কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আইভী’র ফোন
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:২৭ পিএম
# আজীবন দল ও নেত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো : আইভী
# অপেক্ষা করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী
দেশের ইতিহাসের প্রথম কোন সিটি নির্বাচনে হ্যাট্রিক মেয়র হিসেবে জয়ী হওয়ার বিরল রেকর্ড স্থাপন করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় ধানমন্ডির ৩নং রোডে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ছুটে যান মেয়র আইভী।
এসময় তিনি আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বসেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে ফোনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছাবিনিময়ের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সাথে ফোনে কথা বলেন আইভী। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বিজয়ী হওয়ার পর প্রতিবারের মতো এবারও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে দেখা করতে ৩নং রোডের কার্যালয়ে এসেছি, মিষ্টি খাওয়াতে এসেছি।
সবার সাথে চা খাব, কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি, তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মেয়র আইভীকে নানা দিকনির্দেশনা দেন ফোনে। এছাড়া করোনার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাতে কিছুটা বাধ্যবাধকতা থাকায় অপেক্ষা করার কথা জানান মেয়রকে। গত ৩ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আইভীকে মনোনয়ন দেয়ার পর ২০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে অনুষ্ঠিত যৌথসভায় ভিডিও কলে যুক্ত হন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা।
পরে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে সাংাবাদিকদের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, বিগত তিনটি সিটি করপোরেশন এবং একবার পৌরসভা নির্বাচন করেছি। জয়ী হয়ে নেত্রীর সাথে দেখা করেছিলাম। নেত্রী ও দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলাম। ২০১১ সালেও এসেছিলাম, ২০১৬ সালেও এসেছি, এবারও আসলাম। না আসলে না আসলে কেন যেন নিজের কাছে নিজেকে ছোট মনে হয়।
নির্বাচনে এতো কাজ করে আসল কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাদের সাথে একটু সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসবোনা। সত্যিকার অর্থেই আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আপনারা নারায়ণগঞ্জে থেকে যে নির্বাচনটা হয়েছিল সেটি আসলে অত্যন্ত কঠিন একটা নির্বাচন ছিল। আপনারা অত্যন্ত সুন্দরভাবে সমন্বয় করেছেন। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ রুট লেভেলে যেখানে কাজ করেছেন, আমি পরবর্তীতে যেখানে যখন গিয়েছি তাদের সাথেই কথা বলেছি সবাই বলেছেন, শেখ হাসিনার একদম যোগ্য কর্মী তারাই।
আমাদের নারায়ণগঞ্জের ২৭টি ওয়ার্ডে সবাই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতির কারণে অনেক খুশি হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের অবস্থান আপনারা জেনে এসেছেন একারণে আমরা প্রত্যেকেই খুশি। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও দল আমাকে যেভাবে গাইড করেছে, নির্বাচন পরিচালনা করেছে আমি আজীবন দলের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো, মাননীয় নেত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো।
যতক্ষণ বেঁচে থাকব জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলব। আমি যে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারি। আপনাদের সুপরামর্শ আমাকে দিবেন। আমি যেন দলের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সকল কাজে অংশীদার হতে পারি সেই দোয়া আপনারা করবেন। আপনাদের সুপরামশ্য আমাদের কাজে দিবে। নারায়ণগঞ্জকে এগিয়ে নিতে আপনাদের দোয়া ও সমর্থন চাই।
আইভীর সৌজন্য সাক্ষাৎের সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান, মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদা খানম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও মেয়র আইভীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে (সোনারগাঁও) সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, আরজু রহমান ভূঁইয়া, এড. আসাদুজ্জামান আসাদ, আদিনাথ বসু, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম,
মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবিব, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নূর হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক নিজাম আলী, বন ও পরিবেশ বিসয়ক সম্পাদক রানু খন্দকার, মহানগর আওয়ামী লীগের স্থাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. সোহেল, ১৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেলিনা হায়াৎ আইভীর নৌকা প্রতীকের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাতি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার। আইভী নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭টি ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমূর আলম পান ৯২ হাজার ৫৬২ ভোট। তাদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৬৬ হাজার ৫৩৫।
এর আগে ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটির প্রথম ভোটে এবং নারায়ণগঞ্জ পৌরসভাতেও মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আইভী নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেন। সেবার তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের মো. সাখাওয়াত হোসেনকে ৭৯ হাজার ৫৬৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। পরে ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ২০২২ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হয় ২৭ জানুয়ারি।
বিদেশে চিকিৎসা বিদ্যায় পড়াশোনা করা সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা আলী আহমেদ চুনকার মেয়ে। লেখাপড়া শেষে ২৫ বছর আগে দেশে ফিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নামেন। বিএনপি শাসনামলে ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে জিতেন তিনি। পরে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম ভোটে তিনি মেয়র পদে জয়ী হন। ২০১৬ সালের ভোটেও বিজয়ী হন আইভী।
আলী আহমেদ চুনকা মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাবা ১৯৭৩ সালে পৌরসভা নির্বাচনে আলী আহমেদ চুনকা আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত করেন খোকা মহিউদ্দিনকে।


