দলকে শক্তিশালী করাই আমার মূল লক্ষ্য : খোকন সাহা
রাকিবুল ইসলাম
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২২, ০৪:৪০ পিএম
# বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য রাজনীতিতে আসি
# দলের জন্য মায়ের দাহ অনুষ্ঠানেও থাকতে পারিনি
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা যুগের চিন্তাকে দেয়া এক স্বাক্ষাতকারে বলেছেন, ১৯৭৫ সনে বঙ্গবন্ধুসহ স্বপরিবারের হত্যার ঘটনা আমি সহজ ভাবে নিতে পারি নাই।
তখন আমাদের আনোয়ার ভাই জেলখানায় থাকেন। ওই সময় আমি যে এলাকায় বসবাস করতাম তখন ওই এলাকা আওয়ামীলীগের বেল্ট ছিল। আমি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য আওয়ামীলীগের অঙ্গ-সংগঠন দল ছাত্রলীগে যোগদান করি।
তৎকালিন সময় আমি ও এড. হান্নান, দুলালসহ আরও কয়েকজন মিলে এক সাথে ছাত্রলীগ করি। ১৯৭৬ সনে বর্তমান ১৪, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার তৎকালিন সময়ে আওয়ামীলীগের সভাপতি এসএম পারভেজের নেতৃত্বে আমরা মিলাদের আয়োজন করি।
পুলিশ এসে আমাদের মিলাদ মাহফিলটি পণ্ড করে দেয়। তখন কেউ বঙ্গবন্ধুর জন্য মিলাদের আয়োজন করতে পেরেছে বলে আমার জানা নেই। কিন্তু আমরা দোয়ার আয়োজন করেছি। বুধবার বিকেলে কালীবাজার এলাকায় যুগের চিন্তাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন।
ক্ষমতাসীন দলের ত্যাগী নেতা খোকন সাহা জানান, পরবর্তিতে বর্তমান ১৪, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড তৎকালীন সময়ে আমি নারায়ণগঞ্জ ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাক পদে দায়িত্ব পাই। পরে পৌর আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক হই। ১৯৯৬ সন থেকে ২০১৩ পর্যন্ত টানা ১৭ বছর পর্যন্ত পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছি।
২০১৩ সনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের গণভবনে ডেকে নিলেন। ওই দিন আমি নেত্রীকে বললাম, আমি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে ৩ টার্ম দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আমাকে এবার অব্যাহতি দেন। আমিতো অনেক দিন দায়িত্ব পালন করলাম। তখন নেত্রী আমাকে বললেন তুমি দলকে আবরও পরিচালনা কর। নেত্রীর কথায় এখনো মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।
তিনি এই প্রতিবেদককে আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন,নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আসছিল। তারা তখন বলেছে নাসিক নির্বাচনের পর পরই আমাদের নিয়ে বসে আলোচনা করে ওয়ার্ড কমিটি গুলো গঠন করার নির্দেশ দিবেন। মার্চ মাসের পর হয়ত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এসে একটি বর্ধিত সভা করে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিতে পারে।
আমরা তাদের নির্দেশ পেলে ২৭ টি ওয়ার্ডের কমিটি ২৭ দিনে শেষ করবো। এখন আমাদের বর্ধিত সভার অপেক্ষা করতে হবে। ঢাকা বিভাগীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের সাথে আমার প্রতিদিন যোগাযোগ হয়। এই বারের নাসিক নির্বাচনে প্রমাণ হইছে নগরীর ২৭ টি ওয়ার্ডে আমাদের কমিটি এবং কর্মী আছে।
তবে অনেক জায়গায় কিছু নেতারা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। অনেকে পত্রিকায় লিখেন নারায়ণগঞ্জে কোন কমিটি নেই, কমিটি না থাকলে আমরা নাসিক নির্বাচন করতাম কেমনে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বুঝে গেছে ২৭ টি ওয়ার্ডে কমিটি আছে। কিন্তু এই কমিটিগুলো পুরনো।
দলকে শক্তিশালী করার প্রসঙ্গে খোকন সাহা বলেন, আগামীতে দলকে শক্তিশাী করে ক্ষমতায় আনার জন্য মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডকে এমনভাবে সংগঠিত করছি এবার যে ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নাসিক নির্বাচনে নৌকাকে পাশ করানো হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে জেলা ২ টি আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী যেন বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয় এই লক্ষে কাজ করছি।
সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি যুগের চিন্তার এই প্রতিবেদককে জানান, ২০২৩ সনের নির্বাচন আমার দল আবার ক্ষমতায় আসুক আমি এটাই চাই। আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া হচ্ছে নেত্রী চতুর্থবারের মত দেশকে আবার নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাক। সেই সাথে বাংলাদেশকে আরও ডিজিটালাইজট করুক। এই মুহুর্তে আমি দলকে গোছানর চিন্তা করছি।
দলকে আরও শক্তিশালি গড়ে তোলার জন্য কাজ করছি। দল শক্তিশালী হলে আমাদের নেত্রীর হাত শক্তিশালী হবে। তাই আমার মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে দলকে ঢেলে সাজানো। আওয়ামলীগের এই নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা ষড়যন্ত্র করে তারা সব সময় তা করে যাবে। এই ষড়যন্ত্রকারী দলের ভিতর ও বাহির দুই জায়গা থেকেও হতে পারে। নেতৃত্ব সঠিক থাকলে ষড়যন্ত্রকারীরা কিছুই করতে পারে না। আমার বিরুদ্ধে যতই ষড়যন্ত্র হোকনা কেন তা প্রতিরোধ করার যোগ্যতা আমার আছে।
জেলা বিএনপি আন্দোলন প্রসঙ্গে খোকন সাহা বলেন, বিএনপি ২০০৮ সন থেকে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে নিয়ে আন্দোলন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা মানুষ থেকে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা বাংলাদেশের জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলছে।
আজকে সারা পৃথিবীতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি। ভারত পাকিস্তানে বাংলাদেশের চেয়ে দ্রব্যমূল্য বেশি। শাক সবজিতে অনেক কম দাম যাচ্ছে। কিন্তু কৃষকরা ঠিক মত দাম পায় না। আমাদের দেশে আলুর পাল্লা ৭০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। অথচ প্রতিবেশি ভারতে ১২০ টাকা পাল্লা। দ্রব্যমূল্য মানুষের সহনীয় পর্যায়ে আছে।
দলের জন্য ত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমি সবচেয়ে বেশি ২০০১ সন থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বিভিন্ন মামলা হামলায় জর্জরিত ছিলাম। বিএনপি জোট সরকারের আমলে বাড়িতে থাকতে পারতাম না। এমনকি দুই বছর যাবৎ বাড়িতে আসতেই পারি নাই। নারায়ণগেঞ্জ এসে আমার অসুস্থ্য মায়ের চিকিৎসা পর্যন্ত করাইতে পারি নাই। আমার মায়ের মৃত্যুর পর দাহ অনুষ্ঠানে আমি থাকতে পারি নাই। একজন সন্তানের জন্য এরচেয়ে বড় কষ্ট আর হতে পারে না। মানুষের বাড়িতে গিয়ে থাকছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি কষ্টে ছিলাম।
কর্মী ও শুভাকাঙ্খীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গড় আয়ু ৭০ থেকে ৭২ বছর। আমরা দল করতে গিয়ে শরীরের প্রতি যে অবিচার করেছি সেই অনুযায়ী থাকার কথা না। সে হিসেবে আমাদের জীবন এখন শেষ প্রান্তে এসে পৌছাইছি।
তাই আমি নতুন প্রজন্মের কাছে মেসেজ বা বার্তা দিয়ে বলতে চাই, মুক্তিযদ্ধের চেতনা ও অসম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে রাজনীতি করতে হবে। একই সাথে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যানের জন্য রাজনীতি করতে হবে। এই উদ্দেশ্যেই রাজনীতি করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।


