জীবিতকে মৃত দেখানোর সেই মামলা প্রত্যাহার
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২২, ০৫:০১ পিএম
# সবাইকে নিয়ে সোনারগাঁ বিএনপির রাজনীতি করতে চাই: মান্নান
# কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশেই মামলা প্রত্যাহার করেছি: রাসেল
সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির ১০টি ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া দলীয় প্যাডে জীবিত খালেদা জিয়াকে মৃত উল্লেখ্য করে ‘খালেদা জিয়াকে অমর হোক’ লেখায় সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আজহারুল ইসলাম মান্নান ও সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দায়ের নয়দিনের মাথায় অবশেষে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাদী নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সোনারগাওঁ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাসেল রানা।
সোমবার ( ২৮ ফেব্রেুয়ারি) সকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুর মোহসীন’র আদালতে বাদী তার আইনজীবীদের এড. আব্দুর রহিমের মাধ্যামে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। এবং আদালত নেই আবেদন গ্রহণও করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী এড. আব্দুর রহিম।বাদীর আইনজীবী এড. আব্দুর রহিম যুগের চিন্তাকে বলেন, মামলার বাদী ও বিবাদী তারা নিজেরা আদালতের বাইরে নিজেরে মধ্যে আপোষ- মীমাংসা করে ফেলেছে এইমর্মে আদালতে মামলা প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করলে আদালত গ্রহণ তা করেন। ফলে মামলা প্রত্যাহার হয়ে গেছে।
এদিকে দলীয় প্যাডে জীবিত খালেদা জিয়াকে মৃত উল্লেখ্য করে ‘খালেদা জিয়াকে অমর হোক’ লেখায় মানহানির অভিযোগ করে গত (২০ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহসিনের আদালতে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাসেল রানা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সোনারগাঁও থানার পরির্দশক (তদন্ত)কে তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন আগামী মার্চ ২১ তারিখ আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সিআর মামলা নং- ৬৮/২২।
এবিষয়ে মামলার বাদী নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল রানা যুগের চিন্তাকে বলেন, আদালতের বাইরে আমরা নিজেরাই আপোষ মিমাংসা করে ফেলেছি। কোনো আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে না। বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশেই মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছি। তারা বলেছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবে। সুতরাং আমি যেহেতু দলের কর্মী আমাকে অবশ্যই হাইকমান্ড দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা মানতেই হবে।
এবিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আজহারুল ইসলাম মান্নান যুগের চিন্তাকে বলেন, এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে লজ্জিত ও ক্ষমাও চেয়েছি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাহেবের কাছে। আর এই মামলাটি করাও হয়েছিলো অযুক্তিভাবে। সুতরাং সে মামলা প্রত্যাহার করে দিয়েছে ভালো হয়েছে। রাসেল স্বেচ্ছায় মামলা প্রত্যাহার করেছে। তবে এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। কারন সে ( রাসেল) আমার ভাগিনা। আর ভাগিনা থাকবে। আমি সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সোনারগাঁ বিএনপির রাজনীতি করতে চাই।
সূত্র জানায়, সোনারগাঁও বিএনপি'র আহবায়ক আজহারুল ইসলাম মান্নান এর জন্য পুরো বিএনপি আজ দেশব্যাপী আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন। কারণ অতীতে মান্নানের মতন এমন ভুল কোন বিএনপি নেতা করেনি। আর এবিষয়ে মামলা করায় তোপের মুখে পড়েছে পুরো বিএনপি। আর আজহারুল ইসলাম মান্নান নিজের ভুল স্বীকার করে নাকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারেও গিয়েছিলেন মান্নান। এবং এমন ভুলের জন্য তিনি কেন্দ্রীয় নেতা তথা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, গত ১৮ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আজহারুল ইসলাম মান্নান ও সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত প্যাডে ১০টি ইউনিয়ন বিএনপি কমিটির অনুমোদন দেন।
সেই সাথে নবগঠিত কমিটির তালিকা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও গণমাধ্যম কর্মীদের হাতেও পৌঁছে। আর সেই কাগজের উপর দিকে মাঝ বরাবর লেখা রয়েছে ‘খালেদা জিয়া অমর হোক’। আর এই লেখা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।


