Logo
Logo
×

রাজনীতি

রাজনীতির নামে অনেকেই ধান্দাবাজি ব্যবসা করে : শামীম ওসমান

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:০৮ পিএম

রাজনীতির নামে অনেকেই ধান্দাবাজি ব্যবসা করে : শামীম ওসমান
Swapno

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, রাজনীতি মানে এখন অনেকেই মনে করে ধান্দাবাজী, ব্যবসা। অনেকে তাই করেও। অনেকে রাজনীতি করে নেওয়ার জন্য, অল্প কিছু মানুষ দেয়। আমার বড় ভাই সেলিম ওসমান বড় ভালো মানুষ, আপনাদের দিতে এসেছেন। বন্দর এলাকায় শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

 

শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের রাজধানীর নাম হচ্ছে বন্দর। কারণ, আমরা নারায়ণগঞ্জের পরিচয়দেই বন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জ বলে। আমারও এই আসন থেকে নির্বাচন করার কথা। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর আমার বড় ভাই নাসিম ওসমান এখানে চলে এসেছেন। তাই আমি চলে গেলাম ফতুল্লায়। এখন বড় ভাই সেলিম ওসমান আপনাদের জন্য প্রতিনিধিত্ব করছেন।

 

তিনি কিন্তু প্রথমে নির্বাচনে আসতে চায়নি, তাকে জোর করে আনা হয়েছে। আমরা সকলেই বুঝিয়েছি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। যখন আমার আম্মা বললেন, তুমি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করো, তখন রাজি হয়েছে। এখন নিজের পকেটের টাকা দিয়ে ৭টি স্কুল করে দিয়েছে।


শামীম ওসমান বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একদিন বললাম, আপা উনাকে (সেলিম ওসমান) একটু থামান। উনি কিন্তু সব টাকা শেষ করে ফেলছে, ব্যাংকে লোন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তখন প্রধানমন্ত্রী সেলিম ওসমান ভাইকে ডেকে বললো, ‘সেলিম তুমি যা করছো, ওটার নাম হচ্ছে, সদকায়ে জারিয়া। তুমি করো, আল্লাহ তোমাকে ঠকাবে না।

 

দ্বিতীয়বারও নির্বাচন করতে চাইলো না। তখনো বলা হলো-সবাইতো নেওয়ার জন্য আসে, খুব কম জনপ্রতিনিধি আছে, দেওয়ার জন্য আসে। তুমি দেওয়ার জন্য আসছো, তুমি নির্বাচন করো।


আল্লাহকে স্বাক্ষী রেখে বলতে চাই, আমার বড় ভাই নাসিম ওসমানও অত্যান্ত ভালো একজন মানুষ ছিলেন। আমরা হুজুরদের ডেকে এনে দোয়া ইউনুস পড়াই। আর আমার ভাই নাসিম ওসমান একাই সেই দোয়া ইউনুস খতম পড়তেন।


শামীম ওসমান বলেন, এই কথা গুলো এই এখানে বলার কথা না। আমার মনে হয়, দুনিয়াতে খুব অল্প সময়ের জন্য এসেছি, আমার মনে হয় যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। দুনিয়াতে একটাই সত্য। আমাদের সবাইকে চলে যেতে হবে। এক দম ফাইনাল কথা, কবরের তলে যখন থাকবো, আমার সাথে তো কিছু থাকবে না। আপসোস, এই দুনিয়াতে না যত বয়স বারে, আমাদের মতো মানুষের ততটা আপসোস বারে। এটা কেন করলাম না, ওইটা কেন করলাম না, কি আপসোস।

খেলার বিষয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমিও খেলোয়ার ছিলাম, খেলতে খেলতে বড় হয়েছি। আমার বাবা আমার পরিচয় দিতো না। কলেজে সেকেন্ড ইয়ার পর্যন্ত আমাকে কেউ চিনতো না। আমি কে? যখন আমি টেবিল টেনিস ও ব্যাডমিন্টনে সবগুলো প্রাইজ জিতলাম একা, তখন সবাই জিজ্ঞাস করতো, কে এই ছেলে? অধ্যক্ষ স্যার বলে দিলেন, আমি একেএম সামসুজ্জোহার ছেলে। তখন সবাই চিনলো। তখন দেখলাম, সাধারণ ছেলেরা কেমন যেন হয়ে গেলো। তখন বললো, ওর সাথে না আমাদের বন্ধুত্ব।


কলেজের দিন গুলোতে বাবার বলা স্মৃতি স্মরণ করে শামীম ওসমান বলেন, কলেজে যাওয়ার সময় আমাকে ৩ সেট কাপড় দেওয়া হয়েছিল, আর ২ সেট জুতা। এর বাহিরে আর কোন কাপড় দেওয়া হয়নি।

 

তখন কাপড় দিয়ে বাবা বলেছিলেন, তুমি যে কলেজে পড়তে যাচ্ছে, সেই কলেজের অধিকাংশ ছেলে-মেয়েই মধ্যবিত্ত পরিবারের, আমি যদি নাও বলি তুমি রাজনীতি করবে, যেহেতু তুমি রাজনীতি করবে, আমি চাই না তুমি এখন করো। কিন্তু যদি করো, তাহলে ওই কলেজের সবচেয়ে নিরীহ ছেলেটা যাতে তোমাকে বন্ধু ভাবে। আমি তার কথা মতো এমন ভাবেই চলে ছিলাম। আর চলেছি দেখেই আমি তোলারাম কলেজে বারবার ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলাম।


শামীম ওসমান বলেন, আমি সবাইকে একটা কথা বলি, আল্লাহ-ভগমান দেখি না। যার যার বিশ্বাস তার তার কাছে, কিন্তু যার মাধ্যমে আপনাদের পাঠিয়েছে, তাকে তো দেখেন? আপনিতো সরাসরি পৃথিবীতে পরেন নাই, মায়ের গর্ভধারণ করে আপনাকে পাঠিয়েছে। তাই মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালন করো, মা-বাবা যদি খুঁশি থাকে তোমার উপর। বিশ্বাস করো, পৃথীবির কোন শক্তি নাই তোমাকে ঠেকিয়ে রাখবে। তোমার স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ হবে।


শামীম ওসমান আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে কিছু কাজ করার চেষ্টা করছি, আপনাদের সকলের দোয়ায়। নারায়ণগঞ্জে যতগুলো বড় কাজ হয়েছে, কলেজ, স্টেডিয়াম, লিংক রোড। ডিএনডি প্রজেক্ট, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজের মতো বড় বড় প্রকল্প যা হচ্ছে, আল্লাহর রহমতে আমাদের পরিবারের হাত দিয়েই কাজটা করিয়েছে। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া।

 

অনেকে অনেক কাজ করে বলে আমি করে দিয়েছি, আমি বলবো, আপনি কে? আপনি কেউ না। আল্লাহর হুকুম হয়েছে, আপনি মাধ্যম হয়ে করেছেন। আমরা হয়েছি মাধ্যম, মানুষকে খুঁশি করে যদি সৃষ্টিকরতাকে খুঁশি করা যায়, তাহলে এটাই বড় এবাদত আমি মনে করি। এ জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া চাই, সামনে সময় টা বেশি ভালো না।

 

দেশটাকে একটা ধ্বংসস্তপে পরিনত করার চেষ্টা হচ্ছে। সরকার পরিবর্তন হলে হতেই পারে, সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেওয়ার একটা পরিকল্পনা চলছে, আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎটা নষ্ট হয়ে যাবে। সবাই দোয়া করবেন, সচেতন থাকবেন। যাতে দেশটা ভালো থাকে। শামীম ওসমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ করি বলে বলছি না, আওয়ামী লীগেও যে সবাই ভালো, এটাও বলবো না।

 

সব দলের মধ্যে ভালো খারাপ আছে, এটাই সত্য। কিন্তু এটা বলবো, শেখ হাসিনাকে দরকার, এই বাঁচ্চাদের ভবিষ্যতের জন্য। বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে আমরা অনেক পিছিয়েছি, আল্লাহ মাফ করুক, যদি শেখ হাসিনার কিছু হয়ে যায়। তাহলে বাংলাদেশ আর এগিয়ে যেতে পারবে না। তাই চলুন, সবাই সবার জন্য দোয়া করি’।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন