পদে আসতে পারছেনা বহিস্কৃত আল মামুন
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৪:৫৮ পিএম
নানা কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হয়ে ক্ষমতাসীন দল থেকে বহিস্কৃত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন। তার বিরুদ্ধে কমিটি বানিজ্য করে অর্ধ কোটি টাকা ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
১১ নভেম্বরে গোগনগর ইউনিয়নে নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেন তিনি। ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকার বিপক্ষে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ফজর আলীর পক্ষে গিয়ে নৌকাকে অবজ্ঞা করে বক্তব্য রাখেন। তিনি গত বছরের গোগনগর ইউনিয়নের এক সভায় আল মামুন বলেছেন, নৌকার দরকার নেই প্রয়োজনে আম পাতা মার্কা নিয়ে ফজর আলীকে নির্বাচিত করবো।
তার এই বক্তব্যের কারনে তাকে ক্ষমতাসীন দলের সদর থানা আওয়ামীরীগের সেক্রেটারি পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। জেলা আওয়ামীলীগের ওয়াকিং মিটিং করে তাকে বহিস্কার করেন। বর্তমানে তিনি পদ শুণ্য হলেও অনেক জায়গায় এই পদ ব্যবহার করে ধান্দা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক মাস আগে গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজিজ মাষ্টার ও সেক্রেটারি এমিএম আজহারুল ইসলাম আল মামুনের বিরুদ্ধে কমিটির বানিজ্য অভিযোগ জেলা আওয়ামীলীগের হাই কমান্ড বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন
অভিযোগে তারা উল্লেখ্য করেন, সদর থানা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বে থাকা কালিন আল মামুন অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। সদর থানা কমিটিতে তাদের পদ দেয়ার কথা বলে টাকা নেন।সদর থানা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসটি আলমগীর সরকার বলেন, সদর থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সেক্রেটারি আল মামুন আমার কাছ থেকে হাওলাদের কথা বলে ১ লাখেন উপরে টাকা নিয়েছে যা এখনো দেয় নাই।
এছাড়া সদর থানা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে অনেক কে পদ দেয়া কথা বলে তাদের থেকে বিভিন্ন ভাবে ২০ লাখের বেশি টাকা নেন। তার মাঝে সায়েম আহম্ম নামে এক ব্যক্তিকে যুগ্ম সম্পাদক পদ দেয়ার কথা বলে একজনের কাছ থেকে নেন প্রায় ৫ লাখ টাকা। পরে তার জায়গায় জাকির হোসেনের ভাগিনা দিদারকে যুগ্ম সম্পাদক পদ দেয়ার কথা বলে জাকিরের কাছ থেকে আমার মাধ্যমে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন।
এছাড়াও আলীরটেকের এক নারীকে মহিলা সম্পাদিকা পদ দেয়া কথা বলে তার কাছ ১ লাখ টাকা নেন। সেই সাথে ওই নারীকে কু প্রস্তাব দেয় বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।এদিকে আলীরটেক ও গোগনগর ইউনিয়নের একাধিক নেতা জানান, আল মামুন যতদিন সদর থানায় নেতৃত্ব দিয়েছে ততোদিন দল শক্তিশালী হওয়ার চেয়ে আরও দূর্বল হয়েছে।
এছাড়া ইউনিয়ন নির্বাচনে এই দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের থেকে বিভিন্ন কথা বলে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নেন বলে জানান নেতা কর্মীরা। সদর থানা প্রস্তাবিত কমিটির নাম করে কমিটি বাণিজ্য করে নানান জনের কাছ থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা নেন। এমনকি যাদের সদস্য পদে রাখা হয়েছিল তাদের থেকেও টাকা নেন তিনি।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন শেষ নেই। সে সদর থানায় দীর্ঘ দিন দলে নেতৃত্ব থাকায় ২০ থেকে ২৩ বছর যাবৎ আলীরটেক ও গোগনগ ইউপিতে আওয়ামীলীগের কোন কমিটি হয় নাই। আর এতে করে দলীয় কার্যক্রম আরও দূর্বল হয়ে পরে ওই এলাকা গুলোতে। তবে তার সেই প্রস্তাবিত কমিটিতে বিতর্কিতদের নাম থাকায় তা অনুমোদন হয় নাই।
সেই সাথে ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হয় নাই। আর এজন্য এবার দলকে ঢেলে সাজানোর জন্য তার মত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে সাজানো উচিৎ বলে মনে করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।অন্যদিকে ১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামীলীগের এক সভায় একাধিক নেতা বলেন, যারা দলের নির্দেশনা মানে না, তাদের বিষয়ে তো আমাদের আগে থেকেই নির্দেশনা আছে।
যারা বহিষ্কার হয়েছে, সাময়িক বহিষ্কার হয়েছে, শোকজ হয়েছে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের নেতৃত্বে আনা যাবে না। এ বিষয়গুলো সামনে রেখে দলকে গণমুখী করা, আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলকে ঢেলে সাজানো, যাতে দলের নতুন নেতৃত্বের ওপর জনগণের প্রত্যাশার জায়গাটা আরও শক্তিশালী হয়, সুদৃঢ় হয়। এ লক্ষ্যে দলকে সম্মেলন করতে হবে। তাই রাজনৈতিক মহলের মতে বহিস্কৃত আল মামুন পদে আসতে পারছে না।
সদর থানা আওয়ামীলীগের সাবেক বহিস্কৃত সেক্রেটারি আল মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান। এখন কথা বলতে পারবেন না বলে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।


