Logo
Logo
×

রাজনীতি

রাজনীতিতে তৈলমর্দন অনেক বেড়ে গেছে : শামীম ওসমান

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২২, ০৬:৫০ পিএম

রাজনীতিতে তৈলমর্দন অনেক বেড়ে গেছে : শামীম ওসমান
Swapno

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেন, আজকে আমরা স্বীকার করছি যে, বঙ্গবন্ধু এটা করেছেন সেটা করেছেন অনেক বড় ধরণের ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই লোকটাকে (বঙ্গবন্ধুকে) সাড়ে তিন বছর পর মারলাম কেন?

 

আমরা যদি এত প্রতিবাদই করি তাহলে তাকে মারার পর এত প্রতিবাদ করলাম না কেন? মারলটা কে? এর সাথে দেশি ও বিদেশী শক্তিসহ অনেকেই জড়িত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু দরজাটা খুলে দিল কে? আমার ভয়টা লাগে ঐখানেই।

 

রেল লাইন যেমন সমান্তরালে চলে, তেমনি একইভাবে একদিকে আদর্শবান চলে সাথে সাথে আরেকটা রেল লাইনের মাথায় কিন্তু বেঈমানরাও চলে। তারা আদর্শহীন, মুখোশধারী। এই মুখোশধারীরা এখন এত বেড়ে গেছে, ভরে গেছে। আমার মনে হয় যারা স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি তারা ’৭৫ এর পর থেকে এখন আর কেউ তাদের সন্তানদের নাম খন্দকার মোস্তাক রাখে না।

 

কিন্তু এটা সত্যি যে, খন্দকার মোস্তাক পিছনের দরজা খুলে দেওয়ার কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে প্রাণ দিতে হয়েছে এবং তার সমস্ত পরিবারকে নির্মম নৃশংস ও জঘন্যভাবে পৃথিবীর ইতিহাসে হত্যা করা হয়েছে, আমরা কলঙ্কিত হয়েছি। কারণ আমরা আমাদের জাতির পিতা ও তার বংশধরসহ সবাইকে মেরে ফেলেছি। দু’বোন বেঁচে গেছেন, ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন।

 

আল্লাহর হুকুম ছিল, দেশের বাইরে ছিলেন এই কারণে বেঁচে গেছেন। কিন্তু দেশে ফিরতে পারেননি। তবে এটাও ঠিক আমরা যারা সারাক্ষণ তৈলমর্দন করি। রাজনীতিতে তৈলমর্দন এত বেড়ে গেছে, কিন্তু সেই দিন বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর এই শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা কোথাও থাকার জায়গা পান নাই। বিদেশের মাটিতে কেউ তাদের বলেননি যে, আপনি আমার এখানে থাকেন।

 

তখন আমাদের স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী মনে হয় কিছু একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। আমি ভয় পাই এ কারণে, চারদিকে এখন যেখানেই তাকাই, আমি দেখি সবাই আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ নেই।

 

তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আমাদের সবাইকে এক হওয়ার সময় এসেছে। অন্তত পক্ষে যারা হাইব্রীড না কিংবা মোস্তাকের বংশধর না। মুখে মুখে অনেক কথা বলা যায়, জয়বাংলা বলে জীবন দিয়েই দেয়া যায়। কিন্তু সময় মতো রাস্তায় নামবেন কি না সেটা দেখার বিষয়। আমাদের জেনারেশনের মানুষ হৃদয় থেকে রাজনীতি করেছে।

 

আমরা বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশে রাজনীতি করতে এসেছি, তখন নেত্রীও আসেন নাই, আবেগ দিয়েছি। আজকের জেনারেশন শুধু আবেগ দিয়ে রাজনীতি করে না, মেধা দিয়েও করে। তার দেখে আসলে কি হচ্ছে। তারা দেখে অবাক হয়, বিস্মিত হয় যে এই ভদ্রলোক বা ভদ্রমহিলা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন, কিন্তু দেখা যায়, বাংলাদেশের যারা দুর্নীতি দমনের সংস্থায় আছেন, বাংলদেশের সবচেয়ে ভাল মানুষগুলো

 

সৎ মানুষগুলো (আমার জানা মতে) তারা আজকের দিনে বসে আছেন। কিন্তু আমরা দেখছি যে, ইনকাম টেক্সের ফাইলে দশ লাখ টাকাও নাই। কিন্তু আমার শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি আছে। এই প্রশ্ন কিন্তু আজকে না হলেও কালকে উত্থাপিত হবে।

 

মানুষ উন্নয়নের চিত্র দেখতে চায়, তবে মানুষ যেটা সবচেয়ে বেশি দেখতে চায়, সেটা হলো মানুষের নিরাপত্তা এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামীম বেপারী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমির খসরু প্রমুখ।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন