Logo
Logo
×

রাজনীতি

ক্ষমতার কথায় উত্তপ্ত না.গঞ্জ

Icon

অর্ণব হাসান

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২২, ০৬:০৭ পিএম

ক্ষমতার কথায় উত্তপ্ত না.গঞ্জ
Swapno

# রাজনীতিক-চেয়ারম্যানরা বেসামাল
# ক্ষমতায় থেকেও অসহায় একাংশ

 

গত বছরের শেষের দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে কেন্দ্র করে এখানকার রাজনীতি পরিবেশ অনেকটা গরম সময় অতিবাহিত হয়। যা নাসিক নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত গরম থাকে।

 

তখন এই জেলার উত্তর দক্ষিন বলয়ের অনুসারীরা বিভিন্ন সভায় গরম বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় থাকেন। নাসিক নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ভাষার মাসে এসে ক্ষমতাসীন ও তার বাহিরের দলের কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার বেসামাল বক্তব্যে সারা শহর তথা জেলায় রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত বিরাজ করছে।

 

জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যের জন্য আইনানুগ ভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা আওয়ামীলীগ হতে স্বারকলিপি দেয়া হয়েছে। তার মাঝে ১ জনের জন্য মামলার আবেদন করা হয়েছে, যা রিতিমত তদন্তে আছে।

 

বাকিদের ব্যাপারেও যে কোন সময় মামলা হতে পারে বলে জানান একটি সুত্র। তার আগে নাসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনায় থাকে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল।

 

তিনি জেলার প্রভাবশালি এমপি শামীম ওসমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। একই সাথে এই প্রভাবশালীর নেতার বন্ধু হিসেবে পরিচিত । তবে নাসিক নির্বাচনের পর কয়েক দিন জেলা রাজনীতি পরিবেশ শান্ত থাকলেও এই ভাষার মাসে এসে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও সদ্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বেসামাল বক্তব্যে উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।


এদিকে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলার ৩ জন চেয়ারম্যানের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে। সেই সাথে তাদের বেপারে কি ব্যবস্থা নেয়া হয় সেই দিকে তাকিয়ে আছে দলীয় নেতৃবৃন্দ। কয়েক দিন আগে ১২ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের অঢিটোরিয়ামে এক সভায় আলীরটেক ইউপির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, আমি নৌকা নিয়ে নির্বাচন করায় ভোট কম পাইছি।

 

অন্য কেউ হলে পাশ ওই করতো না। আমি অন্য মার্কা নিয়ে নির্বাচন করলে ৯৫ ভাগ ভোট পাইতাম, কিন্তু নৌকা নিয়ে নির্বাচন করায় ৯০ ভাগ ভোট পাইছি। তার এই বক্তব্যে ক্ষমাতসীন দলের নেতাদের রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানিয়ে তারা প্রতিবাদ করেন। সেই সাথে তারা প্রশ্ন তোলেন তাকে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করতে কে কইছে।

 

জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ হতে তাকে নৌকা দেয়া হয় নাই বলে একাধিক নেতা তাদের বক্তব্যে বলেন।এনিয়ে ডিসি এসপির কাছে স্মারকলিপি দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে নানা অবান্তর অভিযোগ তোলেন চেয়ারম্যান জাকির হোসেন।


অন্য দিকে সোনারগাঁ উপেজলা বারদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন মো. মাহবুবুর রহমান বাবুল এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে বলেন, তিনি বারদীর ম্যাজিষ্ট্রেট। বারদীতে কোন পুলিশ প্রবেশ করতে হলে তার অনুমতি লাগবে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসলেও তার অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে একাধিক আইনজীবি জানান, দেশের সংবিধান অনুযায়ী কোন এলাকায় কেউ গেলে অনুমতি নিতে হয় না।

 

কিন্তু তিনি কিসের প্রেক্ষিতে এই কথা বলেছেন তা তিনি নিজেই জানে না। আরেক দিকে নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলা কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান এক সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুকে চিনি না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিনি না। কে খালেদা জিয়া, আর কে তারেক জিয়া তা বুঝি না।

 

আমি শুধু অনলি ওসমান পরিবার চিনি। অথচ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় তিনি প্রধামন্ত্রীর অধীনস্থ একজন কর্মচারী। আর এজন্য তার এই বক্তব্য নিয়ে রাজনীতিবিদরা প্রশ্ন তোলেন তিনি সরকারে অধীনস্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী অথচ প্রধানমন্ত্রীকে চিনেন না।

 

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে চিনে না জানে না এমন মানুষ নেই। সে জনপ্রতিনিধি হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিনে না তাহলে তিনি এই দেশের নাগরিক না। তার এই বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধের সামিল বলে জনান আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের তিন জনের বক্তব্যই বিভিন্ন গণমাধ্যম সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হয়।


রাজনৈতিক নেতা জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল সামসুজ্জোহা স্বরণ সভায় তার বক্তব্যে বলেন, এই তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্বারকলিপি দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দেন। যখন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে ডিসি ও এসপি বরাবর স্বারকলিপি দেয়া হয় তখন বাদলই আবার বলেন স্বারকলিপির বিষয়ে তিনি জানেন না। এটা নাকি আব্দুল হাইয়ের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে দেয়া হয়েছে। তার এই বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা হয়।  


এর আগে সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু এক সভায় বলেন, তিনি সোনারগাঁয়ের ১০ টা চেয়ারম্যানের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী। ওই উপজেলা ১০ চেয়ারম্যান তার কাছে কিছু না। কেননা তাকে প্রধানমন্ত্রী চিনে। তাদের এই বক্তব্য নিয়ে চলছে চিরচেনা বিষেøশণ। সেই সাথে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইতিমধ্যে সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন বাবুলের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। যা জেলা ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১১ নভেম্বর ২য় ধাপের ইউপি নির্বাচনে সদর উপজেলা আলীরটেক ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে জাকির হোসেন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন।

 

একই দিনে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নে জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন দেলোয়ার হোসেন প্রধান। তার আগে সোনারগাঁ বারদী ইউপি থেকে নৌকা নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হন লায়ন বাবুল। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হচ্ছে তারা ৩ জনেই  নিজেদের শক্তি দেখাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং নৌকা কে অবজ্ঞা করে বক্তব্য প্রদান করে সমালোচিত হন।

 

তাই সচেতন মহল মনে করেন, তাদের বেসামাল বক্তব্যে জেলার রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত বিরাজ করছে। সর্বশেষ তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা হয় সেই দিকে চেয়ে আছে রাজনীতি, সচেতন ও সর্বস্তরের মানুষ।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন