বিএনপির রাজপথ কাঁপানো নেতারাও নিশ্চুপ!
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৪৩ পিএম
# ত্যাগীরা পদবঞ্চিত হওয়াতেই এই অবস্থা
# ফটোসেশন ও হুংকারেই সীমাবদ্ধ পদধারীরা
বিএনপির এক সময়ে রাজপথ কাঁপানো নেতারাও বর্তমানে নিশ্চুপ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনে হামলা-মামলার ভয়কে উপেক্ষা করে রাজপথে নামবে এমন নেতা খুঁজে পাওয়া রীতিমত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বেশ কয়েকজন নেতা সাহস দেখিয়ে রাজপতে নামলেও তারাও রাজনীতিতে ইউটার্ন নিয়েছেন।
তাই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে সাহসী নেতার বড় অভাব দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দলের কোনো কর্মসূচি পালনেও দেখা যায়নি এক সময়ের সাহসী বিএনপির অনেক নেতাদেরকে। এতে করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। সূত্রে জানা যায়, বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামের সময়ে যে সমস্ত নেতা সাহস নিয়ে রাজনীতির মাঠে অবস্থান নিয়ে দলীয় কর্মকান্ডের দিক নিদের্শনা দিতেন দলের মধ্যে তেমন সাহসী নেতা এখন নেই বল্লেই চলে।
বর্তমানে যারা রয়েছে এদের মধ্যে গুটি কয়েক নেতা রাজপথে সক্রিয় হতে চাইলে মামলার ভয়ে গ্রেফতার আতংকে রাজপথে নামতে সাহস পাচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জের বিএনপির শীর্ষ নেতারা রাজপথে নামবে তো দূরের কথা আত্মগোপনে থেকে দিন কাটাচ্ছেন। যে কারণে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি ধীরে ধীরে তাদের জৌলুস হারাতে বসেছে। যে কারণে বিএনপির রাজনীতি অনেকটা হুংকার আর ফটোসেশনেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচীতে মহানগর বিএনপির হাতে গুনা কয়েকজন নেতারা ফটোসেশন করে দায়িত্ব পালন শেষ। আর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠনের পর রাজপথে কয়েকটা কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের কান্ডে সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও ও রূপগঞ্জ থানায় পৃথক পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়।
এই সব মামলায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীও আসামী হয়। এই মামলার ভয়ে বর্তমানে পালতক আছে বিএনপির বেশ কিছু শীর্ষ নেতারা। আর এ কারণেই দলের দু:সময়ে দলের জন্য কিছু করতে পারছেন না জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর ফলে জেলা ও মহানগর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা ও সাহসীকতা নিয়ে রাজনীতির মাঠে আলোচনার ঝড় ওঠে।
আর বর্তমান অবস্থা চলমান থাকলে জামাতের মতও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অস্থিত্ব থাকবে না। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের নীরব ভূমিকার কারণে পাঁচটি আসনেই ভরাডুবি হয়েছে। নির্বাচনের সময়ে নেতারা রাজপথে না নেমে ভুমিকা রাখতে পারেনি। নির্বাচনের পরও একই ভাবে রাজনীতি করছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।
ফটোসেশনের রাজনীতি শুরু করে। এখন বিএনপির রাজনীতিতে নিয়মে পরিনত হয়েছে। অলি-গলি অথবা বন্ধ রুমে ভাড়া করা লোকদের নিয়ে ফটোসেশনের মধ্যদিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। রাজপথে না থেকে তারা এখন প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজেদের অস্থিত্ব টিকেয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে এ ধরনের রাজনীতি থেকে বিএনপিকে সরিয়ে আনতে হলে সাহসী ও দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির দলীয় কর্মকান্ড এবং দলের বেশ কিছু নেতারা ভূমিকা প্রশ্ন বিদ্ধ ছিলো অনেক আগে থেকেই। এ নিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির একাধিক নেতাকে নিয়ে নানা সময়ে সমালোচনার ঝড় উঠতে দেখা গেছে। এছাড়া অনেক নেতা দলের মধ্যে নিজের অস্থিত্ব ও আধিপত্য বিস্তারে নানা কৌশল অবলম্বন করে একাধিক বার সংবাদ শিরোনামে পরিনত হয়েছে।
কিছু কিছু নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে স্বেচ্চাচারিতার অভিযোগও। আর দলের ক্রান্তিকালের সময়েও এসব কারণে দলের ভেতরে যেমন বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি নানা কোন্দলের জর্জড়িত হয়ে অনেক ও কর্মীরা রাজনীতির ময়দান ত্যাগ করে রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে দেখা গেছে। এসব সাবির্ক বিষয়ের কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি তাদের পূর্বের জৌলস হারিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।
এদিকে, বর্তমান সময়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনে সাহসী নেতার অভাব রয়েছে। আগে যারা রাজনীতির মাঠে বীরদর্পে বিচরন করতেন বিএনপির বর্তমান রাজনীতিতে সে সমস্ত সাহসী নেতার অনেক অভাব রয়েছে।
আর এ কারণে দলের দু:সময়ে রাজপথ বিএনপিবিহীন পরে আছে। বর্তমান অবস্থায় মনে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের কাছে রাজপথ বন্ধক দিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা নির্বাসনে জীবন যাপন করছে। যে কারনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি ফটোসেশন ও হুংকারেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।


