# কাউকে খুশি করতে গিয়ে অতিরিক্ত তেল মারাটা ঠিক হয়নি : মজিবুর রহমান
# এ ধরণের চেয়ারম্যান শুধু বন্দর না, জাতির জন্যই দুর্ভাগ্য : জাকির হোসেন পনির
# আওয়ামী লীগের প্রতি যে অবজ্ঞা তা-ই তার বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে : ইব্রাহীম কাশেম
আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায়, আওয়ামী লীগের কর্মীদের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করতে হয় দেলোয়ার প্রধানকে। অথচ তার কাজ হলো ডেম কেয়ারভাবে পেশী শক্তি ব্যবহার করে যে কোন কাজ আদায় করে নেওয়া। তার উপর তার মাথার উপর আছে ওসমান পরিবারের হাত। যাদেরকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কর্ণদ্বার বলে মনে করে নিজের অন্যায় আবদারগুলো আদায় করে নেওয়ার জন্য যাদেরকে গুরু বা পীর বলে সমর্থন আদায় করে নিতে পারদর্শী, সেই ওসমান পরিবারের সামনে যে কোন কিছুকে তুচ্ছ করা তার পক্ষে যে অসম্ভব কিছু না, তার প্রমাণ দিতে দেলোয়ার প্রধান যে, কাউকে তোয়াক্কা করে না সেটা বুঝানো তার পক্ষে হয়তো জরুরী হয়ে পড়ছে।
তাই তিনি হয়তো বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও তুচ্ছ করতে দ্বিধা বোধ করেননি বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সচেতন মহল। তাছাড়া ওসমান পরিবারের হাত তার মাথার উপর থাকা অবস্থায়ও যে তাকে আওয়ামী লীগের সমর্থন আদায় করে নির্বাচন করতে হয় বা যেকোন অপকর্মের জন্য আওয়ামী লীগের কাছে জবাবদিহি করতে এটা থেকে বেরিয়ে আসতে আওয়ামী লীগের উপর তার মনের ভিতর যে এক ধরণের ক্ষোভ জমে ছিল তা তার বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ করে নিজের ক্ষমতাটাকে একটু ঝালিয়ে নিতে চেয়েছেন দেলোয়ার প্রধান। তার বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া গ্রহণ উচিৎ বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলসহ সমর্থকগণ।
এ বিষয়ে বন্দরের মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, তিনি হয়তো নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য আরো কাছে পৌছার জন্য অতিরিক্ত তেল মারার প্রচেষ্টা সে করেছে। এই বিষয়টা এতটা সাড়া ফেলবে সেই গভীরে সে ভাবেনি। তবে কাউকে খুশি করতে গিয়ে এত অতিরিক্ত তেল মারাটা ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম কাশেম বলেন, নির্বাচনের যেকোন ভাবেই হোক পাস করার পর তার মধ্যে একটা আত্মঅহমিকা এসে পড়েছে। সে আওয়ামী লীগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না, জামায়াত বিএনপির সাথে সময় ব্যায় করেন, তাই তার ভিতরে আওয়ামী লীগের প্রতি যে অবজ্ঞা তা-ই তার বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।
এ সময় তিনি বন্দর উপজেলায় আওয়ামী লীগে যারা শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ আছেন তাদের প্রতি তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলো যেন যার যার অবস্থানে থেকে এই মুহুর্তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেন। তা না হলে শুধু বন্দর বা নারায়ণগঞ্জ নয়, সারা বাংলাদেশের মধ্যে অনেকেই এধরণের বক্তব্য বা কথা বলার সুযোগ পাবে। বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন পনির বলেন, এই ঘটনার নিন্দা জানানোর মতো ভাষাও আমার নাই।
যার জন্য এ দেশ স্বাধীন হয়েছে আমরা একটি পতাকা পেয়েছি সেই বঙ্গবন্ধুকেই যে না চিনে, এ ধরণের লোক কিভাবে একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে পারে? সে স্বীকৃত জাতির পিতা, যার একটি ভাষণকে আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘের মতো একটি প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি দিয়েছে, সেই বঙ্গবন্ধুকে চিনে না। তার মতো নিম্ন শ্রেণির মানুষের পক্ষে এই ধরণের বক্তব্যই মানায়। তারমতো লোক চেয়ারম্যান হওয়া শুধু বন্দর বা নারায়ণগঞ্জ নয়, জাতির জন্যই দুর্ভাগ্য। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি একেএম শামসুজ্জোহা’র অনুষ্ঠানে
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্দরে দেলোয়ার নামের এক কুলাঙ্গার আমরা যাকে শ্রদ্ধা করি, যার নামের উপরে এই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, যার নামের উপরে দেশের মুক্তিযোদ্ধারার দেশ রক্ষায় যুদ্ধ করার জন্য ঝাপিয়ে পড়েছে, জাতির স্রষ্টা সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা করে কথা বলেছেন।
যাকে লোকে তেল চোর হিসেবে চিনে সেই দেলোয়ার জাতীয় পার্টি থেকে চেয়ারম্যান হয়েছেন। যার পক্ষে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কাজ করেছেন, সেই দেলোয়ার বলে বঙ্গবন্ধুকে চিনে না, শেখ হাসিনাকে চিনে না। আমি তাকে ধিক্কার জানাই এবং তার শাস্তি দাবি করছি। এ সময় তিনি দেলোয়ারকে গ্রেফতার করে তার চেয়ারম্যানের পদ বাতিল করে সেখানে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান।
এমনকি বাংলাদেশের জনককে যে না চিনে তার (দেলোয়ারের) ও তার পরিবারের নাগরিকত্ব বাতিল করার জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে দাবি জানান তিনি। তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে অন্যকেউ বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটাক্ষ করতে সাহস পাবে। এ সময় তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান।


