওয়ামীগের কার্যক্রম আহবায়ক কমিটি দিয়ে পারিচালিত হচ্ছে। কবে যে এই কমিটি আহবায়ক মুক্ত হবে নেতারাও তা জানেন না। সবকটি থানার কমিটি ৩ মাসে পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা থাকলেও ৩ বছর শেষ হতে চলেছে এখনো পূর্ণাঙ্গ হয় নাই। কবে নাগাত হবে তাও জানেন না তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। অথচ কেন্দ্র থেকে কয়েকবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে সকল জেলা থানা উপজেলার কমিটি হয় নাই তা করার জন্য। কিন্তু কে শুনে কার কথা।
রাজনীতিবিদদের মতে সরকারি দল শক্তিশালী হওয়ার চেয়ে আরও দূর্বল হয়ে আছে।
অভিযোগ রয়েছে থানা পর্যায়ে কমিটি না থাকায় নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। সেই সাথে ইউনিয়নগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা একেবারেই সক্রিয় নেই। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। যার জন্য কর্মীরা পর্যন্ত হতাশ হয়ে আছেন। অন্যদিকে আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালি করার নির্দেশনা দিলেও এই জেলায় তার কোন কার্যক্রম চোখে দেখছে না দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে অভিযোগ রয়েছে, দল শক্তিশালী না হলেও গুটি কয়েক নেতার ভাগ্যের উন্নয়ন ঠিকই হয়েছে।
তাই নেতারাও নিরব চুপচাপ হয়ে আছে। এই অবস্থা থেকে বের না হতে পারলে আগামী নির্বাচনে তার খেসারত দিতে হবে ক্ষমতাসীন দলকে। তাই এই মুহুর্ত্বে জেলা মহানগরের সকল পর্যায়ের কমিটিগুলো তড়িৎ গতিতে করতে হবে। সেই সাথে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতে হবে। তাহলে হয়ত দল আগমীতে আবারও ক্ষমতায় আসতে পারে। অন্যতায় নেতা কর্মীদের তার খেসারত দিতে হবে।


