Logo
Logo
×

রাজনীতি

আইভীকে নিয়েই শামীমের রাজনীতি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২২, ০৬:১৪ পিএম

আইভীকে নিয়েই শামীমের রাজনীতি
Swapno

# হত্যাকাণ্ডের মাস মার্চে নারায়ণগঞ্জবাসীর দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর জন্যই এসব বলা হচ্ছে : মেয়র আইভী  

 

এমপি শামীম ওসমানের রাজনৈতিক প্রভাব ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। গত কয়েকবছর ধরে এই ধারা ক্রমাগর অবনমনের দিকে। যখনই তিনি কোন বক্তব্য দেন সেটি নিজ দলের নেত্রী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ঘিরেই।

 

দোষারোপের রাজনীতির দরুণ তাঁর রাজনীতির উন্নয়নের গ্রাফটা ক্রমেই নিচের দিকে যাচ্ছে। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা আর বিচক্ষণতার দরুণ আইভী যেখানে সবজায়গায় নিজের গুরুত্ব আদায় করে নিয়েছেন সেখানে শামীম ওসমান যেন হাঁটছেন উল্টোদিকে।


সূত্র বলছে, সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের বেশ আগে থেকেই কখনো প্রত্যক্ষ আবার কখনোবা পরোক্ষভাবে আইভী কিংবা সিটি করপোরেশনের সমালোচনা করে আসছেন শামীম ওসমান। কখনো কবর ইস্যু নিয়ে, আবার কখনো হকার ইস্যু নিয়ে আবার কখনো দেবোত্তর সম্পত্তির ইস্যু নিয়ে আবার কখনোবা আইভীর পৈত্রিক বাড়ি নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন শামীম ওসমান।

 

কিন্তু এতো কিছুর পরও আইভী রয়েছেন তার স্বমহিমায়। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়াও যেমন ঠেকানো যায়নি। আবার আইভীর জয়রথকেও থামানো যায়নি। এতোকিছুর পরও এখনও আগের মতোই আইভী এবং সিটি করপোরেশনের সমালোচনা মুখর রয়েছেন এমপি শামীম ওসমান। গতকাল সরকারি তোলারাম কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানেও আইভী ও সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ক্ষেপিয়ে তোলার মতো বক্তব্য দিয়েছেন এমপি শামীম ওসমান।

 

তিনি আইভী ও সিটি করপোরেশনের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘চারিদিকে নাটক দেখি। চারদিকে সবকিছু ধান্দা হয়ে গেছে, রাজনীতিটা এখন ব্যবসা হয়ে গেছে। শত কোটি টাকার বাড়ি বানাই আর ইনকাম ট্যাক্সের ফাইলে দশ লাখ টাকাও নাই। এনবিআর কী করে বুঝি না। দুদক নামে কোন বস্তু আছে তাও চিনি না।

 

বাংলাদেশের সকল নীতিবান লোক সেখানে বসে। ভালো ভালো লোক সেইখানে বসা কিন্তু তদন্ত তো দেখি না। তারা কি তদন্ত করে তাও বুঝি না। সামনে খুব কঠিন সময় আসতেছে। এসময় ছাত্র সমাজকে সজাগ থাকতে হবে। মুখ খুলতে চাই না। সময় হলে মুখ খুলবো। তিনি বলেন, রাজনীতিতে এখন সত্যের চেয়ে অসত্যের দাপট বেশি।

 

সেই সাথে ধান্ধামি বেশি। ভালোর চেয়ে ভন্ডামি বেশি। এই ভন্ডামিদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। নবীন বরণ হলো আনন্দের দিন। এই দিনে আমি কঠোর কথা বলে তোমাদের চিন্তায় ফেলতে চাই না। মিথ্যা আশ্বাস দিতে চাই না। এমপি শামীম ওসমান বলেন, ‘যেই জায়গায় তোলারাম কলেজের দশ তলা ভবন করার কথা সেই জায়গায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন দখল করে নিয়ে পানির মোটর লাগাইতে চায়।

 

এখন পানির মোটর লাগাইতে দেবো নাকি দশতলা ভবন করবো? ফিস ফিস করে কথা বললে হবে না। তিনি বলেন,নারায়ণগঞ্জের মানচিত্র এই তোলারাম কলেজের ছাত্ররাই বদলে দিতে পারে। দুই টাকা দামের কোন পত্রিকায় লেখালেখি করে চরিত্র হরণ করে অন্যকে থামাতে পারবেন। কিন্তু আমাদের মত ছাত্র সমাজকে থামাতে পারবেন না। তোলারাম কলেজের মাটির মধ্যে অনেক রক্ত আছে।

 

এই রক্ত কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠ রোধ করার মতো শক্তি কারও আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। অন্যায়ভাবে কোন ছাত্র বা ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিকে আঘাত দিলে আমরা নারায়ণগঞ্জের মাটিতে চারা কাঁপায়ে দিছি। আপনাদের কাছ থেকেও এই আচরণ আশা করি। আমি রাস্তায় নামতে চাই। ভালোর জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আমি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কলেজে যাবো। আমি একটা টিম বানিয়ে কাজ করবো।’


তবে এমপি শামীম ওসমানের এমন বক্তব্য আদতে মোটেও সত্য নয় বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভী। তিনি বলেন, ‘তোলারাম কলেজের ওখানে যে পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে, ওটা আগেই পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে মোটর লাগানোর পরিকল্পনা বাদ দিয়ে তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ বেলা রানি সিংহের সাথে কথা বলে গলাচিপায় মোটর লাগানো হয়েছে।

 

তোলারাম কলেজের যে জায়গার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে কোন কিছুর করার পরিকল্পনা সিটি করপোরেশনের নেই। ওয়াসার জায়গা হলেও যেহুতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জায়গাটি নিয়েছে তাতে সিটি করপোরেশনের কোন আপত্তি নেই। তিনি বলেন, শামীম ওসমান কেন এই কথাটি বলল তা তাঁর বোধগম্য হচ্ছেনা। মেয়র বলেন, তার ধারণা, মার্চ মাসে হত্যাকাণ্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী সোচ্চার, এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্যই তিনি এই কথা বলেেেছন।’


এদিকে শামীম ওসমান কারণে অকারণে মেয়র ও সিটি করপোরেশনকে নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় বিরক্ত নারায়ণগঞ্জবাসী। সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও আইভীকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় নেতারাসহ নারায়ণগঞ্জবাসী শামীম ওসমানের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন।

 

শেষে দলের চাপে পড়ে শামীম ওসমান সংবাদ সম্মেলন করলেও তার তুচ্ছতাচ্ছিল্যের বক্তব্যে আবারো সমালোচনার মুখে পড়েন শামীম ওসমান। কেন্দ্রীয় নেতারা দলের সর্বোচ্চ নেতাদের সাথে পরামর্শ করে শামীম ওসমানের আজ্ঞাবহন মহানগর ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগের কমিটি ভেঙে দেন। এছাড়া মহানগরের দুজন নেতাকেও বহিঃষ্কার করা হয়।

 

নির্বাচনে আইভীর দৌর্দণ্ড জয়ের পর  কেন্দ্রীয় নেতাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বাধভাঙা উচ্ছাস প্রকাশ করলেও শামীম ওসমান ও তার অনুসারীরা নীরব ভূমিকা পালন করেন। নির্বাচনের পর ত্বকী হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিয়ে আবারো নারায়ণগঞ্জ শহর উত্তপ্ত করেন শামীম ওসমান। দ্বিতীয় দফায় নমপার্কে একই বিষয়ে বক্তব্য দেন শামীম ওসমান।

 

এর একদিন পরেই স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় হামলার ঘটনা ঘটলে শহরে উত্তেজনা তৈরি হয়। গতকাল আবারো আইভী ও সিটি করপোরেশনকে নিয়ে দেয়া বক্তব্যে আবারো পুরনো কর্মকাণ্ডেরই পুনরাবৃত্তি করেছেন শামীম ওসমান মন্তব্য নগরবাসীর।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন