# জাকির হেফাজত জামাতের লোক : আব্দুল হাই
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতীক নৌকা মার্কাকে নিয়ে বেসামাল মন্তব্য করে বিতর্কিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের তিন চেয়ারম্যান। তারা হলেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক সদস্য বারদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন মো. মাহবুবুর রহমান বাবুল, বন্দর উপজেলা কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান এবং সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন।
তারা তাদের বক্তব্যের কারণে ইতিমধ্যে জেলা পেরিয়ে সোস্যাল মিডিয়ারা মাধ্যমে সারাদেশে ভাইরাল হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি এবং আওয়ামীলীগের হাই কমান্ডে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রহ মামলা হলে চেয়ারম্যান পদ বাতিল হতে পারে।
তাদের বেফাস বক্তব্য অনুযায়ী এই তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রহ মামাল হতে পারে। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই জানান, যে সমস্ত লোক বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করে আমরা তা সহ্য করবো না। আলীরটেকের জাকির চেয়ারম্যান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাকির বলেছে তিনি নৌকা নিয়ে নির্বাচন করায় ভোট কম পেয়েছে।
তিনি বুঝাতে চেয়েছেন তার নৌকার চেয়ে বেশি ওজন। তাহলে সে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করত। আমি শুরু থেকেই বলে আসছি জাকির হোসেন কখনও আওয়ামী লীগ করতেন না। দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে তার সুপারিশপত্রে আমি স্বাক্ষর করিনি। সে হেফাজত জামাতের লোক। জাকির যখন মনোনয়ন জমা দেন তখন হেফাজতের লোক নিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। সেক্রেটারি আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল এককভাবে স্বাক্ষর করেছেন।
জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নৌকা নিয়ে নির্বাচন করেছে বলে জাকির চেয়ারম্যান হতে পারছে। আর এখন শপথ নিয়ে এই নৌকা অবজ্ঞা করে বক্তব্য দেন। নৌকা আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক। সেই সাথে নৌকা আমাদের দলীয় প্রতীক আর তারা নৌকাকে অবজ্ঞা করে কথা বলবেন আমরা জেলা আওয়ামীলীগে পদে থেকে তা সহ্য করতে পারি না।
বঙ্গবন্ধু এবং নৌকাকে নিয়ে যারা কটুক্তি করে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আমরা জোরালো প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে এই তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, এসপি সাহেব তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো। আর মামলা হলে আদালত চাইলে তাদের চেয়ারম্যান থেকে বরখাস্ত করতে পারবেন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাইছি। তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি কখনই আওয়ামী লীগ করতেন না। সেই ব্যক্তিকে কেন নৌকা তুলে দিতে হবে। তাকে কারা নৌকা দিছে তা খতিয়ে দেখা হোক।
উল্লেখ্য ১২ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেল ৪ টায় আলীরটেক ইউনিয়নের একটি ব্রীজ প্রকল্প নিয়ে মারা মারির ঘটনায় মিমাংসা করতে গিয়ে ওই ইউনিয়ন পরিষদে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত নৌকা নিয়ে চেয়ারম্যান হয়ে জাকির হোসেন বলেন, আমি নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করায় ভোট কম পেয়েছি। এখানে যদি অন্য কেউ নৌকা নিয়ে নির্বাচন করত তাহলে পাশ ওই করত না। আমি অন্য মার্কা নিলে ৯৫ ভাগ ভোট পাইতাম কিন্তু এখন ৯০ ভাগ ভোট পাইছি।
এসময় প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ সহ আলীরটেক ইউনিয়নের সকল মেম্বার এবং গ্রাম পঞ্চায়েত কমিটির লোকজন উপস্থিত ছিলেন। তার এই বক্তব্যের পরে জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দের রক্তক্ষরণ হয়েছে। আর এ জন্য দলীয় নেতৃবৃন্দ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবী তুলেছেন। সেই সাথে তাদের প্রতি ধিক্কার জানান।


