Logo
Logo
×

রাজনীতি

মামলার প্রস্তুতি, হতে পারেন বরখাস্ত

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:২১ পিএম

মামলার প্রস্তুতি, হতে পারেন বরখাস্ত
Swapno

# তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি: জাহাঙ্গীর
# স্মারকলিপি পেয়েছি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে: ডিসি
# আপনারা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর মামলা করেন না কেনো: এসপি

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বেফাঁস বক্তব্য দেওয়া নারায়ণগঞ্জের নবনির্বাচিত তিন চেয়ারম্যান লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুল, দেলোয়ার হোসেন প্রধান ও জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। ডিসির মাধ্যমে জেলা আওয়ামীলীগের স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।

 

আর এই অভিযোগে এই তিন চেয়ারম্যান হতে পারেন বরখাস্ত! বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই’র নেতৃত্বে জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।

 

এসময় তার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন আহম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধাআব্দুল কাদির, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম,সদস্য মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ প্রমুখ। এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, স্মারকলিপি পেয়েছি তা স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তারা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

 

স্মারকলিপি প্রদানকালে জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কেউ কটুক্তি করলে ছাড় দেওয়া হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুক সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর মামলা করেন না কেনো। প্রয়োজনে আদালতে মামলা করেন। আসামিদের ধরে আনার দায়িত্ব আমার। এইসব মামলায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, সে যে কেউ হোক না কোনো।


এবিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, যারা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করে আমরা যারা আওয়ামীলীগ করি তারা তা কোনো মতেই সেটা সহ্য করবো না। আমরা ইতিমধ্যে বারদীর চেয়ারম্যান বাবুলকে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী শোকজ করেছি এবং জবাব চেয়ে নোটিস দিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা ডিসি এসপিকে স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নিবো।


দেলোয়ার চেয়ারম্যানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের হাইকোর্টের রুল আছে যে জাতির পিতাকে নিয়ে কেউ কটাক্ষ করে কোনো কথাবার্তা বলতে পারবে না। সে তো জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এর জন্য আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি। তবে মৌখিকভাবে আমরা জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দেওয়ার জন্য।

 

যেহেতু তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান তার জন্য ডিসি ও এসপির কাছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্মারকলিপি দিয়েছি পাশাপাশি আমরা আইনী ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি। আলীরটেকের চেয়ারম্যান জাকিরের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি। সে নাকি বলেছেন নৌকা নাহলে তিনি আরও বেশী ভোট পেতেন। সে নৌকাকে অবজ্ঞা করেছেন।

 

আমি বরাবরই বলে আসছি তিনি আমাদের দলের লোক না সে জামায়াতের লোক। সে যেদিন মনোনয়নপত্র জমা সেই সেদিন কিন্তু হেফাজতের লোকজন নিয়ে জমা দিয়েছিলেন। এতে প্রমান হয় সে কাদের লোক। আমি তার নৌকার সুপারিশেও সই করিনি। কারন সে তো আমাদের আওয়ামীলীগের লোক না। আর এই কারনেই আমি তার জন্য সই করি নাই।


নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাকিরকে জেলা আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় নাই। সে কোন তরফ থেকে মনোনয়ন পেয়ে আসছে আমরা তা জানি না। যেহেতু সে নৌকা মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেছিলেন সেহেতু নৌকা অবজ্ঞা করা উচিৎ বলে আমি মনে করি না।

 

কারন নৌকা আমাদের প্রাণ প্রিয় মার্কা, নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক আমাদের দলীয় প্রতীক।স আর সেই দলীয় প্রতীক যদি কেউ অবজ্ঞা করে তাহলে তাকে তো আর আমরা ছেড়ে দিতে পারি না। আমরা আওয়ামীলীগের পদে আছি আমরা অবশ্যই অবশ্যই প্রতিবাদ করবো। যারা নৌকা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করে যারা আমার প্রাণপ্রিয় নেত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের জোড়ালো প্রতিবাদ করবো। আমরা ডিসি সাহেবের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। এবং  তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।


স্মারকলিপিতে উল্লেখ্য করা হয়, সোনারগাঁও এর বারদী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী লায়ন মাহবুবুর রহমান বালুল বারদীর একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা সম্পর্কে বেফাঁস বক্তব্য দিয়েছে, তার এই অশালীন বক্তব্য ইতোমধ্যে সারাদেশের উদ্যোনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রকাশিত হয়েছে।

 

লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুলকে সাথে সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওমীলীগ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে এবং স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ বরাবর চিঠি দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ মনে করে যারা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতাকে মানে না তাদের বিরুদ্ধে অতিসত্ত্বর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

 

লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুল ছাড়াও কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বলেছেন আমি শেখ হাসিনাকে চিনি না, শেখ মুজিবুর রহমানকে চিনি না, তার এই বেফাঁস বক্তব্যের কারণে ইতোমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তীব্র  প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ মনে করে এই বর্ণচোরা স্বাধীনতা বিরোধী দেলোয়ার হোসেন স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ মনে করে, সংবিধান লঙ্ঘনের অপরাধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অতিসত্ত্বর তাকে গ্রেফতার করে আইন ব্যবস্থা নেবে।

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান জাকির হোসেন এক অনুষ্ঠানে বলেছেন আমি নৌকার  প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করলে অনেক বেশি ভোটে নির্বাচিত হতাম। এই বক্তব্য স্বাধীনতার প্রতীক নৌকার প্রতি অবজ্ঞা। এই ৩ চেয়ারম্যানের বক্তব্যে আওয়ামীগের তৃণমূলের নেতা কর্মীদের ভিতরে রক্তক্ষণ শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দাবী সত্ত্বা বেফাঁস বক্তব্যের কারণে এ (তিন) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিবে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন