# গত কয়েকবছরেও এমন বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে অবশেষে রাজপথে নামল নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ তিন বছর মধ্যে জনদাবিতে এতো বড় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপি'র বিক্ষোভ সমাবেশ শহরের চাষাঢ়ার বুকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। দীর্ঘ বিরতির পর শহরে বিএনপির বিক্ষোভ-সমাবেশকে ঘিরে বিএনপির অঙ্গসংগঠন গুলোর হাজার হাজার নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল সমাবেশ স্থল। বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদে জনদাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে উজ্জীবিত হয়ে ঘুমিয়ে থাকা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি অবশেষে আবারও জেগে উঠেছে।
সূত্রে জানাযায়, দীর্ঘ ৩বছর যাবৎ করোনা মহামারী আসার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তেমন কোনো বড় ধরের কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। করোনা মহামারী আসার পর রীতিমত সভা- সমাবেশ নিষিদ্ধ ছিলো। এর ফলে কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচি দায়সারা ভাবেই পালন করে আসছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তখন প্রত্যেকটা কর্মসূচি প্রশাসনের ভয় আতঙ্ক করত বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে। কারণ হামলা-মামলা জর্জরিত ছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাকর্মীরা। নতুন করে মামলার ভয়ে রাজপথে তেমন সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাকর্মীরা। আর কেন্দ্রীয় কর্মসূচি আসলে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নেতাদের দেখানো কর্মসূচি পালন করতেন তারা।
কখনো নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের পিছনে, কখনো রেলস্টেশন কখনো আবার বাসস্ট্যান্ডে কর্মসূচি পালন করতে দেখা গিয়েছিল বিএনপি নেতাকর্মীদের। দায়সারাভাবে ফটোসেশনের মতন কর্মসূচি পালন করতেন তারা। তবে এবার জনদাবি দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতি প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা ফটোসেশনের রাজনীতিতে ছিলেন না।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জনদাবিতে নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এবার প্রকাশ্যে বিক্ষোভ সমাবেশ করে নিজেদের জানান দিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি যে আমরা এখনো জেগে আছি। জনদাবির সেই বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও আসেন এবং বক্তব্যে দিয়েছেন।
জানাগেছে, গত ২মার্চ চাষাঢ়া শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অথিতি বিএনপির চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমান উল্লাহ আমান যতদিন না পর্যন্ত এই অবৈধ সরকারকে হঠাতে না পারব ততদিন পর্যন্ত ঘরে ফিরবো না বলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতাকর্মীদের শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে বলেন, আগামী দিনের যে কর্মসূচি আসবে সেই কর্মসূচি আপনারা রাজপথে থেকে নিজেদের গায়ে’র রক্ত দিতে প্রস্তুত আছে কিনা।
তাহলে আজকে নারায়ণগঞ্জের এই শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে আমার সাথে সবাই শপথ পাঠ করতে রাজি আছেন কিনা বলেন। আজকে যারা নেতাকর্মী আছেন সবাই সামনে এসে দুই হাত তুলে আমার সাথে শপথ করুন। যতদিন না পর্যন্ত এই স্বৈরাচারী সরকারকে হঠাতে পারব ততদিন বাড়ি ফিরে যাবেন না। গণতন্ত্র পুনঃউদ্ধারের জন্যে, সেখানে প্রয়োজনে আমরা শহীদ হবো। তারপরেও গণতন্ত্র পুনরায় উদ্ধার করবো।
সেখানে আমান উল্লাহ আমান বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলো ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে, এখন সেই চাল ৮০ টাকা কেজি। বলেছিল ঘরে ঘরে চাকরি দিবে, এখন কোথায় সেই চাকরি। অথাৎ যা বলে, তা করে না।
উল্টো বর্তমানে চালের দাম বাড়িয়েছে, তেলের দাম বেড়েছে, গ্যাসের দাম বেড়েছে, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে এবং কী পানির দামও বাড়িয়েছে। নারায়ণগঞ্জবাসী অত্যান্ত সচেতন এবং সৌভাগ্যবান, আপনারা এই মাটিতে সব সময়ই যে কোন পরিস্থিতিতে আন্দোলন সংগ্রামে অবধান রেখেছেন।
এদিকে গত ২৮ফেব্রুয়ারী চাষাঢ়া শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর ( অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, শুধু বক্তব্য দিয়ে এই সরকারের পতন হবে না, দূর্নীতি বন্ধ হবে না, আর দ্রব্য মূল্যও কমে যাবে না। গত কয়েক বছর যাবত অনেক বক্তব্য দিয়েছি। দ্রব্যমূল্য যদি কমাতে হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক দুর্নীতি শেষ করতে হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলের সাথে সাথে সাধারণ মানুষকেও রাজপথে নেমে আসতে হবে।
মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘এখানে এসে আমার মুক্তিযুদ্ধ কালিন সময়ের কথা মনে পড়ে গেছে। পাকিস্তানি মিলিটারি ছিল, ভয়ঙ্কর একটি বাহিনী। তারা অত্যাচার, নির্যাতন করে এদেশে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। তখন মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আমরা সেই বাহিনীকে মোকাবেলা করতে গ্রামে-গঞ্জে, নগরে-বন্দরে নেমেছিলাম।
আমার নেতৃত্বে ৮‘শ সৈনিক ছিল, তাদের বেশির ভাগ যুবক, এখানে এসেও দেখছি সেই যুবকদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। আমি তোমাদের মাঝে ৭১ সালের সেই সাহসী যোদ্ধাদের দেখতে পাই। কিন্তু তখনই আশাহত হই
যখন দেখি তোমরা দেশকে নিয়ে চিন্তা না করে শুধু মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকো। তোমরা (যুবকরা) যদি একবার রাজপথে নেমে যাও, তাহলে আগামী নির্বাচন তো-দূরের কথা, এই বছরই নেতৃত্বে থাকতে পারবে না আওয়ামী লীগ সরকার। তাই আমি এদেশের ছাত্র ও যুব সমাজের প্রতি তাকিয়ে থাকলাম।


