Logo
Logo
×

রাজনীতি

আ’লীগের কাঠগড়ায় দেলোয়ার চেয়ারম্যান

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:৪৮ পিএম

আ’লীগের কাঠগড়ায় দেলোয়ার চেয়ারম্যান
Swapno

# এখনও মামলা না হওয়ায় তৃণমূলের ক্ষোভ প্রকাশ
# অবশ্যই একটি কার্যকর ব্যবস্থা চাই :  তৃণমূল

 

বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ এবং বাঙ্গালী জাতি একসূত্রে গাঁথা। তাই বাংলাদেশের কোন লোক যদি বলে আমি বঙ্গবন্ধুকে জানি না সেটা শুধু হাস্যকরই নয়, উদ্ভটও বটে। কিন্তু এখানে যদি কোন জনপ্রতিনিধি বলে যে আমি বঙ্গবন্ধুকে জানি না। যেই দেশে বাস করে একাধারে তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে যদি বলেন, এই দেশের প্রধানমন্ত্রী; যিনি নাকি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, সেই শেখ হাসিনাকে চিনেন না, তাহলে দেশ ও জাতির জন্য বিষয়টা কতটুকু বিব্রতকর ও লজ্জাজনক হতে পারে।

 

বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ ভক্তদের মনে চরম ক্ষোভ এবং তার পাশাপাশি দেলোয়ারের বিরুদ্ধে এখনও কোন আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তৃণমূলের দাবি, এমনিতেই ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের সময় বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও প্রতীক নিয়ে অনেক হাস্য রচনা করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন প্রধান ও তার সমর্থকরা।

 

এমনকি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে জয় লাভ করার পর সরকারে থাকা অবস্থায়ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উপর নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। সেই দেলোয়ার প্রধান এখন বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুকে জানি না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানি না, আমি জানি শুধু ওসমান পরিবারকে। আর এমন মন্তব্যের পর এতদিন পার হওয়া সত্ত্বেও কেন তার বিরুদ্ধে কেন মামলা বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি এই বিষয়টি নিয়ে তারা হতাশা প্রকাশ করেন।

 

তবে এবার ফেঁসে যাচ্ছেন দেলোয়ার প্রধান। তৃণমূলের আহবানে সাড়া দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রেমিকদের নিরাশ করতে রাজি নন জেলা আওয়ামী লীগ। তাই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইসহ নেতৃবৃন্দ দায়িত্ব নিয়ে দেলোয়ারসহ এধরণের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ এর জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের নিকট স্মারকলিপি পেশসহ বিভিন্ন দপ্তরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছেন তারা।

 

তাদের এই ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে আওয়ামী ভক্তদের দাবি শুধু উদ্যোগ নয়, এর একটি কার্যকর ব্যবস্থা অবশ্যই নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরণের দৃষ্টটা দেখাতে অনেকেই চেষ্টা করবে। এরই মধ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই দেলোয়ার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার জন্য চিন্তাভাবনা করছেন বলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।

 

অবশ্য আওয়ামী লীগকে নিয়ে জাতীয় পার্টির নেতাদের এধরণের অবমাননাকর বক্তব্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের সময় দেলোয়ার হোসেন প্রধানের পক্ষে একটি উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নৌকা প্রার্থীকে হুমকি দিয়ে জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক ও বন্দর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানুও বলেছিলেন

 

আমাদের ছাড়া যদি আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে পারে, এই দেশ ছেড়ে চলে যাব। আমাদের অবহেলা করবেন না, আর আমাদের ছোট ভাববেন না। আমরা মহাজোটের অংশীদার, মহাজোটে থেকে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছি। আজকে যদি বিরোধী দল থেকে সরে দাড়াই, তাহলে কালকেই জাতীয় সংসদের নির্বাচন হবে। সেইটার চিন্তা করেন নাকি?

 

এসব বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া বলেন, দেলোয়ার প্রধান তো জাতীয় পার্টির লোক। এমপি সেলিম ওসমানই বলছেন যে দেলোয়ার জাতীয় পার্টির, ওনি আরও বলেছেন যে, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে ওসমান পার্টি। সেহেতু দেলোয়ার বলছে যে, আমি নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবার ছাড়া আর কিছু চিনি না।

 

এ কথা বলার কারণ হলো, সে জাতীয় পার্টি এবং ওসমান পার্টি করে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সেতো বলতেই পারে। তার বিরুদ্ধে তো কোন প্রতিকারই হচ্ছে না। যেখানে এমপি নৌকাকে গাঞ্জার নৌকা বলেন, তার কোন প্রতিকার হয়নি। যেহেতু আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির সাথে জোটবদ্ধভাবে আছে তাই এটা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দেখার বিষয়। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কর্তব্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে জানানো।

 

এখানে সেলিম ওসমান দফায় দফায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোন বলে স্বীকার করেন, শামীম ওসমানও শেখ হাসিনা ছাড়া কাউকে গণায় ধরে না। এই দুইজন ব্যক্তি থাকতে যদি কেউ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শেখ হাসিনাকে নিয়ে এসব কথা বলে সেখানে আমাদের দুঃখ প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই করার নাই। এখানে তৃণমূল থেকে দেলোয়ার প্রধানের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা যারা আওয়ামী লীগকে ভালবাসে বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসে তারা তাদের মনের মধ্যে যে দাবির সৃষ্টি হয়েছে তা প্রকাশ পেয়েছে।

 

তাদের সাধ্য অনুযায়ী তারা প্রতিবাদ করতেছে যে তার পদত্যাগ চাই। এই দাবিটা জেলা আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে পৌছতে হবে। জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের নিকট স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু ওনারা (ওসমান পরিবার) বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কিছুই বুঝেন না, তাই বিষয়টা এখন প্রধানমন্ত্রীর উপর। তারা যদি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে পারেন তাহলে একটি সমাধান হবে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন