Logo
Logo
×

রাজনীতি

শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কোন্দল-বিভাজনের অবসান চায় তৃণমূল

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২২, ০৭:০৮ পিএম

শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কোন্দল-বিভাজনের অবসান চায় তৃণমূল
Swapno

বিএনপির ক্ষমতায় নেই দীর্ঘ এক যুগের বেশিদিন ধরে। বিএনপি ক্ষমতায় না থাকলেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতার মধ্যে কোন্দল ও বিভাজন রয়েছে চরম পর্যায়ে। শুধু তাই না নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বেশ কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠন গুলোতে দীর্ঘ দিন যাবত কোন্দল ও বিভাজন চলছে।

 

এসব কারনে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টিসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল। অবশেষে জনদাবির ইস্যুতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বেগতির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এক কাতারে আসার লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

 

এতে করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে ঐক্যের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। তবে এই ঐক্যের সুবাতাস কতদিন থাকে এটাই দেখার বিষয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সূত্রমতে জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠন গুলোতে দীর্ঘ দিন যাবত বিভাজন চলছে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সেই বিভাজন শুধু নারায়ণগঞ্জই না কেন্দ্রীয় নেতারাও পর্যন্ত জানেন।

 

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বেশ কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বিএনপির বহিস্কৃত নেতা এড. তৈমূর আলস খন্দকার গ্রুপ, বিএনপির নিবার্হী কমিটির সহ- আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ গ্রুপ, বিএনপির নিবার্হী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি মুহাম্মাদ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ গ্রুপ

 

বিএনপির নিবার্হী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, বিএনপির নিবার্হী কমিটির সদস্য ও মাহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি এড. আবুল কালাম গ্রুপ, বিএনপির নিবার্হী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান গ্রুপ ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ- সভাপতি এড.সাখাওয়াত হোসেন খান গ্রুপে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি বিভক্ত।

 

কিন্তু এই গ্রুপের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ অনেক বছর ধরেই নিজেদের মধ্যে কোন্দল ও বিভাজন দৃর্শমান লক্ষণ করা গেছে। কেউ কেউ কারো ছায়াও পারা দিতো না। কারন কেউ কারো থেকে ছোট নেতা নয় বলে নিজেদের মনে করার কারনেই তাদের মধ্যে বিভিন্ন গ্রুপের দৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির প্রতিটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি তারা নিজেদের ব্যানারে নিজস্ব নেতাকর্মী দিয়ে পালন করছেন। প্রতিটি কর্মসূচি ছিলো নিজের অস্থিত্ব রক্ষার মতো।

 

তবে আবার আর বিভাজন নয় জাতীয় ইস্যুতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বেগতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহাগর বিএনপির নেতাকর্মীদের একসাথে একমঞ্চে দেখা গেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৃথক পৃথক ভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি করলেও সেই কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ ছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।

 

তবে শীর্ষ কয়েকজন নেতারা না আসলেও তাদের অনুসারীরা ঠিক তাদের পক্ষে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। এতে করে বিএনপির তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে ঐক্যের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।এদিকে নারায়নগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কোন্দল ও বিভাজন এই অবস্থার অবসান চায় তৃনমূল নেতাকর্মীরা।

 

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সিনিয়র নেতারা নিজেদের মধ্যে কোন্দল ও বিভাজন ভুলে যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে থাকে তালে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির যেকোনো কর্মসূচি পালন করা সম্ভব। আর রাজপথের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ ভাবে মাঠে নামলে বিএনপি সাধারণ মানুষের সহানুভতি যেমন পাবে তেমনই সরকারি দলের মোকাবেলায় আগামীতে মাঠ গরম রাখতে পারবে।

 

আলাদা ভাবে মাঠে কর্মসূচি পালন করে  করে নিজেদের মধ্যে বিভাজন না করে দলের স্বার্থে একসাথে সকল কর্মসূচি পালন করতে হবে। তাদের বক্তব্য রাজনীতিকে রাজনৈতিক ভাবেই মোকাবেলা করতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতার বক্তব্য ব্যক্তিগত ইগু আর পদ পদবী হারানোর ভয়ে নেতারা অনৈক্য জিয়িয়ে রেখেছে।

 

এ অবস্থার অবসান চায় বিএনপির কর্মী সমর্থকরা। এক্ষেত্রে যারা ঐক্যে বাধা হয়ে দাঁড়াবে তারা বিএনপির রাজনীতি থেকে ঝড়ে পড়বে বলে মন্তব্য করে বলেন, পুলিশের বাধা অতিক্রম করে আমরা রাজপথ দখলে নিতে চাই। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের চাইতে সমর্থকদের সংখ্যা যে অনেক বেশী তা আগামীতে রাজপথেই প্রমান করতে চায় বিএনপির মাঠ পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মীরা।

 

সূত্রে আর জানায়, বিএনপির নেতাদের অনৈক্যের কারণে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে দাঁড়াতে পারেনি মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা মনে করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিরস সকল রাজনৈতিক নেতা যদি নিজেদের মধ্যে বিভাজন ভুলে এক কাতারে আসতে পারে তবে ক্ষমতাসীন দলকে মোকাবেলা করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 

রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে পুলিশের হামলা মামলার ভয়ে রাজপথ না ছেড়ে নেতারা মাঠে নামলে কর্মীরাও মাঠে নামবে এমনটাই আশা মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন