যতদিন না পর্যন্ত এই অবৈধ সরকারকে হঠাতে না পারব ততদিন পর্যন্ত ঘরে ফিরবো না বলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাকর্মীদের শপথ বাক্য পাঠ করালেন গেলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে ৯০তে শ্রমিক ছাত্র সমাবেশ হয়েছিল।
ওই আদমজী থেকে ছাত্র শ্রমিক বাঁশের লাঠি নিয়ে কাচপুর থেকে শনিআখরা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে রেখেছিল। সেই অবরোধ্যে সময় কিন্তু এখন আবারও চইলা আইছে । সবকিছু কিন্তু বন্ধ হয়ে যাবে। কাঁচপুর ব্রীজ থেকে চিটাগাং রোড বন্ধ হয়ে যাবে। ওই নরসিংদী হয়ে সিলেট রোড বন্ধ হয়ে যাবে। গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ রোড বন্ধ হয়ে যাবে। আরিচা রোড উত্তরবঙ্গের সাথে বন্ধ হয়ে যাবে।
দক্ষিণবঙ্গের রোড়ও বন্ধ হয়ে যাবে। হাসিনার ক্ষমতা থাকবে না সেই রাস্তা চালু করার। আগামী দিনের যে কর্মসূচি আসবে সেই কর্মসূচি আপনারা রাজপথে থেকে নিজেদের গায়ে’র রক্ত দিতে প্রস্তুত আছে কিনা। তাহলে আজকে নারায়ণগঞ্জের এই শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে আমার সাথে সবাই শপথ পাঠ করতে রাজি আছেন কিনা বলেন। আজকে যারা নেতাকর্মী আছেন সবাই সামনে এসে দুই হাত তুলে আমার সাথে শপথ করুন। যতদিন না পর্যন্ত এই স্বৈরাচারী সরকারকে হঠাতে পারব ততদিন বাড়ি ফিরে যাবেন না।
বুধবার ( ২ মার্চ ) বিকেলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যেমূল্য উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসবস কথা গুলো বলেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বিক্ষোভকে সফল করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আওতাধীন উপজেলা ও পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল,স্বেচ্ছাসেবকদল,শ্রমিকদল, মহিলাদল, কৃষকদল, মৎস্যজীবীদল, তাঁতীদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল দিয়ে দলে দলে সমাবেশে যোগদান করেন। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর শহরে জেলা বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের উচ্চেপড়া ভীড় ছিলো।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা বাংলাদেশে আজকে বিএনপি'র প্রতিবাদ সভা হচ্ছে। আমরা আজকে যে প্রতিবাদ সভা কি করছি এটা কি বিএনপির স্বার্থে নাকি না বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে। আমরা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে এই দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সমাবেশ করছি। কিছুদিন আগে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি করলো বাস মালিকরা আন্দোলন করলো আর বাস ভাড়া বাড়িয়েছে।
পকেট কাটা কার গেল এদেশের জনগণের। কয়েকদিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রী তেলের দাম কমানোর জন্য মিটিং করলো এর কয়েকদিন পরে তেলের দাম বাড়িয়ে দিল। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী কিন্তু বলেছিলেন যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়াবেন। ক্ষমতায় এসে তিনি এখন ৮০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়াচ্ছেন। শুধু তাই না বলেছিলেন ঘরে ঘরে চাকরি দিবেন।
নারায়ণগঞ্জ বাসি অন্তত সচেতন ও সৌভাগ্যবান। না'গঞ্জের মাটি উর্বর মাটি। মার্টিতে সবসময়ই স্বাধীনতার পর থেকেই আপনার আপনাদের অবদান রেখেছেন। যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনারা থেকে উঠেন। ২০১৪ সালে কি আপনারা ভোট দিতে পারছেন পারেননি। ২০১৮ সালেও কিন্তু আপনারা ভোট দিতে পারেননি কারণ দিনের ভোট আগের দিন রাতেই হয়ে গেছিল।
কারণ ৩০ শে ডিসেম্বরের ভোট ২৯ শে ডিসেম্বর রাত হয়ে গিয়েছিল। আপনারা ভোট দিতে পারলেন না আর ভোট ছাড়াই সরকার হলো । এর কারণে এই সরকারের জনগণের কোনো দায়িত্ব নেই ও জনগণের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। কারণ এই সরকার জনগণের সরকার নয়। আর এই সরকার জনগণের সরকার নয় বলেই তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সবকিছুর দাম বাড়িয়েছে। জনগণের দিকে তাকাচ্ছে না।
আর জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে নিতে এখন তিনি নাটক শুরু করেছেন। নাটক টা কি নির্বাচন কমিশন। এই সরকার গণতান্ত্রিক সরকার নয়। সরকার জনগণের সরকার নয় । এই সরকার হল অবৈধ সরকার। ইভিএমের সরকার আগের রাতে সরকার। এই সরকার আজকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ফরিদপুরে ছাত্রলীগের এক কর্মী ২০০০ কোটি টাকা ডাকাতি করেছে চিন্তা করেন তারমানে আওয়ামী লীগ নেতারা কি করেছে। দুর্নীতি ও বিরোধীদল শক্তিকে দমন নির্যাতন করে আজকের সরকার টিকে রয়েছে। এই সরকার খুন-গুম রাহাজানি এবং নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে।
আমাদের সাবেক ছাত্র নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে না ইলিয়াস আলী কোথায়। জবাব দিতে পারবে। চৌধুরী আলম কোথায়। অনেক যুব নেতা ছাত্র নেতা গুম খুনের শিকার হয়েছেন। শুধু তাই নয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কৃষকদল নেতা যারা বিএনপির সমর্থন করে এরকম অনেক নেতাদের কিভাবে খুন করা হয়েছে।
কিছুদিন আগে শুনলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন যারা যারা গুম হয়েছে তাদেরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা আমরা করছি। শুনে অবাকই হলাম। তার মানে তারা সবকিছু জানে। না'গঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনিকে কিভাবে হাত পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছিল আপনারা জানেন। আজকে তারা গুম খুন রাহাজানি ছিনতাই যা খুশি তা মতন চালাচ্ছে।
এই সরকারের হাতে কোন কিছুই নিরাপদ নয়। জনগণের জানমাল নিরাপদ নয়। আজকে সরকার শুধুমাত্র প্রশাসন দিকেই ক্ষমতায় বেঁচে আছেন। জনগণ কিন্তু তাদের পাশে নাই। তিনি বলেন, দেখেন বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। একজন সেক্টর কমান্ডার, সাবেক সেনা প্রধান, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক এর স্ত্রী। তাকে বিদেশে চিকিৎসা করাতে দিচ্ছে না।
বিদেশে চিকিৎসা করাতে দিলে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তার মানে তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার ভয় পায়। আমাদের বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে শেখ হাসিনার সরকার ভয় পায়।
তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে দেশে আসতে বাধাগ্রস্ত করছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটা শ্লোগান দিয়েছিলেন যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ যদি তুমি রুখে দাড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ। রহমান আরেকটি কথা শ্লোগান দিয়েছেন দেশ চলবে কোন পথে ফয়সালা হবে রাজপথে। আর একটি শ্লেগান দিয়েছে তারেক রহমান হঠাও মাফিয়া, টেক বেগ বাংলাদেশ।
আমান উল্লাহ আমান নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে বলেন, এই যে নির্বাচন কমিটি করল এদের কি কোন ক্ষমতা আছে। শেখ হাসিনা যাই বলবে তারা তাই করবে। কতটা ঠিক কিনা বলুন। এটা কোনো নির্বাচন কমিশন না এটা হল একটি নাটক। এই নাটক সাজিয়ে শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় আসছে চায়। সেই সুযোগ আর দেওয়া হবে না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি’র সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্যে রাখেন বিএনপির সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আব্দুস সালাম আজাদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন বিএনপির সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো, কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ।
এছাড়াও বক্তব্যে রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ- সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবদুল হাই রাজু, লুৎফর রহমারন আব্দু, সদস্য মাশুকুল ইসলাম রাজিব
রুহুল আমিন শিকদার, ইউসুফ আলী ভূইয়া, জুয়েল আহম্মেদ, জেলা যুবদলের সভাপতি শহিদুর রহমান টিটু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি, জেলা স্বেচ্ছসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার সাদাদ সায়েম, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মন্টু মেম্বার, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রহিমা শরীফ মায়া প্রমুখ।


