সোনারগাঁয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকাণ্ডে বিব্রত আ’লীগ ও বিএনপি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:১১ পিএম
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে বিব্রত সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দুই দল। টেন্ডারবাজি, কমটি গঠন, নিজেদের মধ্যে মারামারি, অসংলগ্ন কথাবার্তা ও অনেকের দাম্ভিক আচরনের কারনে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে সোনারগাঁয়ের সর্বত্র। এতে করে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন দু দলের নেতারা।
দলীয় প্রধানদের নিয়ে নানান কথা, নিজেদের মধ্যে মারামারি ও কমিটি গঠন নিয়ে বছরের শুরুতেই আলোচনা রয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও থানা বিএনপি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের কারনে শুধু সোনারগাঁয়ে নয়, নারায়ণগঞ্জ তথা সারা দেশে তাদের কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। তাদের এহেন কর্মকান্ডে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে দুদলের নেতারা। অপর দিকে তাদের এহেন কর্মকান্ডে শঙ্কায় রয়েছেন সোনারগাঁয়ের তৃনমুল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি নেতারাও।
সুত্র থেকে জানা গেছে. গত কয়েকদিন আগে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের এক অনুষ্ঠানে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু বলেন, যুবলীগ এক থাকলে কেউ আমাদের কিছু করতে পারবেনা। আমার ওজন উপজেলার ১০টা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বেশী, প্রধানমন্ত্রী আমাকে চেনেন। রফিকুল ইসলাম নান্নুর এ বক্তব্যের পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ ভাইরাল হয়। যা নিয়ে ক্ষোভে ফুসে উঠেন উপজেলার সকল চেয়ারম্যানরা।
এর একদিন পর মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় সাবেক এমপি মোবারক হোসেনের ছেলে এফরান হোসেন দীপের ফেস্টুন ছেড়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হতে থাকে খোদ মোগরাপাড়া ইউনিয়নে। একই মাসের ১৬ তারিখে সোনারগাঁ উপজেলা চত্বরে কাইকারটেক হাটের টেন্ডার নিয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সেই সংঘর্ষে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২০জন নেতাকর্মী আহত হয়।
এ সংঘর্ষের কারনে বিব্রত হয়ে পড়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের দুটি মামলা হয়। মামলায় আসামী করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম, যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনি ও তার পরিবারকে। এই মামলার পর দলের অভ্যন্তরিন কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
এর পর ১৬ ফেব্রুয়ারী রাতে বারদী ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকায় একটি ইসলামী অনুষ্ঠানে বারদী চেয়ারম্যান লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুল প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি বারদীর ম্যাজিষ্ট্রেট, প্রধানমন্ত্রী বারদী আসতে হলে আমার হুকুম লাগবে। এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিব্রত হয়ে পড়েন কেন্দীয়, জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগ। তার এ বক্তব্যের একদিন পর তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এর দুদিন পর উপজেলা আওয়ামীলীগও তাকে অব্যাহতি বহাল রেখে তাকে শোকজ দেন।
অপরদিকে, গত কয়েকদিন আগে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়। থানা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিব মোশারফ হোসেন যে প্যাডে কমিটির অনুমোদন দেন, সেই প্যাডের উপর লিখা হয় খালেদা জিয়া অমর হোক। প্যাডের উপর লিখা খালেদা জিয়া অমর হোক এ প্যাডটিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
যা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা ঝড় বয়ে যায়। যদিও মান্নান ও মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুলটি করেননি। প্রিটিংয়ে ভুল হয়েছে। যা সাথে সাথে সংশোধন করে দেয়া হয়েছে। তাদের এহেন ভুল মানতে নারাজ বিএনপির আরেকটি পন্থ্যি। তারা পরের দিন মান্নান ও মোশারফ হোসেনকে বাদি করে একটি মামলা দায়ের করেন।


