Logo
Logo
×

রাজনীতি

গিয়াসউদ্দিন-তৈমূরকে মিস করছে বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:১২ পিএম

গিয়াসউদ্দিন-তৈমূরকে মিস করছে বিএনপি
Swapno

# তৃণমূল কর্মীরা হতাশা প্রকাশ করছেন
# কেন্দ্রীয় নেতারাও সমালোচিত



বিএনপির রাজনীতিতে অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটেছে এবং ঘটছে নারায়ণগঞ্জে। দায়িত্বশীল নেতাদের কাছ থেকে নেতৃত্ব সরে গিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল নেতৃবৃন্দের কাছে বিএনপির নেতৃত্ব তুলে দেয়ার ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেছেন বলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহবায়ক পদ থেকে বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকারকে সরিয়ে দেয়া সেই ঘটনার প্রমাণ মিলেছে।

 

বিএনপির সব কিছু থেকে তৈমূরকে অব্যাহতি দেওয়ার পর তার অনুসারী তৃণমূল নেতাদের ভবিষ্যত কি হবে সেটির দায় নিতে দেখা যায়নি বিএনপি নেতাদের। তৈমূরকে সঙ্গ দেয়ায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় এটিএম কামালকে। তৈমূরের নির্বাচনে প্রধান সমন্বয়ক মনিরুল ইসলাম রবির কাছে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পড়ে। রবি গ্রেফতার হলে সেই নেতৃত্ব চলে যায় রূপগঞ্জের নাসির উদ্দিনের কাছে।

 

রবি জামিনে বের হলেও নাসির উদ্দিনের কাছ থেকে জেলা বিএনপির আহবায়ক পদ ফেরত পাবেন কিনা সেটিও যথেষ্ট সন্দেহের। তৈমূর আলম খন্দকারকে নির্বাচনের প্রার্থীতার দোহাই দিয়ে বিএনপির পদ থেকে দূরে সরালেও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য  ম্হুাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও তার অনুসারীদের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে দূরে রাখা বিএনপির কেমন কৌশল এই প্রশ্ন উঠছে।

 

 
বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপি নেতা গিয়াসউদ্দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং বুদ্ধিদীপ্ততা শুধু নারায়ণগঞ্জে নয়, সারাদেশেই প্রশংসিত। ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন গিয়াসউদ্দিন। কিন্তু নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতায় আমুল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন গিয়াসউদ্দিন। এসব সত্ত্বেও এরপর নানা সময় বিএনপির জেলা  ও মহানগর কমিটি দেয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে গিয়াসউদ্দিন ও তার অনুসারীদের বাদ দিয়ে কমিটি দেয়া হচ্ছে। এতে আদতে বিএনপিরই ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করে তৃণমূল।

 


বিএনপির তৃণমূল নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিন গিয়াসউদ্দিনকে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে দূরে রেখে দলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে কেন্দ্রীয় নেতারা। যার কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লায় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা থাকলেও তারা মূল্যায়ন পাননি। আন্দোলন, সংগ্রাম এমনকি সাংগঠনিকভাবে কোন রকম তৎপরতা দেখাতে সক্ষম হয়নি বিএনপি।

 

তৈমূর ও গিয়াসউদ্দিনের মধ্যে বিভেদ থাকলেও দুইজনই বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমের জন্য অনেক ত্যাগ করেছেন। তৈমূর অধৈর্য্য হয়ে সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও গিয়াসউদ্দিন দলের সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন থেকে সরে যান। কিন্তু এরপরেও গিয়াসউদ্দিনকে ঠিক কী কারণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তা তৃণমূল ঠাওর করতে পারেনা।

 

তৃণমূল কর্মীরা বলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ হলেও সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লায় গিয়াসউদ্দিনের রাজনৈতিক কাঠামো কতখানি শক্তিশালী তা বুঝতে রাজনৈতিক বোদ্ধা হওয়ার প্রয়োজন নাই। কিন্তু এরপরেও মামুন মাহমুদের কাছেই জেলা বিএনপির নাটাই কেন তুলে দেয়া হয় এনিয়ে তৃণমূল বিএনপির নেতিবাচক মন্তব্য আছে। এতে বিএনপির তৃণমূল কর্মীরাও হতাশ হয়ে পড়েছে।

 

গিয়াসউদ্দিন ও তৈমূর আলম খন্দকার ব্যতিত নারায়ণগঞ্জে এমন হেভিওয়েট কর্মীবান্ধব বিএনপি নেতার সংকট রয়েছে বলে মনে করেন তারা। ফতুল্লায় বিএনপি নেতাদের বঞ্চিত করার ঘটনা যেমন নতুন নয়, সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপি নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়েছে। রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁয়েও বিএনপির কোন্দল তৈরি করা হয়েছে, যেটি দিয়ে বিএনপির মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে মনে করে তৃণমূল। এখান থেকে বেরিয়ে না আসতে পারলে সামনে আরো কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করে তৃণমূল।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন